এপস্টিন বিষয়ে ঐতিহাসিক জবানবন্দির জন্য যেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন ক্লিনটন দম্পতি
হোয়াইট হাউস ছাড়ার সিকি শতাব্দী পর, বিল এবং হিলারি ক্লিনটন হাউজ রিপাবলিকানদের সঙ্গে আরও একটি আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে চলেছেন। সাজাপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিন সংক্রান্ত একটি সংসদীয় তদন্তে তারা সাক্ষ্য দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ক্লিনটন দম্পতির জন্য এই সপ্তাহের এই জবানবন্দি একটি বিস্ময়কর পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। কয়েক মাস ধরে একে তাদের বিরুদ্ধে রিপাবলিকানদের একটি 'ষড়যন্ত্র' বলে অভিহিত করে সাক্ষ্যদান এড়িয়ে যাওয়ার তীব্র চেষ্টার পর, তারা শেষ পর্যন্ত তা মেনে নিয়েছেন। মূলত প্রতিনিধি পরিষদ যখন তাদের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের অবমাননার অভিযোগে ফৌজদারি মামলা করার জন্য একটি দ্বিপক্ষীয় ভোটের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই তারা এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন।
ক্লিনটন দম্পতির সাথে তাদের আইনজীবী ডেভিড কেন্ডাল এবং চেরিল মিলস থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে, যারা জেরার সময় কোন কোন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হতে পারে তার প্রতিটি সূক্ষ্ম বিবরণ নিয়ে কাজ করছেন। কর্মকর্তাদের মতে, তাদের এই জবানবন্দিতে ক্লিনটন টিমের আর কে কে যোগ দেবেন তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এই জবানবন্দিগুলো নিউ ইয়র্কের চ্যাপাকুয়ায় হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে ক্লিনটনরা বসবাস করেন। হিলারি ক্লিনটন বৃহস্পতিবার এবং বিল ক্লিনটন শুক্রবার উপস্থিত হবেন। একজন সাবেক প্রেসিডেন্টকে জেরার জন্য ক্যাপিটল হিলে তলব করার মতো অমর্যাদাকর এবং নজিরবিহীন পদক্ষেপ এড়ানোর আশায়—আইনজীবী কেন্ডাল এবং হাউজ ওভারসাইট কমিটির চেয়ারম্যান প্রতিনিধি জেমস কোমার এই সাক্ষ্যদানের স্থানটির বিষয়ে সমঝোতা করেছেন।
কোমার বলেন, 'কেউ ক্লিনটন দম্পতিকে কোনো অন্যায়ের জন্য অভিযুক্ত করছে না। আমাদের কেবল অনেকগুলো প্রশ্ন আছে।'
প্রস্তুতি হিসেবে ক্লিনটনরা—কখনও একসাথে, আবার কখনও আলাদাভাবে—নিজেদের গুছিয়ে নিচ্ছেন যাতে এপস্টিন যুগের স্মৃতিগুলো ঝালিয়ে নেওয়া যায়। তবে এর চেয়েও বড় উদ্দেশ্য হলো নিজেদের রক্ষা করা এবং সম্ভাব্য প্রতিকূল প্রশ্নকারীদের বিরুদ্ধে আক্রমণের পরিকল্পনা করা। রিপাবলিকানরা ক্লিনটন দম্পতিকে একটি 'প্যাকেজ ডিল' হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করলেও, তাদের আলাদা জবানবন্দি দেওয়ার বিষয়টিই কমিটির কাছে তাদের দেওয়া তথ্যের মধ্যে সম্ভাব্য বিশাল পার্থক্যের বিষয়টিকে স্পষ্ট করে তোলে।
