চট্টগ্রামে বেসরকারি হাসপাতালে ডেলিভারির সময় নবজাতকের মাথার তালু কেটে ফেলার অভিযোগ
চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ এলাকায় অবস্থিত বেসরকারি হাসপাতাল পার্কভিউতে ডেলিভারির সময় এক নবজাতকের মাথার তালুতে চামড়া কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। পরিবারের দাবি, সোমবার (২ মার্চ) গাইনী চিকিৎসক ডা. তফিকুর নাহার (মোনা)-এর তত্ত্বাবধানে স্বাভাবিক প্রসবের সময় এ ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী নবজাতকের খালা পূজা ভট্টাচারিয়া টিবিএসকে বলেন, 'জন্মের প্রায় ১০ মিনিট পর শিশুটিকে কোলে নেওয়ার সময় মাথার তালুতে ধারালো যন্ত্রের মতো কাটা দাগ দেখতে পান স্বজনরা। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে প্রথমে তারা অভিযোগ অস্বীকার করে।'
ভুক্তভোগী স্বজনদের অভিযোগ, একই দিনে হাসপাতালে আরও একটি নবজাতকের মাথায় কাটা দাগের ঘটনা ঘটেছে।
পরে আলোচনার একপর্যায়ে শিশুটির সাত বছর বয়স পর্যন্ত কোনো শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার আশ্বাস দিলে তারা একপ্রকার সমঝোতা করে।
পূজা ভট্টাচারিয়া জানান, 'আমাদের সাথেও তারা সমঝোতা করতে চাইলে আমরা তা মানি নাই। আমরা এখন নবজাতকের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।'
পার্কভিউ হাসপাতালের রেজিস্টার সূত্রে জানা গেছে, নবজাতকের মা কনক গুপ্ত মজুমদার গত ১ মার্চ বিকেল ৫টার দিকে গাইনী বিভাগে ভর্তি হন। পরে দিন সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার পর তার স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন হয়। নবজাতকটি নগরীর টেকনিক্যাল এলাকার বাসিন্দা রুবেল মজুমদার ও কনক গুপ্ত মজুমদার দম্পতির দ্বিতীয় সন্তান।
নবজাতকের বাবা রুবেল মজুমদার টিবিএসকে বলেন, "আমরা এখানে চিকিৎসা নিতে আসি, কিন্তু এমন ঘটনা দেখে খুবই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। আশা করেছিলাম নিরাপদ এবং যত্নশীল সেবা পাবো, কিন্তু আমাদের সন্তানের সঙ্গে যা ঘটেছে তা আর অন্য কোন সন্তানের সাথে যাতে না হয়। আশা করি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখবেন।"
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল করিম বলেন, এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার (অ্যাডমিন) তালুকদার জিয়াউর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সাংবাদিক পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি কল কেটে দেন। অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. তফিকুর নাহার (মোনা) এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
