যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা জেসি জ্যাকসন মারা গেছেন
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা জেসি জ্যাকসন ৮৪ বছর বয়সে মারা গেছেন। পরিবারের দেওয়া বিবৃতি অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
জ্যাকসনের পরিবার এক বিবৃতিতে বলেছে, 'অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে আমরা নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা এবং রেইনবো পুশ কোয়ালিশনের প্রতিষ্ঠাতা মাননীয় রেভারেন্ড জেসি লুই জ্যাকসন সিনিয়রের প্রয়াণের খবর জানাচ্ছি।' পরিবার জানায়, তিনি 'শান্তিপূর্ণভাবে' মৃত্যুবরণ করেছেন।
বিবৃতিতে মৃত্যুর কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তবে জ্যাকসনের শরীরে প্রগ্রেসিভ সুপ্রানিউক্লিয়ার পালসি ধরা পড়েছিল। গত বছরের শেষের দিকে তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।
জ্যাকসন তার স্ত্রী জ্যাকলিন এবং সন্তান সান্তিতা, জেসি জুনিয়র, জোনাথন, ইউসুফ, জ্যাকলিন ও অ্যাশলিকে রেখে গেছেন।
পরিবারের বিবৃতিতে বলা হয়, 'ন্যায়বিচার, সমতা এবং মানবাধিকারের প্রতি তার অটল অঙ্গীকার স্বাধীনতা ও মর্যাদার জন্য একটি বৈশ্বিক আন্দোলন গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে।'
মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের সঙ্গে কাজ করার জন্য জ্যাকসন বিশেষভাবে পরিচিত। তিনি ১৯৮৪ ও ১৯৮৮ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রচারণা চালান। সামাজিক ন্যায়বিচার ও নাগরিক অধিকারের জন্য নিবেদিত অলাভজনক সংস্থা 'রেইনবো পুশ কোয়ালিশন' প্রতিষ্ঠার জন্যও তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
দুইবার ডেমোক্র্যাটদের প্রেসিডেন্ট মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন জেসি জ্যাকসন। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন অনেকে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও তাকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
এক বিবৃতিতে জ্যাকসনকে 'সত্যিকারের মহানায়ক' হিসেবে অভিহিত করেন বারাক ওবামা। তিনি বলেন, জ্যাকসনের 'প্রেসিডেন্ট পদের জন্য দুটি ঐতিহাসিক লড়াই' তার নিজের দেশের সর্বোচ্চ পদে অভিযানের ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছিল। ওবামা আরও জানান, তার স্ত্রী মিশেল কিশোর বয়সে জ্যাকসনদের রান্নাঘরের টেবিলেই প্রথম রাজনৈতিক সংগঠনের ধারণা পেয়েছিলেন।
ওবামা দম্পতি বিবৃতিতে বলেন, '৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে রেভারেন্ড জ্যাকসন মানব ইতিহাসের পরিবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনগুলোর নেতৃত্বে সহায়তা করেছেন।'
জ্যাকসন গত নভেম্বরে হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসকেরা জানান, ২০২৫ সালের এপ্রিলে তার শরীরে প্রগ্রেসিভ সুপ্রানিউক্লিয়ার পালসি (পিএসপি) নামে এক বিরল ক্ষয়জনিত রোগ ধরা পড়ে। এর আগে ২০১৫ সালে তার পারকিনসন্স রোগ ধরা পড়েছিল বলে তিনি জানিয়েছিলেন। পরে সেটি সংশোধন করা হয়।
উভয় রোগই মস্তিষ্ক, স্নায়ুতন্ত্র এবং পেশি নিয়ন্ত্রণকে প্রভাবিত করে। আমেরিকান পারকিনসন্স ডিজিজ অ্যাসোসিয়েশন এবং কিউর পিএসপি গ্রুপের মতে, উপসর্গে মিল থাকায় অনেক পিএসপি আক্রান্ত ব্যক্তিকে শুরুতে পারকিনসন্স রোগী হিসেবে ভুলভাবে শনাক্ত করা হয়।
১৯৪১ সালে সাউথ ক্যারোলিনার গ্রিনভিলে জন্মগ্রহণ করেন জেসি জ্যাকসন। অল্প বয়সেই তিনি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৬০-এর দশকে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের সাদার্ন ক্রিশ্চিয়ান লিডারশিপ কনফারেন্সের নেতা হিসেবে পরিচিতি পান। ১৯৬৮ সালে মেমফিস, টেনেসিতে কিং হত্যার শিকার হলে জ্যাকসন তার সঙ্গেই ছিলেন।
কর্মজীবনে জ্যাকসন আমেরিকার বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীকে একত্রিত করার চেষ্টা করেন। তার আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষ।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়ের পর তিনি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির একজন জ্যেষ্ঠ নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই শোক প্রকাশ করেন অনেক রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি জ্যাকসনকে 'প্রেসিডেন্ট হওয়ার অনেক আগে থেকেই' চিনতেন।
ট্রাম্প বলেন, 'তিনি একজন ভালো মানুষ ছিলেন। তার ব্যক্তিত্ব ছিল অসাধারণ, তিনি ছিলেন দৃঢ় এবং বাস্তবজ্ঞানসম্পন্ন। তিনি খুব মিশুক ছিলেন—এমন একজন, যিনি মানুষকে সত্যিকার অর্থেই ভালোবাসতেন!'
সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এবং তার স্ত্রী, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনও শ্রদ্ধা জানান। তারা বলেন, জ্যাকসনের সঙ্গে তাদের 'প্রায় পঞ্চাশ বছরের' বন্ধুত্ব ছিল।
এক বিবৃতিতে তারা বলেন, 'রেভারেন্ড জ্যাকসন মানুষের মর্যাদার জন্য লড়েছেন এবং অগণিত মানুষকে উন্নত জীবন গড়ার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন।'