সিএনএন-এর একটি পর্যালোচনা অনুযায়ী, বিল ক্লিনটন অন্তত ১৬ বার এপস্টিনের ব্যক্তিগত বিমানে ভ্রমণ করেছিলেন এবং মার্কিন বিচার বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত নথিতে তাকে নারীদের সঙ্গে একটি জাকুজিতে দেখা গেছে। এছাড়া তাকে এপস্টিনের সাবেক বান্ধবী এবং মানবপাচারের সহযোগী গিলেইন ম্যাক্সওয়েলের সাথেও ছবিতে দেখা গিয়েছিল। হিলারি ক্লিনটন বলেছেন যে, তিনি কখনোই এপস্টিনের সঙ্গে দেখা করেননি।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো কখনোই বিল ক্লিনটনকে এপস্টিন সংক্রান্ত কোনো অপরাধে অভিযুক্ত করেনি। তার একজন মুখপাত্র বারবার বলেছেন, ২০১৯ সালে ফেডারেল অভিযোগে এপস্টিন গ্রেপ্তার হওয়ার আগেই বিল ক্লিনটন তার সাথে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন এবং তিনি তার কোনো অপরাধ সম্পর্কে অবগত ছিলেন না।
এই প্রক্রিয়ার সাথে পরিচিত একটি সূত্রের মতে, সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং তার আইনজীবীদের সঙ্গে শুক্রবারের অধিবেশনটি বেশ দীর্ঘ হতে পারে—এমনটি মেনেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তার এই জেরা গত সপ্তাহে এপস্টিনের সহযোগী লেস ওয়েক্সনারের দেওয়া পাঁচ ঘণ্টার জবানবন্দির চেয়েও দীর্ঘ হতে পারে। বিষয়টির সাথে পরিচিত একটি সূত্র সিএনএন-কে জানিয়েছে, এই জবানবন্দিগুলো ভিডিও রেকর্ড করা হবে এবং রিপাবলিকান কমিটির কর্মীরা সাক্ষাৎকার শেষ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই সেই ভিডিও প্রকাশ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন।
চুক্তিটির সাথে পরিচিত একজন ব্যক্তি সিএনএন-কে জানিয়েছেন যে, ক্লিনটন দম্পতি এবং হাউজ ওভারসাইট কমিটির সদস্যরা জবানবন্দির জন্য পাঁচটি নির্দিষ্ট বিষয়ে একমত হয়েছেন। সেগুলো হলো:
এপস্টিন এবং ম্যাক্সওয়েলের বিরুদ্ধে ফেডারেল সরকারের তদন্তে কথিত অব্যবস্থাপনা; ২০১৯ সালে এপস্টিনের মৃত্যু এবং তার পরবর্তী তদন্তের পরিস্থিতি; যেভাবে ফেডারেল সরকার কার্যকরভাবে যৌন পাচার চক্রের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে; এপস্টিন ও ম্যাক্সওয়েল যেভাবে তাদের অবৈধ কর্মকাণ্ড রক্ষায় প্রভাব খাটানোর বা আনুকূল্য পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন; এবং নির্বাচিত কর্মকর্তাদের সাথে সম্পর্কিত নৈতিকতা বিধির সম্ভাব্য লঙ্ঘন।
এপস্টিন মামলার সারভাইভার (ভুক্তভোগী) এবং তাদের প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবীরা সিএনএন-কে বলেন, তারা বিশ্বাস করেন ক্লিনটন দম্পতির—বিশেষ করে সাবেক প্রেসিডেন্টের—সাক্ষ্য দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাক্ষাৎকারে তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে, এপস্টিন ফাইলে কোনো ব্যক্তির নাম থাকা বা কংগ্রেসের সাথে তাদের সহযোগিতা করার অর্থ এই নয় যে তারা কোনো অন্যায় বা অপরাধের সাথে যুক্ত।
তা সত্ত্বেও, বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী এবং আইনজীবী বলেন, জেফ্রি এপস্টিনের অতীত সম্পর্কে বিল ক্লিনটন যা কিছু জানেন তা আইনপ্রণেতাদের সাথে শেয়ার করা উচিত।
