ভারতের ছত্তিশগড়ে অর্ধডজন মুসলিম বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর, আহত ৭ পুলিশ
গত ১ ফেব্রুয়ারি ভারতের ছত্তিশগড়ের গ্যারিয়াবন্দ জেলায় একদল উত্তেজিত জনতা অন্তত ছয়টি মুসলিম বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে সেগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
'দ্য হিন্দু'র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সময় জনতার হাত থেকে নারী ও শিশুসহ ২০ জনের বেশি মানুষকে রক্ষা করতে গিয়ে অন্তত সাতজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
দুতকাইয়া গ্রামে কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা এই সহিংসতার সূত্রপাত হয় স্থানীয়দের ওপর কথিত হামলার পর। অভিযুক্তদের মধ্যে একজন বর্তমানে একটি মন্দির ভাঙচুর মামলায় জামিনে রয়েছেন।
'দ্য হিন্দু'-র রিপোর্ট অনুযায়ী, গ্যারিয়াবন্দের পুলিশ সুপার বেদব্রত সিরমাউর বলেন, ২০২৪ সালে গ্রামের বাসিন্দা আরিফ খান ও আরও দুজন মিলে গ্রামের চবেশ্বর শিব মন্দিরে ভাঙচুর চালিয়েছিলেন। সেই ঘটনায় তাকে কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল।
পুলিশ জানায়, ১৮ বছর পূর্ণ হওয়া আরিফ ১ ফেব্রুয়ারি ভোরে গ্রামে ফিরে আসেন এবং রায়পুর থেকে আসা তার দুই সহযোগীকে নিয়ে অন্তত চারজন ব্যক্তিকে মারধর করেন।
আহতদের মধ্যে মন্দির ভাঙচুর মামলার অন্তত একজন প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন। ওই বছর জামিন পাওয়ার পর থেকে ১ ফেব্রুয়ারির আগ পর্যন্ত আরিফ আর কখনও গ্রামে ফেরেননি বলে 'দ্য হিন্দু' জানিয়েছে।
এরপর লাঠি, ইট, পাথর ও কেরোসিনের বোতল হাতে নিয়ে কয়েকশ মানুষ সেখানে জড়ো হয়। দুতকাইয়া ও আশপাশের গ্রামের লোকজন নিয়ে গঠিত এই জনতা ওই ১০টি মুসলিম পরিবারের বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করে। ওই পরিবারগুলো তখন ঘর বন্ধ করে ভেতরে আশ্রয় নিয়েছিল।
এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, 'জনতা যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং তাদের মুসলিমদের বাড়িতে ঢুকতে দেওয়ার দাবি জানায়। আমরা সংখ্যায় কম ছিলাম এবং রাজিম কুম্ভ (রাজ্যের একটি বড় ধর্মীয় সমাবেশ) চলার কারণে আমাদের জনবল সংকটও ছিল। পরবর্তী কয়েক ঘণ্টা আমরা পাহারায় ছিলাম এবং নিশ্চিত করেছি যেন জনতা বাড়িতে ঢুকতে না পারে কিংবা নারী ও শিশুদের কোনো ক্ষতি করতে না পারে।'
পুলিশ আরও জানায়, 'জনতাকে শান্ত করার সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ প্রমাণিত হয়। এরপর আমরা আটকে পড়া ভুক্তভোগীদের এক জায়গায় সরিয়ে নিতে শুরু করি।'
পুলিশ জানায়, শেষ পর্যন্ত বলপ্রয়োগ করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করা হয় এবং একটি বাসে করে বাড়িগুলোতে আটকে থাকা ২০ জনের বেশি বাসিন্দাকে উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় পরিবারের দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য আহত হন। পাশাপাশি ছয়জন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন এবং একজন পুলিশ সদস্য জনতার ছোড়া ইটের আঘাতে মাথায় মারাত্মক চোট পান বলে দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
