এপস্টিন নথি প্রকাশে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ‘তথ্য গোপনের’ অভিযোগ হিলারি ক্লিনটনের
সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন অভিযোগ করেন, জেফ্রি এপস্টিন সংক্রান্ত লাখ লাখ নথিপত্র প্রকাশের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন 'অব্যাহতভাবে তথ্য গোপনের' চেষ্টা চালাচ্ছে।
বার্লিনে অনুষ্ঠিত এই সপ্তাহের মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে হিলারি বিবিসি-কে বলেন, 'তারা কাজটিকে অত্যন্ত ধীরগতিতে করছে, নথিতে থাকা পুরুষদের নামগুলো মুছে দিচ্ছে এবং কংগ্রেসের সদস্যদের বৈধ অনুরোধগুলোতেও তারা সহযোগিতা করছে না।'
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ মার্কিন বিচার বিভাগের এই ফাইলগুলো পরিচালনার বিষয়টি বারবার সমর্থন করেছেন। তিনি বলেন, বিভাগটি 'স্বচ্ছতার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ' এবং 'তারা কিছুই লুকিয়ে রাখছে না।'
তবে বিচার বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত নথিপত্রগুলোর সর্বশেষ ধাপে বিল ক্লিনটনের বেশ কিছু উল্লেখ পাওয়া গেছে। যা থেকে সাবেক প্রেসিডেন্টের কর্মীদের সাথে এপস্টিন ও তার দীর্ঘদিনের সহযোগী গিলেইন ম্যাক্সওয়েলের মধ্যে হওয়া কুরুচিপূর্ণ বা অশালীন যোগাযোগের বিষয়ে নতুন কিছু তথ্য সামনে এসেছে।
হিলারি ক্লিনটন বলেন, তার ও তার স্বামীর 'লুকানোর কিছুই নেই'। প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের সঙ্গে জড়িত কোনো প্রকার অনৈতিক কাজের অভিযোগ বিল ক্লিনটন বারবার অস্বীকার করেছেন।
যদিও এর আগে প্রকাশিত নথিপত্রগুলোতে এপস্টিনের সঙ্গে বিল ক্লিনটনের ছবি এবং মার্কিন বিচার বিভাগের এক কর্মকর্তার মতে এপস্টিনের যৌন নির্যাতনের শিকার এক 'ভিকটিম'-এর সঙ্গে বিলকে হট টাবে দেখা গেছে।
কয়েকমাসব্যাপী টানাপোড়েনের পর, ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে প্রতিনিধি পরিষদের এপস্টিন বিষয়ক তদন্তে ক্লিনটন দম্পতি রুদ্ধদ্বার জবানবন্দি দেওয়ার কথা রয়েছে। কংগ্রেসের সমন অমান্য করার কারণে এই দম্পতিকে 'আদালত অবমাননা'র দায়ে অভিযুক্ত করার জন্য যখন হাউজে ভোটাভুটির প্রস্তুতি চলছিল, কেবল তখনই তারা হাউজ ওভারসাইট কমিটির চেয়ারম্যানের দেওয়া শর্তাবলিতে সম্মত হন।
এই আইনি লড়াইয়ের কথা সরাসরি উল্লেখ না করেই মঙ্গলবার সম্প্রচারিত বিবিসি-র সাক্ষাৎকারে হিলারি ক্লিনটন বলেন, 'আমরা যা জানি তা বলতে পেরে অত্যন্ত খুশি, যদিও আমাদের জানাশোনা খুবই সীমিত এবং তাদের (এপস্টিন ও সহযোগীদের) আচরণ বা অপরাধের সাথে তা সম্পূর্ণভাবে সম্পর্কহীন।'
হিলারি আরও বলেন, 'আমি শুধু চাই বিষয়টি যেন ন্যায্য হয় এবং সবার সঙ্গে যেন একই রকম আচরণ করা হয়। কিন্তু আমার স্বামী এবং আমার ক্ষেত্রে সেটি ঘটছে না।' এসময় তিনি জনসমক্ষে শুনানিতে উপস্থিত হওয়ার ইচ্ছার কথা আবারও পুনর্ব্যক্ত করেন।
হিলারি ক্লিনটন বলেন, 'আমি মনে করি যাদেরই সাক্ষ্য দিতে বলা হয়েছে, তাদের প্রত্যেকেরই সাক্ষ্য দেওয়া উচিত।'
তিনি দাবি করেন, তার ও তার স্বামীর ওপর যে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে, তা মূলত প্রেসিডেন্ট (ডোনাল্ড) ট্রাম্পের ওপর থেকে 'দৃষ্টি সরানোর' জন্য প্রশাসন ব্যবহার করছে।
নথিপত্রগুলোতে ট্রাম্পের নাম এক হাজার বারের বেশি উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও শুরুতে এই ফাইলগুলো জনসমক্ষে প্রকাশের প্রচেষ্টায় তিনি বাধা দিয়েছিলেন, তবে গত বছরের শেষের দিকে তিনি নিজেই রিপাবলিকানদের ফাইলগুলো প্রকাশের পক্ষে ভোট দিতে উৎসাহিত করেন।
সোমবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, 'আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছি।' ক্লিনটন দম্পতির বিষয়ে তিনি বলেন, 'তারা এতে জড়িয়ে পড়ছে, সেটা তাদের সমস্যা। আমাদের দেখতে হবে সামনে কী ঘটে।'
প্রশাসনের যে 'লুকানোর কিছু আছে', তার একটি উদাহরণ হিসেবে হিলারি গত সপ্তাহে হাউজ জুডিশিয়ারি কমিটির সামনে অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডির দেওয়া সাক্ষ্যকে উল্লেখ করেন।
ক্লিনটন বলেন, '(বন্ডি) প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করেছেন, তিনি মূল বিষয় থেকে মনোযোগ সরিয়ে দিয়েছেন এবং তিনি সারভাইভার বা ভিকটিমদের দিকে তাকাতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।'
তার এই মন্তব্যগুলো গত ডিসেম্বরে তার স্বামীর মুখপাত্রের দেওয়া বক্তব্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সেই মুখপাত্র বিচার বিভাগকে সমস্ত ফাইল প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, 'এটি করতে অস্বীকৃতি জানালে সেই সন্দেহটিকেই বরং নিশ্চিত ধরে নেবে যে—বিচার বিভাগের এযাবৎকালের পদক্ষেপগুলো স্বচ্ছতার জন্য নয়, বরং কুৎসা রটানোর জন্য করা হচ্ছে।'
প্রকাশিত লাখ লাখ নথিপত্রে নাম এবং তথ্যের অসামঞ্জস্যপূর্ণ কাটছাঁট বা তথ্য গোপন করার কারণে বিচার বিভাগ এপস্টিনের শিকার ভুক্তভোগী ও কংগ্রেসের সদস্যদের কাছে সমালোচিত হয়েছে।
কংগ্রেসের কিছু সদস্য, যারা নথিপত্রগুলোর কাটছাঁটহীন বা মূল সংস্করণটি দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন, তারা পরবর্তীতে অভিযোগ করেন, দপ্তরটি প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সুরক্ষা দিচ্ছে। এই বিষয়টি তাদের নথিতে থাকা অতিরিক্ত নামগুলো প্রকাশ করতে এবং গত শনিবার কংগ্রেসের কাছে 'রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের' একটি তালিকা পাঠাতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
