এপস্টিনের সঙ্গে চমস্কির সখ্য নিয়ে ‘মর্মাহত ও লজ্জিত’ সহ-লেখক বিজয় প্রসাদ
প্রখ্যাত ভাষাবিদ ও চিন্তাবিদ নোয়াম চমস্কির সঙ্গে জেফরি এপস্টিনের সখ্য নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তার দীর্ঘদিনের সহ-লেখক বিজয় প্রসাদ। সম্প্রতি প্রকাশিত মার্কিন তদন্ত সংস্থার নতুন কিছু নথিতে এই দুই ব্যক্তির মধ্যকার সামাজিক সম্পর্কের তথ্য সামনে আসার পর নিন্দা জানান তিনি।
বিজয় প্রসাদ একজন প্রথিতযশা সাংবাদিক এবং ট্রাইকন্টিনেন্টাল ইনস্টিটিউট ফর সোশ্যাল রিসার্চের পরিচালক। তিনি ও চমস্কি মিলে দুটি বই লিখেছেন, যার মধ্যে চমস্কির সর্বশেষ বইটি অন্যতম। মঙ্গলবার লেখা এক চিঠিতে বিজয় প্রসাদ বলেন, চমস্কি ও এপস্টিনের মধ্যকার আলাপ দেখে তিনি 'মর্মাহত'।
বিজয় প্রসাদ লিখেছেন, 'যখন ছবি ও ইমেইলগুলো সামনে এল, আমি এপস্টিনের শিশু যৌন নিপীড়নের বিষয়টি দেখে প্রচণ্ড ঘৃণা অনুভব করেছি। নোয়াম তার সঙ্গে সখ্য রাখায় আমি লজ্জিত। আমার মতে, এই ন্যক্কারজনক ঘটনার কোনো অজুহাত বা প্রেক্ষাপট হতে পারে না।'
তিনি আরও জানান, চমস্কির সঙ্গে কাজ করার সময় এই বন্ধুত্বের বিষয়ে তার বিন্দুমাত্র ধারণা ছিল না।
৯৭ বছর বয়সী চমস্কি বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ। চিকিৎসাজনিত কারণে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে তিনি কথা বলা বা লেখার অবস্থায় নেই। এর আগে অবশ্য তিনি এপস্টিনকে চেনার কথা স্বীকার করেছিলেন। তবে তার দাবি ছিল, সেই সম্পর্ক ছিল মূলত আর্থিক লেনদেন কেন্দ্রিক।
সম্প্রতি প্রকাশিত নথিতে দেখা গেছে, ২০১৯ সালে এপস্টিন যখন নারী ও শিশু পাচারের অভিযোগে চারদিকে কোণঠাসা ছিলেন, তখন চমস্কি তাকে সংবাদমাধ্যম ও জনরোষ উপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
একজন অপ্রাপ্তবয়স্ককে যৌনকর্মে বাধ্য করা সংক্রান্ত ঘটনায় যৌন অপরাধী হিসেবে অভিযুক্ত এপস্টিনকে চমস্কি লিখেছিলেন, '(গণমাধ্যমের আক্রমণ) এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে ভালো পথ। বিশেষ করে বর্তমানে নারী নির্যাতন নিয়ে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, তাতে কোনো অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তোলাও এখন খুনের চেয়ে বড় অপরাধ হিসেবে দেখা হয়।'
২০১৯ সালেই কারাগারে থাকা অবস্থায় আত্মহত্যা করেন এপস্টিন। এপস্টিনের গ্রাহক তালিকা নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা চলছে। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারে এই তালিকা প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। পরে কংগ্রেসের চাপে মার্কিন বিচার বিভাগ এই নথিগুলো প্রকাশ করতে বাধ্য হয়, যার মাধ্যমে চমস্কির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার এই নতুন তথ্যগুলো সামনে এল।
