এপস্টিন ফাইলসের জেরে বিপাকে পড়েছেন যারা
কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিন। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ও গোপন সম্পর্কের দায়ে এখন ফেঁসে যাচ্ছেন বিশ্বের ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা। গত ৩০ জানুয়ারি মার্কিন বিচার বিভাগ এপস্টিন-সংক্রান্ত গোপন নথিপত্র প্রকাশের পর রাজনীতি, ব্যবসা ও বিনোদন জগতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তদন্তের জালে আটকে কেউ পদত্যাগ করছেন, কেউ হচ্ছেন বরখাস্ত, আবার কাউকে সরাসরি গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। এই হাই-প্রোফাইল তালিকায় কাদের নাম আছে, দেখে নেওয়া যাক—
- রাজনীতি
অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর (প্রিন্স অ্যান্ড্রু): এপস্টিনের সঙ্গে গোপন তথ্য লেনদেনের অভিযোগে ব্রিটিশ পুলিশ ১৯ ফেব্রুয়ারি তাকে গ্রেপ্তার করেছে। এর আগেই অবশ্য রাজকীয় সব পদবি ও সম্মান খুইয়েছেন ব্রিটেনের রানির এই দ্বিতীয় পুত্র।
থরবজর্ন জ্যাগল্যান্ড: নরওয়ের এই সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্কের জেরে 'বড় ধরনের দুর্নীতির' অভিযোগ আনা হয়েছে। কেলেঙ্কারির আঁচ লেগেছে তার গায়েও।
মোনা জুলে: নরওয়ের এই প্রভাবশালী রাষ্ট্রদূত এপস্টিনের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ ওঠার পর প্রথমে বরখাস্ত হন এবং পরে চাপের মুখে পদত্যাগ করেন।
জ্যাক ল্যাং: ফ্রান্সের সাবেক সংস্কৃতি মন্ত্রী। এপস্টিনের সঙ্গে আর্থিক সম্পর্কের অভিযোগে তদন্ত শুরু হওয়ার পর তিনি প্যারিসের বিখ্যাত 'আরব ওয়ার্ল্ড ইনস্টিটিউট'-এর প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন।
পিটার ম্যান্ডেলসন: ব্রিটিশ এই কূটনীতিক ও রাজনীতিবিদের সঙ্গে এপস্টিনের গভীর বন্ধুত্বের প্রমাণ মেলায় তাকে রাষ্ট্রদূত পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়। এমনকি লেবার পার্টি থেকেও তাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়।
মরগান ম্যাকসুইনি: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর চিফ অফ স্টাফ। পিটার ম্যান্ডেলসনকে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় তীব্র সমালোচনার মুখে তাকেও পদ ছাড়তে হয়েছে।
মিরোস্লাভ লাজকাক: স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। এপস্টিনের সঙ্গে আপত্তিকর ইমেইল চালাচালির প্রমাণ মেলায় তিনি পদত্যাগ করেছেন।
- শিক্ষা জগত
ড. লেটি মস-স্যালেন্টাইন: কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির ডেন্টাল কলেজের ভাইস ডিন। এপস্টিনের বান্ধবীর জন্য নিয়ম ভেঙে পড়ার বিশেষ ব্যবস্থা করে দেওয়ার অভিযোগে তিনি পদ হারিয়েছেন।
ড. থমাস ম্যাগন্যানি: কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির একই বিভাগের শিক্ষক। এপস্টিনের বান্ধবীর ভর্তিতে অন্যায্য সহায়তা করার দায়ে বিশ্ববিদ্যালয় তার সঙ্গে সব সম্পর্ক চুকিয়ে ফেলেছে।
ডেভিড এ. রস: স্কুল অফ ভিজ্যুয়াল আর্টস-এর বিভাগীয় প্রধান। এপস্টিনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের গোপন ইমেইল ফাঁস হওয়ার পর তিনি পদত্যাগ করেছেন।
ল্যারি সামারস: হার্ভার্ডের সাবেক প্রেসিডেন্ট। এপস্টিনের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে তাকে হার্ভার্ড থেকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে এবং তিনি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পদও ছেড়েছেন।
এলিসা নিউ: ল্যারি সামারসের স্ত্রী। অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটি তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে এবং টিভি চ্যানেল পিবিএস তার শো বাতিল করে দিয়েছে।
জোইচি ইতো: এমআইটি মিডিয়া ল্যাবের সাবেক পরিচালক। এপস্টিনের কাছ থেকে গোপনে অর্থ নেওয়ার দায়ে ২০১৯ সালেই তাকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল।
- ব্যবসা জগত
থমাস জে. প্রিৎজকার: হায়াত হোটেলস কর্পোরেশনের এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান। এপস্টিনের সঙ্গে নিয়মিত ও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের প্রমাণ মেলায় তাকে পদত্যাগ করতে হয়েছে।
কেসি ওয়াসারম্যান: ২০২৮ অলিম্পিক আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান। এপস্টিনের সহযোগী ও যৌন অপরাধী ঘিসলাইন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে ইমেইল চালাচালির জেরে তিনি তার ট্যালেন্ট এজেন্সি বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
সুলতান আহমেদ বিন সুলায়েম: দুবাইভিত্তিক বিশাল কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রধান। এপস্টিনের সঙ্গে নারীদের নিয়ে আপত্তিকর আলোচনার অভিযোগ ওঠায় তিনি পদত্যাগ করেছেন।
জেমস ই. স্ট্যালি: বার্কলেসের সিইও। এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্কের জেরে ২০২১ সালেই তাকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল।
লিওন ব্ল্যাক: অ্যাপোলো গ্লোবাল ম্যানেজমেন্টের সহ-প্রতিষ্ঠাতা। এপস্টিনকে বিশাল অঙ্কের টাকা দেওয়ার অভিযোগে তাকেও পদ ছাড়তে বাধ্য করা হয়।
- আইন ও মার্কিন রাজনীতি
ক্যাথরিন রুয়েমলার: গোল্ডম্যান স্যাকসের জেনারেল কাউন্সেল। এপস্টিনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের প্রমাণ মেলায় তিনি আগামী জুনে পদত্যাগ করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
ব্র্যাড কার্প: পল ওয়াইস ল ফার্মের চেয়ারম্যান। এপস্টিনকে অনৈতিকভাবে আইনি পরামর্শ দেওয়ায় তিনি চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
আর. আলেকজান্ডার অ্যাকোস্টা: যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক শ্রমমন্ত্রী। ২০০৮ সালে এপস্টিনকে লঘু সাজা বা সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ার অভিযোগে ২০১৯ সালে তিনি পদত্যাগ করেছিলেন।
