ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক অবৈধ, রায় মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত বৈশ্বিক শুল্কনীতিকে অবৈধ বলে রায় দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ আদালত।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া এ রায়ে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক শুল্ক আরোপ করে ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করেছেন।
এ রায়কে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে সুপ্রিম কোর্টে প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরাজয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গত বছর অভিবাসন, স্বাধীন সংস্থাগুলোর প্রধানদের অপসারণ এবং সরকারি ব্যয়ে বড় কাটছাঁটসংক্রান্ত একাধিক জরুরি আবেদনে আদালত প্রেসিডেন্টের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছিলেন।
প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ৬-৩ ভোটে এই রায় দেন। রায়ে বলা হয়েছে, আরোপিত শুল্ক আইনের সীমা অতিক্রম করেছে।
তবে ইতোমধ্যে আদায় করা ১৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি শুল্কের অর্থের কী হবে, সে বিষয়ে আদালত কোনো নির্দেশনা দেননি।
বিচারপতি রবার্টস তার পর্যবেক্ষণে বলেছেন, 'প্রেসিডেন্ট এমন এক অসাধারণ ক্ষমতার দাবি করেছেন, যার মাধ্যমে তিনি একতরফাভাবে সীমাহীন পরিমাণে, অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য এবং ব্যাপক পরিসরে শুল্ক আরোপ করতে পারেন। এমন ক্ষমতার ব্যাপ্তি, ইতিহাস ও সাংবিধানিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় তা প্রয়োগের জন্য তাকে কংগ্রেসের সুস্পষ্ট অনুমোদন দেখাতে হবে।'
আদালত জানান, যে জরুরি ক্ষমতার ওপর ভর করে ট্রাম্প শুল্ক আরোপের চেষ্টা করেছিলেন, তা 'যথেষ্ট নয়'।
বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেট ও নিল গোরসাচ প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস এবং তিনজন উদারপন্থী বিচারপতির সঙ্গে একমত হয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের পক্ষে অবস্থান নেন। অন্যদিকে বিচারপতি ক্লারেন্স থমাস, স্যামুয়েল আলিটো ও ব্রেট ক্যাভানফ ভিন্নমত পোষণ করেন।
রবার্টস তার পর্যবেক্ষণে 'বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে প্রেসিডেন্টের শুল্ক ব্যবহারের ক্ষমতা রয়েছে'- প্রশাসনের এ যুক্তি নাকচ করেন।
রবার্টস লেখেন, 'কংগ্রেস শুল্ক আরোপের ক্ষমতা স্পষ্টভাবে এবং সতর্ক সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে দেয়। এখানে তা করা হয়নি।'
ইতোমধ্যে আদায় করা অর্থ ফেরতের ব্যাপারে নেই সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা
ইতোমধ্যে যে অর্থ শুল্ক হিসেবে আদায় করা হয়েছে, তা ফেরত দেওয়া হবে কি না বা হলে কীভাবে দেওয়া হবে—সে বিষয়ে আদালত কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা দেননি।
যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের তথ্য এবং সংস্থাটির যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতে দাখিল করা সাম্প্রতিক নথি অনুযায়ী, ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিতর্কিত এসব শুল্ক থেকে ফেডারেল সরকার ৩ লাখ ১ হাজারের বেশি আমদানিকারকের কাছ থেকে মোট ১৩৪ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আদায় করেছে।
এ অর্থ ফেরত দেওয়া হবে কি না এবং দেওয়া হলে কীভাবে ফেরত দেওয়া হবে—এ প্রশ্নের নিষ্পত্তি নিম্ন আদালতে হতে পারে।
ট্রাম্পের সবচেয়ে বিস্তৃত শুল্ক নীতি অবৈধ ঘোষণার অর্থ এই নয় যে শুল্কের জমানা শেষ হয়ে যাচ্ছে; বরং একে এক নতুন অধ্যায়ের শুরু বলা যেতে পারে। ট্রাম্পও শুক্রবার ইঙ্গিত দিয়েছেন, তার কাছে 'ব্যাকআপ প্ল্যান' তৈরি আছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে শুল্কারোপের আরও অনেক পথ খোলা আছে। যদিও সেগুলোর ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
তবে ট্রাম্প প্রশাসন এখন আমদানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপের জন্য সরাসরি শুল্কের বাইরে সৃজনশীল কোনো পথ খুঁজতে পারে। যেমন, আমদানি লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়াকে আরও কঠোর বা সীমিত করার মতো পদক্ষেপ তারা নিতে পারে।
ট্যারিফ বাতিল হলে চুক্তি অনুমোদন করা থেকে বিরত থাকার সুযোগ পাবে বাংলাদেশ
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডাব্লিউটিও সেলের সাবেক মহাপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্যারিফ বাতিল করার রায় দিলে তা খুবই ভালো সংবাদ। আমরা চুক্তি করলেও তা এখনো কার্যকর হয়নি। দুই দেশ চুক্তি রেটিফাই (অনুমোদন) করার পর এটি কার্যকর হবে। ট্যারিফ বাতিল হলে বাংলাদেশ চুক্তি রেটিফাই করা থেকে বিরত থাকার সুযোগ পাবে।