এপস্টিনের অসংখ্য ভুক্তভোগীর প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবী জেনিফার প্লটকিন সিএনএন-কে বলেন, 'তিনি এপস্টিনের সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি আমাদের দেশের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। আমি মনে করি ভুক্তভোগীরা সেই যোগসূত্রটি আরও ভালো করে বুঝতে চায়। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ হওয়া উচিত নয়। আপনাকে যদি একটি বৈধ সাবপিনা (আইনি তলবনামা) দেওয়া হয়, তবে আপনার উচিত তা মেনে চলা।'
বুধবার এই বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ক্লিনটন দম্পতির মুখপাত্রদের অনুরোধ করা হলেও তাঁরা কোনো সাড়া দেননি।
একটি ভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
ক্লিনটন দম্পতিকে জবানবন্দি দেওয়ার জন্য তলব করার বিষয়টিই একটি নতুন স্মারক যে, এপস্টিন উপাখ্যানটি ক্লিনটন আমলের অন্য যেকোনো কেলেঙ্কারির চেয়ে কতটা আলাদা।
শুরুতে ক্লিনটনদের আইনজীবী এবং কমিটির মধ্যে ইমেইল, চিঠি এবং ফোন কলের মাধ্যমে পর্দার আড়ালে দরকষাকষি চলছিল। ক্লিনটনরা চেয়েছিলেন এই তদন্তের অন্য সাক্ষীদের মতো তাদের সাথেও আচরণ করা হোক, যারা সশরীরে হাজির হওয়ার পরিবর্তে শপথনামাসহ লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে সাক্ষ্য দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু রিপাবলিকানরা তা মেনে নিতে রাজি হননি, যাকে ডেমোক্র্যাটরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযুক্ত করেছেন।
পরবর্তীতে ক্লিনটনরা কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কোমারের বিরুদ্ধে একটি তীব্র প্রচারণামূলক অভিযান শুরু করেন। সাবেক প্রেসিডেন্টের সরকারি দপ্তর থেকে কোমারকে লক্ষ্য করে কড়া বার্তা পাঠানো হয়। তাদের মতে, তাদের সাক্ষ্য নেওয়ার এই চেষ্টাটি ছিল একটি পক্ষপাতমূলক তৎপরতা, যার উদ্দেশ্য ছিল এপস্টিন তদন্তের কেন্দ্রবিন্দু থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম সরিয়ে নেওয়া।
ক্লিনটনদের পক্ষ থেকে পাঠানো একটি ইমেইল বার্তায় বলা হয়েছে, 'অনুশীলন মানুষকে নিখুঁত করলেও জিম কোমার ঠিকমতো মিথ্যাও বলতে পারেন না। জিম কোমারের অফিসে ফোন করুন এবং জিজ্ঞাসা করুন কেন এপস্টিন শুনানি জনসমক্ষে প্রচার না করে গোপন রাখা হচ্ছে।'
হাউজ ডেমোক্রেটিক নেতৃত্ব যা প্রত্যাশা করেনি তা হলো—তাদের নিজেদের দলেরই কিছু সদস্য ক্লিনটনদের কংগ্রেসের অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত করার প্রচেষ্টায় রিপাবলিকানদের সঙ্গে যোগ দেবেন।
ক্লিনটনদের সাথে রিপাবলিকানদের আগের যেকোনো মহাকাব্যিক আইনি লড়াইয়ের তুলনায় বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ সম্পূর্ণ ভিন্ন: যেমন হোয়াইট হাউস ইন্টার্ন মোনিকা লিউইনস্কির সাথে সম্পর্কের বিষয়ে বিল ক্লিনটনের জবানবন্দি নিয়ে ইমপিচমেন্ট, ২০১২ সালে লিবিয়ার বেনগাজিতে মার্কিন মিশনে হামলার তদন্ত, কিংবা ব্যক্তিগত ইমেইল সার্ভার ব্যবহার করে হিলারি ক্লিনটনের স্টেট ডিপার্টমেন্টের দাপ্তরিক কাজ পরিচালনার তদন্ত।
