২০০০ সালে এপস্টিন তদন্ত প্রকাশের পর পুলিশকে ফোন করে 'ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন' ট্রাম্প
২০০০ সালের মাঝামাঝি সময়ে কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তদন্ত প্রকাশ্যে আসার পরপরই ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্লোরিডার পাম বিচ পুলিশ বিভাগকে ফোন করে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথিতে এ তথ্য উঠে এসেছে।
নথি অনুযায়ী ট্রাম্প বলেছিলেন, 'ঈশ্বরকে ধন্যবাদ আপনারা তাকে থামাচ্ছেন। সবাই জানত সে এসব করছে।'
এই নথিটি ২০১৯ সালে এফবিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারের লিখিত রেকর্ড। পাম বিচ কাউন্টির সাবেক পুলিশপ্রধান ওই সাক্ষাৎকার দেন বলে মায়ামি হেরাল্ডকে জানিয়েছেন। নতুন এই তথ্য সামনে আসায় প্রশ্ন জোরদার হয়েছে—এপস্টিনের অপরাধ সম্পর্কে ট্রাম্প ঠিক কখন এবং কতটা জানতেন।
হোয়াইট হাউস বরাবরই বলে আসছে, ২০০০–এর দশকের শুরুতেই ট্রাম্প এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন এবং তাকে 'ক্রিপ' বা বিকৃত ব্যক্তি মনে করতেন।
মিয়ামি হেরাল্ড জানায়, এফবিআইয়ের নথিতে যে সাক্ষাৎকারের কথা বলা হয়েছে, সেটি ছিল মাইকেল রেইটারের সঙ্গে—যদিও নথিতে তার নাম গোপন রাখা হয়েছে। ওই সময় তিনি পাম বিচ পুলিশের প্রধান ছিলেন। হেরাল্ডের মতে, ফোনকলটি ২০০৬ সালের দিকে হয়ে থাকতে পারে। নথিতে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ফোনালাপে জানান যে নিউইয়র্কে অনেকেই জানত এপস্টিন 'ঘৃণ্য' একজন ব্যক্তি। তিনি আরও বলেন, গিলেন ম্যাক্সওয়েল ছিলেন এপস্টিনের 'অপারেটিভ' এবং তার বিষয়ে মন্তব্য করেন, 'সে ভয়ংকর। তার দিকেই মনোযোগ দেওয়া উচিত।'
নথিতে আরও উল্লেখ আছে, একবার কিশোরীরা উপস্থিত থাকা অবস্থায় ট্রাম্প এপস্টিনের সঙ্গে ছিলেন এবং পরিস্থিতি বুঝে 'সেখান থেকে দ্রুত বেরিয়ে যান।' তদন্তের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর পাম বিচ পুলিশকে ফোন করা 'প্রথমদিকের ব্যক্তিদের' একজন ছিলেন ট্রাম্প—এমন দাবিও রয়েছে নথিতে। কংগ্রেসে পাস হওয়া নতুন আইনের আওতায় বিচার বিভাগ সম্প্রতি যে লাখো নথি প্রকাশ করেছে, তার মধ্যেই এই নথি রয়েছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট মঙ্গলবার এক ব্রিফিংয়ে বলেন, তিনি এই ফোনালাপের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারছেন না। তবে তিনি যুক্তি দেন, যদি এটি ঘটে থাকে তবে তা ট্রাম্পের দাবিকেই সমর্থন করে যে তিনি ২০০০-এর দশকের শুরুতেই এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন।
ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, '২০০৬ সালে ফোন হয়েছিল কি না—আমি জানি না। তবে প্রেসিডেন্ট সব সময় বলেছেন, তিনি জেফ্রি এপস্টিনকে মার-আ-লাগো ক্লাব থেকে বের করে দিয়েছিলেন, কারণ তিনি ছিলেন বিকৃত চরিত্রের। সেটাই সত্য।'
বিচার বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, '২০ বছর আগে প্রেসিডেন্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন—এমন কোনো প্রমাণ আমাদের জানা নেই।' এদিকে মন্তব্য চেয়ে ইমেইল পাঠানো হলে মাইকেল রেইটারের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান জানায়, 'মাইকেল রেইটার এই মুহূর্তে কোনো সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন না।'
এপস্টিন ও তার অপরাধ সম্পর্কে ট্রাম্প কী জানতেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তার দ্বিতীয় মেয়াদেও ছায়া ফেলেছে। ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে ১৯৯০-এর দশকে তাদের বন্ধুত্ব ছিল, কিন্তু ২০০০-এর দশকের শুরুতে এপস্টিন মার-এ-লাগো ক্লাবের কর্মীদের ভাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি তাকে বের করে দেন। তবে এপস্টিনের অপরাধ সম্পর্কে জানার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেছেন।
নথিতে ম্যাক্সওয়েলকে 'শয়তান' বলা হলেও ২০২০ সালে তার গ্রেপ্তারের পর ট্রাম্প বলেছিলেন, 'আমি তার মঙ্গল কামনা করি।' বর্তমানে ম্যাক্সওয়েল যৌন পাচারের দায়ে দীর্ঘ সাজা ভোগ করছেন।
সম্প্রতি ম্যাক্সওয়েলের আইনজীবী জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি তাকে ক্ষমা করেন, তবে তিনি 'সম্পূর্ণ এবং সততার সঙ্গে' কথা বলতে রাজি আছেন। তবে জুলাই মাসে সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি ম্যাক্সওয়েলকে ক্ষমা করার বিষয়টি নিয়ে ভাবেননি, যদিও তিনি সেই সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়েও দেননি।
