এপস্টিন ফাইল: ট্রাম্পকে খুশি করতে ইসরায়েল গিয়ে নাচ-গান করেন মোদি, দাবি প্রত্যাখান ভারতের
সম্প্রতি প্রকাশিত প্রয়াত মার্কিন ধনকুবের ও সাজাপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের ফাঁস হওয়া নথি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করতে ইসরায়েল সফরে গিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ওই সফরের বিষয়ে তিনি এপস্টিইনের পরামর্শও নিয়েছিলেন।
ভারতীয় গণমাধ্যমে শনিবার এই খবর প্রকাশিত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রকাশ করা প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠার নথিতে ২০১৪ সালের নভেম্বরের একটি ইমেইল পাওয়া গেছে। বর্তমান কেন্দ্রিয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি সেই ইমেইলটি এপস্টিনকে পাঠিয়েছিলেন।
সেখানে মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারতের সঙ্গে কেন যোগাযোগ বাড়ানো প্রয়োজন, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা ছিল।
ইমেইলে এপস্টিন লিখেছিলেন, 'ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি পরামর্শ নিয়েছিলেন...এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টকে খুশি করতে তিনি নেচে-গেয়ে সময় কাটিয়েছিলেন। পরামর্শটি কাজে দিয়েছে।'
তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে বলেন, ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি ইসরায়েল সফরের বিষয়টি সত্য, তবে ইমেইলে থাকা বাকি সব দাবি একজন সাজাপ্রাপ্ত অপরাধীর 'বাজে চিন্তা' ছাড়া আর কিছুই নয়।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা উচিত। তবে এই বিষয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) থেকে এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
জেফরি এপস্টিনের ফাঁস হওয়া নথিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরির নাম আসায় উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারতের রাজনীতি। বিষয়টিকে 'জাতীয় লজ্জা' আখ্যা দিয়ে সরকারের কাছে এর আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দাবি করেছে বিরোধী দলগুলো।
তবে বিজেপি মুখপাত্র সম্বিত পাত্র কংগ্রেসের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, 'জেফরি এপস্টিনের ইমেইলটি কংগ্রেস এডিট করেছে। মূল ইমেইলে যে শব্দটি নেই, সেখানে তারা 'হিজ' (his) শব্দটি বসিয়ে এমনভাবে প্রচার করছে যেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এপস্টাইনের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়েছেন। এটি স্রেফ প্রতারণা।'
২০১৭ সালের জুলাই মাসে নরেন্দ্র মোদি ইসরায়েল সফরে যান। এটি ছিল কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ইসরায়েল সফর। সেই সময় ভারত ও ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্কের ২৫ বছর উদযাপিত হচ্ছিল। মোদি সেখানে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন।
গত শুক্রবার এপস্টিনের এক ডজনেরও বেশি ইমেইল ও ফোন বার্তা প্রকাশ করে মার্কিন সরকার। সেখানে দাবি করা হয়, ২০১৭ সালে নরেন্দ্র মোদির ইসরায়েল সফরের পেছনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বড় ভূমিকা ছিল।
প্রকাশিত নথিতে আরও দেখা যায়, ২০১৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের পরপরই ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও রিপাবলিকান কৌশলবিদ স্টিভ ব্যাননের সঙ্গে মোদির একটি বৈঠকের আয়োজন করার পরিকল্পনা করেছিলেন এপস্টিন। এসব বিষয়ে ভারতের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী অনিল আম্বানির সঙ্গেও এপস্টিনের যোগাযোগ ছিল বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৫ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে পাস হওয়া একটি আইনের আওতায় জেফরি এপস্টিন সংক্রান্ত কয়েক মিলিয়ন নথি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী সম্প্রতি ৩০ লাখ পৃষ্ঠার নথি, ২ হাজার ভিডিও এবং ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানেই মোদির সফর সংক্রান্ত এই ইমেইলটি পাওয়া যায়।