বর্তমানে অনেক ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতার কাছে ক্লিনটনদের প্রতি আনুগত্যের চেয়ে এপস্টিনের ভুক্তভোগীদের দাবি অনেক বেশি গুরুত্ব পায়। ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি রাশিদা তালিব সিএনএন-কে বলেন, 'সারভাইভার বা ভুক্তভোগীরা স্বচ্ছতা এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার যোগ্য। এপস্টিনের সাথে যুক্ত যেকোনো ব্যক্তি—তিনি যে রাজনৈতিক দলেরই হোন না কেন—যদি আমাদের তথ্য না দেন, তবে তাকে কংগ্রেস অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত করা উচিত।'
বর্তমান হাউজ ডেমোক্র্যাটদের ৪০ জনেরও বেশি সদস্য ১৯৮০ বা তার পরে জন্মগ্রহণ করেছেন। ফলে বিল ক্লিনটনের প্রেসিডেন্সি নিয়ে তাদের স্মৃতি দলের সেই প্রবীণ নেতাদের চেয়ে আলাদা, যারা ১২ বছরের রিপাবলিকান শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্লিনটন যখন হোয়াইট হাউসে এসেছিলেন, তখন ওয়াশিংটনে উপস্থিত ছিলেন।
এমনকি ক্লিনটনদের কিছু অনুগত মিত্রও স্বীকার করেছেন যে, এই লড়াইটিকে রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে অন্য সাধারণ যুদ্ধের মতো বিবেচনা করা একটি ভুল হিসাব ছিল। ক্লিনটনদের দীর্ঘদিনের একজন উপদেষ্টা (যিনি নিজের নাম গোপন রাখার শর্তে কথা বলেছেন) সিএনএন-কে বলেন, 'পেছনের দিকে তাকালে বোঝা যায়, রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক ধ্বংসাত্মক প্রচারণা চালানোর জন্য এটি সঠিক সময় ছিল না। পুরনো দল সম্ভবত বুঝতে পারেনি যে পরিস্থিতি কতটা বদলে গেছে।'
তৎকালীন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, হাউজ ডেমোক্রেটিক নেতারা তাদের সদস্যদের এই প্রচেষ্টার বিপক্ষে ভোট দিতে উৎসাহিত করেছিলেন, কারণ ক্লিনটনরা তখনো কমিটির সাথে সমঝোতা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তাদের যুক্তি ছিল, রিপাবলিকানরা মূলত বিচার বিভাগ কর্তৃক এপস্টিন ফাইল প্রকাশে কত দীর্ঘ সময় লাগছে, তা থেকে মানুষের নজর সরিয়ে দিতেই ক্লিনটনদের এককভাবে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। সাবেক হাউজ স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি ব্যক্তিগতভাবে সেই সব ডেমোক্র্যাট সদস্যদের তিরস্কার করেছিলেন যারা ক্লিনটনদের কংগ্রেস অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত করার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন।
ওভারসাইট কমিটির ৯ জন ডেমোক্র্যাট সদস্য সাবেক প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেস অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত করার সমর্থনে রিপাবলিকানদের সাথে যোগ দেন। ৩ জন ডেমোক্র্যাট হিলারি ক্লিনটনের বিরুদ্ধেও একই পদক্ষেপের পক্ষে ভোট দেন।
