স্টারলিংক সেবা বন্ধ; যুদ্ধে যোগাযোগ রাখতে বিকল্প হিসেবে বেলুনে ফাইভ-জি টার্মিনাল বসাচ্ছে রাশিয়া
ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখসারিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে এত দিন ইলন মাস্কের স্টারলিংকের ওপর অনেকটাই নির্ভর করত রুশ বাহিনী। কিন্তু গত মাসে সেই সুবিধা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের বিপাকে পড়েছে তারা। এই সংকট কাটাতে এবার 'বারাজ-১' নামের একটি বিশেষ বেলুন বা স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারিক প্ল্যাটফর্ম নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেছে রাশিয়া।
২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেন সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে স্টারলিংক কর্তৃপক্ষ রুশ সেনাবাহিনীর ডিজিটাল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এতে রুশ সেনাদের তথ্য আদান-প্রদান এবং ওপরমহলের নির্দেশনার কাজ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়। দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থার খোঁজে নামে রাশিয়া। এরই ফল হিসেবে সামনে এসেছে স্বল্পমেয়াদি সমাধান 'বারাজ-১'।
কী এই বারাজ-১?
রুশ সংবাদমাধ্যমে বারাজ-১–কে 'মানবহীন স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারিক প্ল্যাটফর্ম' বলা হলেও সহজ কথায় এটি একটি উচ্চ প্রযুক্তির বেলুন। এটি মাটি থেকে ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার উঁচুতে উড়তে সক্ষম এবং ১০০ কেজি পর্যন্ত ওজন বহন করতে পারে।
সাধারণ বেলুনের সঙ্গে এর মূল পার্থক্য হলো, এতে বিশেষ বায়ুচাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (নিউম্যাটিক ব্যালাস্ট সিস্টেম) রয়েছে। এর মাধ্যমে এটি নিজের উচ্চতা পরিবর্তন করতে পারে। স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে বাতাসের বিভিন্ন স্তর ও গতিবেগ কাজে লাগিয়ে এটি নির্দিষ্ট এলাকায় অবস্থান করতে পারে বা বিশেষ কোনো গন্তব্যে ভেসে যেতে পারে। এর জন্য এতে কোনো ইঞ্জিনের প্রয়োজন হয় না।
রাশিয়ার পরিকল্পনা হলো, এই বেলুনে ফাইভ–জি (5G) টার্মিনাল বসিয়ে এটিকে আকাশে একটি ভাসমান 'রিলে স্টেশন' বা টাওয়ার হিসেবে ব্যবহার করা। অনেকটা স্টারলিংকের স্যাটেলাইটের মতোই এটি কাজ করবে। অনেক উঁচুতে থাকায় এটি বহু দূর পর্যন্ত সংকেত পাঠাতে বা গ্রহণ করতে পারবে। এর ফলে সম্মুখসারির রুশ সেনারা পেছনের বাহিনীর সঙ্গে সহজেই যোগাযোগ রক্ষা করতে পারবে এবং তথ্য আদান–প্রদান করতে পারবে।
রাশিয়ার নভগোরদভিত্তিক কোম্পানি 'অ্যারোদ্রোমমাশ' এবং বাউমান মস্কো স্টেট টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি যৌথভাবে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। এতে অর্থায়ন করেছে রাশিয়ার 'ফাউন্ডেশন ফর অ্যাডভান্সড রিসার্চ'।
স্টারলিংক সুবিধা হারানোর মাত্র এক সপ্তাহ পর, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি সোশ্যাল মিডিয়ায় বারাজ-১-এর পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। দাবি করা হচ্ছে, এটি প্রায় পুরোটাই রাশিয়ার নিজস্ব যন্ত্রাংশ ও প্রযুক্তিতে তৈরি। ফলে পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞা বা যন্ত্রপাতির অভাব এর উৎপাদন ব্যাহত করতে পারবে না। বর্তমানে এটি কয়েক দিন আকাশে ভেসে থাকতে পারলেও, ভবিষ্যতে একে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত ওড়ার উপযোগী করে তৈরির কাজ চলছে।
