প্রথমবারের মতো পশ্চিম তীরের বসতিতে পাসপোর্ট সেবা চালুর ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের
চলতি সপ্তাহে ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের দখলকৃত পশ্চিম তীরের একটি বসতিতে পাসপোর্ট সেবা প্রদান করবে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তারা মঙ্গলবার জানিয়েছেন, প্রথমবারের মতো কনস্যুলার কর্মকর্তারা সরাসরি ওই অঞ্চলের বসতি স্থাপনকারীদের সেবা দেবেন।
আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে, বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ পশ্চিম তীরের বসতিগুলোকে অবৈধ মনে করে। তবে ইসরায়েল এই দাবি মানে না এবং দেশটির অনেক ডানপন্থী নেতা পশ্চিম তীরকে সম্পূর্ণভাবে অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে।
গাজা ও পূর্ব জেরুজালেমের পাশাপাশি পশ্চিম তীরকে নিয়েও ফিলিস্তিনিরা দীর্ঘদিন ধরে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখছে।
চলতি মাসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থী মন্ত্রিসভা এমন কিছু পদক্ষেপ অনুমোদন দিয়েছে, যা বসতি স্থাপনকারীদের জন্য ফিলিস্তিনিদের জমি দখল করা আরও সহজ করে দিয়েছে।
ইসরায়েলের কট্টর সমর্থক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি পশ্চিম তীর দখলের বিরোধী। তবে তার প্রশাসন বসতি স্থাপন কার্যক্রম বন্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। অধিকার গোষ্ঠীগুলো বলছে, গত বছর তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এই কার্যক্রম আরও বেড়েছে।
জেরুজালেমের মার্কিন দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছে, বিদেশে অবস্থানরত সব আমেরিকানদের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়ার অংশ হিসেবে 'শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ইফ্রাতে কনস্যুলার কর্মকর্তারা নিয়মিত পাসপোর্ট সেবা প্রদান করবেন।' ইফ্রাত হলো ফিলিস্তিনি শহর বেথলেহেমের দক্ষিণে অবস্থিত একটি বসতি।
দূতাবাস জানিয়েছে, তারা ফিলিস্তিনি অধ্যুষিত পশ্চিম তীরের শহর রামাল্লা, বেথলেহেমের কাছে বেইতার ইলিত বসতি এবং ইসরায়েলের হাইফা শহরেও একই ধরনের সেবা চালুর পরিকল্পনা করছে।
যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত জেরুজালেমে তাদের দূতাবাস এবং তেল আবিবের শাখা অফিসে পাসপোর্ট ও কনস্যুলার সেবা দিয়ে থাকে। ধারণা করা হয়, পশ্চিম তীরে হাজার হাজার আমেরিকান-ইসরায়েলি দ্বৈত নাগরিক বসবাস করছেন।
মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলে দূতাবাসের একজন মুখপাত্র বলেন, 'এই প্রথমবারের মতো আমরা পশ্চিম তীরের কোনো বসতিতে কনস্যুলার সেবা প্রদান করছি।' তিনি জানান, পশ্চিম তীরে বসবাসরত আমেরিকান-ফিলিস্তিনি দ্বৈত নাগরিকদেরও একই ধরনের সেবা দেওয়া হচ্ছে।
গত সপ্তাহে ইসরায়েলের মন্ত্রিসভা পশ্চিম তীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার এবং বসতি স্থাপনকারীদের জন্য জমি কেনা সহজ করার ব্যবস্থা অনুমোদন করেছে। ফিলিস্তিনিরা এই পদক্ষেপকে 'ডি ফ্যাক্টো' বা কার্যত দখলদারিত্ব হিসেবে দেখছে।
পশ্চিম তীরের বেশিরভাগ অংশই ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণের অধীনে রয়েছে। তবে কিছু এলাকায় পশ্চিমা সমর্থিত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সীমিত নিয়ন্ত্রণে ফিলিস্তিনিরা নিজস্ব শাসন ব্যবস্থা চালু রেখেছে।
নেতানিয়াহুর ক্ষমতাসীন জোটের বড় একটি ভোট ব্যাংক এই বসতিগুলোতে রয়েছে। জোটের অনেক সদস্য চান, ইসরায়েল পশ্চিম তীরকে নিজেদের অংশ করে নিক। ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে ইসরায়েল এই ভূখণ্ড দখল করেছিল এবং তারা এর সঙ্গে বাইবেল ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক থাকার দাবি করে।
শুক্রবার আমেরিকান কনস্যুলার কর্মকর্তারা যে ইহুদি বসতি 'ইফ্রাত'-এ পাসপোর্ট সেবা দেবেন, সেখানে অনেক আমেরিকান অভিবাসী বাস করেন। তবে সেখানে কতজন আমেরিকান বসবাস করছেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।
পশ্চিম তীরে ৩০ লাখ ফিলিস্তিনি ও ৫ লাখেরও বেশি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী বসবাস করেন। অধিকাংশ বসতিই বেড়া দিয়ে ঘেরা ছোট শহরের মতো, যেখানে ইসরায়েলি সেনারা পাহারা দিয়ে থাকেন।