যারা রিপাবলিকানদের সাথে ভোট দিয়েছিলেন তাদের যুক্তি ছিল যে, তারা সংসদীয় তলবনামার ক্ষমতা রক্ষা করতে চেয়েছিলেন। এছাড়া তারা এপস্টিনের ভুক্তভোগীদের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন, যারা দলমত নির্বিশেষে কংগ্রেসের কাছে জবাবদিহিতা দাবি করে আসছিলেন।
'এটি ছিল খুবই কঠিন,'—সেই সময়ের আলোচনার কথা স্মরণ করে বলেন ওভারসাইট কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্য ইয়াসামিন আনসারি। তিনি নিজে সরাসরি কোনো পক্ষে ভোট না দিয়ে 'প্রেজেন্ট' ভোট দিয়ে নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছিলেন।
৩৩ বছর বয়সী আনসারি ১৯৯২ সালে জন্মগ্রহণ করেন, যে বছর বিল ক্লিনটন প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি বড় হয়েছেন এপস্টিন কেলেঙ্কারির খবর দেখে। তিনি বলেন, 'আমি মনে করি এই বিষয়ে তর্কের বিভিন্ন দিক আমি বুঝতে পেরেছিলাম।'
উভয় পক্ষ এই সপ্তাহের জবানবন্দিকে যেভাবে দেখছে
কংগ্রেস অবমাননার ভোটের আগেও উভয় পক্ষ একাধিকবার সমঝোতার পথ খুঁজেছিল। জিম কোমার জবানবন্দির তারিখ পিছিয়ে দিয়েছিলেন যখন উভয় পক্ষ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিল। ক্লিনটনরা নিউ ইয়র্কে স্বেচ্ছায় সাক্ষাৎকার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু তারা চেয়েছিলেন আলোচনার বিষয়বস্তু, সময়সীমা এবং কারা উপস্থিত থাকতে পারবেন—তা নিয়ন্ত্রণ করতে। এরপর তারা সাক্ষাৎকারগুলো জনসমক্ষে বা উন্মুক্তভাবে করার জন্য চাপ দেন।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে যখন ক্লিনটন দম্পতি ঘোষণা করেন যে তারা পূর্বনির্ধারিত জবানবন্দিতে সশরীরে উপস্থিত হবেন না, তখন তারা লিখেছিলেন, 'প্রত্যেক ব্যক্তিকে সিদ্ধান্ত নিতে হয় যে কখন তিনি অনেক কিছু দেখেছেন বা সহ্য করেছেন এবং কখন তিনি ফলাফল যা-ই হোক না কেন—এই দেশ, এর আদর্শ এবং মানুষের জন্য লড়াই করতে প্রস্তুত। আমাদের জন্য, এখন সেই সময়।'
কিন্তু কোমার চেয়েছিলেন ক্লিনটনরা যেন তার দেওয়া শর্ত মেনেই উপস্থিত হন। তিনি তাদের জবানবন্দি গ্রহণের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যান এবং যখন তাদের কেউই উপস্থিত হননি, তখন তিনি ক্লিনটনদের বিরুদ্ধে 'কংগ্রেসের ফৌজদারি অবমাননার' দায়ে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এটি এই দ্বিপক্ষীয় তদন্তে এক বিশাল উত্তেজনা তৈরি করে।
ক্লিনটনদের বিরুদ্ধে এই অবমাননার প্রস্তাবটি কমিটি থেকে অনুমোদিত হওয়ার ঠিক পরেই—যখন এটি চূড়ান্তভাবে পাসের পথে ছিল—ক্লিনটন দম্পতি শেষ মুহূর্তে কোমারের দেওয়া সব শর্ত মেনে নেন এবং অবমাননার সেই প্রচেষ্টা স্থগিত করা হয়।
কোমার সেই সময় বলেছিলেন, 'ক্লিনটনরা পুরোপুরি নতিস্বীকার করেছেন।'
প্যানেলের শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য প্রতিনিধি রবার্ট গার্সিয়া জবানবন্দি শুরুর আগে সিএনএন-কে বলেন, তিনি সবসময়ই ক্লিনটনদের বক্তব্য শুনতে চেয়েছিলেন; এটি কেবল প্রক্রিয়াগত বিষয় ছিল। গার্সিয়া বলেন, 'আমার ধারণা অনুযায়ী, তারা আসলে এটার (সাক্ষ্য দেওয়ার) জন্য মুখিয়ে আছেন। তারা যা জানেন তা জনসমক্ষে প্রকাশ করতে চান। আমি মনে করি আমরা অনেক প্রশ্নের উত্তর পাব এবং তারা কী তথ্য জানতেন সে বিষয়েও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।'
