জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান ঠেকাতে ট্রাক দিয়ে ব্যারিকেড, কালভার্ট ভেঙে দিল সন্ত্রাসীরা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসীদের ধরতে চালানো যৌথ বাহিনীর অভিযানে পথে পথে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। কোথাও রাস্তার ওপর ট্রাক রেখে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে, আবার কোথাও কালভার্ট ভেঙে ফেলা হয়েছে।
একটি স্থানে নালার স্ল্যাব তুলে নেওয়ার ঘটনাও দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, অভিযানের খবর আগেভাগেই পেয়ে সন্ত্রাসীরা এসব প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে।
জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সক্রিয় দুটি সন্ত্রাসী গ্রুপ রয়েছে। একটি গ্রুপের নেতৃত্বে আছেন মোহাম্মদ ইয়াসিন এবং অন্যটির নেতৃত্বে রোকন উদ্দিন।
গত জানুয়ারিতে ওই এলাকায় অভিযানে গিয়ে র্যাবের এক কর্মকর্তা নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি ইয়াসিন। আলীনগর এলাকায় তার শক্ত প্রভাব রয়েছে।
অভিযানের আগে মূলত আলীনগর এলাকায় প্রবেশ ঠেকাতেই এসব বাধা তৈরি করা হয়েছে বলে ধারণা পুলিশের।
আলীনগরে ঢোকার প্রধান সড়কে একটি বড় ট্রাক আড়াআড়িভাবে রেখে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ওই এলাকার কাছাকাছি একটি কালভার্ট ভেঙে দেওয়া হয়, যাতে বাহিনীর যানবাহন এগোতে না পারে।
পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসান বলেন, 'ছিন্নমূল ও আলীনগর—দুটি এলাকাই জঙ্গল সলিমপুরের অংশ। ছিন্নমূল এলাকা পার হওয়ার পর আলীনগরে ঢোকার আগে সড়কে একটি ট্রাক দিয়ে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছিল। যৌথ বাহিনীর সদস্যরা সেটি সরিয়ে সামনে এগিয়ে যান।'
তিনি বলেন, 'পরে কিছু দূরে গিয়ে দেখা যায় একটি কালভার্ট ভেঙে ফেলা হয়েছে। পরে ইট-বালি দিয়ে তা ভরাট করে বাহিনীর যানবাহন আলীনগরে প্রবেশ করে।'
অতিরিক্ত ডিআইজি বলেন, 'সোমবার সকাল ভোর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে যৌথ বাহিনীর প্রায় তিন হাজার সদস্য অংশ নিয়েছেন। অভিযান শুরুর পরপরই জঙ্গল সলিমপুরের চারদিক ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রবেশ ও বের হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ পথগুলোতে তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে, যাতে কেউ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে না পারে। নিরাপত্তাজনিত কারণে সাংবাদিকদেরও ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।'
গত জানুয়ারিতে জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত হন র্যাব–৭ এর উপসহকারী পরিচালক (নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া।
এ ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় মোহাম্মদ ইয়াসিনসহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও প্রায় ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
