যান্ত্রিক ত্রুটিযুক্ত সোমালিয়ার বিমান সাগরের তীরে নামিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন পাইলট
সোমালিয়ার একটি এয়ারলাইন তাদের এক পাইলটের ভূয়সী প্রশংসা করেছে। ওই পাইলট যান্ত্রিক ত্রুটিপূর্ণ একটি যাত্রীবাহী বিমান সাগরের তীরে জরুরিভাবে অবতরণ করান। রাজধানী মোগাদিশুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশেই তিনি বিমানটি নামিয়ে আনেন। এতে বিমানে থাকা ৫৫ জন আরোহীর সবাই প্রাণে বেঁচে গেছেন।
'স্টারস্কি এভিয়েশন' জানিয়েছে, পাইলটের উপস্থিত বুদ্ধির কারণেই ৫০ জন যাত্রী ও ৫ জন ক্রু প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন।
সোমালিয়ার সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (সিএএ) জানায়, বিমানটি ছিল 'ফকার ৫০' মডেলের। মঙ্গলবার সকালে মোগাদিশু থেকে ওড়ার কিছুক্ষণ পরেই ক্রুরা সমস্যার কথা জানান। এরপর তারা বিমানটি ফিরিয়ে আনার অনুরোধ করেন।
সিএএ-র পরিচালক আহমেদ মাকালিন হাসান জানান, বিমানটি রানওয়েতে নামলেও থামতে পারেনি। এটি রানওয়ে পেরিয়ে অগভীর পানিতে গিয়ে থামে। ঠিক কী কারণে এমনটা ঘটলো, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এক্স'-এ ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে যাত্রীদের বিমান থেকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়।
তারা ভারত মহাসাগরের তীরে আছড়ে পড়া বিমানের ধ্বংসাবশেষ থেকে হেঁটে সরে যাচ্ছিলেন। তবে কারও বড় ধরনের কোনো আঘাত পাওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
সোমালিয়ায় আফ্রিকান ইউনিয়নের মিশন জানিয়েছে, উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য দ্রুত জাতিসংঘ ও আফ্রিকান ইউনিয়নের সেনাদের পাঠানো হয়। 'এক্স'-এ দেওয়া ওই পোস্টে আরও জানানো হয়, সোমালিয়ার পরিবহনমন্ত্রীও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
স্টারস্কির মুখপাত্র হাসান মোহাম্মদ আডেন বলেন, 'সব যাত্রী ও ক্রু নিরাপদ আছেন, এটা নিশ্চিত হতে পেরে আমরা স্বস্তি বোধ করছি। কী যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এমন জরুরি অবতরণ করতে হলো, তা বের করতে তদন্ত চলছে।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'বিমানে থাকা সবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে পাইলটের দ্রুত ও ধীরস্থির সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি যেভাবে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন, তার জন্য আমরা তাঁর প্রশংসা করছি।'