এপস্টিনের সাথে বিল ক্লিনটনের যোগাযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি গার্সিয়া আরও জানতে চান যে, এপস্টিনের সাথে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা বা বিদেশি কোনো সরকারের কোনো সম্পর্ক ছিল কি না। গার্সিয়া বলেন, 'আমি মনে করি সাবেক প্রেসিডেন্ট এই তথ্য শেয়ার করার জন্য অনন্যভাবে যোগ্য।'
তবে হিলারি ক্লিনটনকে জবানবন্দির জন্য তলব করার বিষয়ে ডেমোক্র্যাটরা ব্যাপকভাবে সন্দিহান। কারণ সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন যে তিনি কখনোই এপস্টিনের সাথে দেখা করেননি। ওভারসাইট কমিটির সদস্য ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি জেমস ওয়াকিনশ সিএনএন-কে বলেন, 'তাকে জবানবন্দির জন্য ডাকার একমাত্র কারণ হলো—রিপাবলিকানরা এখনও তাকে জেলে ভরার দিবাস্বপ্ন দেখছে। এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।'
ক্লিনটনদের জবানবন্দি নিতে সফল হওয়ায় রিপাবলিকানরা উল্লসিত হলেও, ট্রাম্পের কিছু অনুগতদের মধ্যে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। তাদের ভয় হলো, ভবিষ্যতে কংগ্রেস যদি ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তবে তারা ট্রাম্প বা তার পরিবারকে আরও সহজে তলব করতে পারবে।
চলতি মাসের শুরুতে ক্লিনটনদের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেও তার ক্লান্তি বা বিরক্তি প্রকাশ করেন। ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, 'আমি এটা দেখতে ঘৃণা করি, অনেক দিক থেকেই আমি এটা অপছন্দ করি। কিন্তু তারপর আমার দিকে তাকান, তারা আমার পেছনেও লেগেছিল।' তবে কোমার জোর দিয়ে বলেন, ডেমোক্র্যাটরা যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পায়, তবে তিনি যে পদক্ষেপই নিন না কেন, তারা ট্রাম্পকে জবানবন্দির জন্য ডাকার চেষ্টা করবেই।
কোমার সিএনএন-কে বলেন, 'আমরা ক্লিনটনদের জবানবন্দি নিই বা না নিই, তারা (ডেমোক্র্যাটরা) ট্রাম্পের পেছনে লাগবেই।'
এপস্টিন মামলার ভুক্তভোগীরা বলেছেন যে, তারা চিন্তিত ছিলেন যে ক্লিনটন দম্পতি যদি কংগ্রেসের তলবনামা প্রত্যাখ্যান করতেন, তবে এটি সেই সব ব্যক্তিদের জন্য একটি নজির হয়ে থাকত যাদের ভবিষ্যতে জবানবন্দির জন্য ডাকা হবে।
ভুক্তভোগী শার্লিন রোচার্ড সিএনএন-কে বলেন, 'যদি তারা এটা (তলবনামা উপেক্ষা) করে পার পেয়ে যেতেন, তবে সবাই তাদের পদচিহ্ন অনুসরণ করত।'
লিজ স্টাইন নামের আরেকজন ভুক্তভোগী বলেন, এই জিজ্ঞাসাবাদ কেবল ক্লিনটনদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়।
স্টাইন বলেন, 'কেন শুধু ক্লিনটনদের ওপরই এত ফোকাস করা হচ্ছে? এবং কেন আমরা সেই সব ব্যক্তিদের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি না যাদের কাছ থেকে আমাদের আরও তথ্য নেওয়া প্রয়োজন?'
