ইরান যুদ্ধের প্রতিবাদে ইসরায়েল থেকে স্থায়ীভাবে রাষ্ট্রদূত সরিয়ে নিল স্পেন
ইসরায়েল থেকে স্থায়ীভাবে নিজেদের রাষ্ট্রদূত সরিয়ে নিয়েছে স্পেন। এর মাধ্যমে দেশটির সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক সম্পর্কের স্তর কমিয়ে দিল মাদ্রিদ।
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মাদ্রিদ ও পশ্চিম জেরুজালেমের দীর্ঘদিনের তিক্ত সম্পর্ক আরও অবনতি হয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে স্পেনই একমাত্র রাষ্ট্র যারা এই হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়েছে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, 'কারো পাল্টা আঘাতের ভয়ে বিশ্ববাসীর জন্য ক্ষতিকর কোনো কাজে তার দেশ সহযোগী হবে না।'
মঙ্গলবার ইসরায়েলে রাষ্ট্রদূত পদ বিলুপ্ত করার এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেসের এই প্রস্তাবে মন্ত্রিসভা সমর্থন দিয়েছে। এখন থেকে দেশটিতে স্পেনের কূটনৈতিক মিশন একজন 'চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স' (অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান)-এর মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
সাবেক রাষ্ট্রদূত আনা মারিয়া সলোমন পেরেজকে গত বছরের সেপ্টেম্বরেই স্পেনে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য ইসরায়েলে অস্ত্রবাহী জাহাজ ও বিমান চলাচলের ওপর মাদ্রিদ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব শুরু হয়। ইসরায়েল স্পেনের এই নিষেধাজ্ঞাকে 'ইহুদিবিদ্বেষী' বলে অভিহিত করেছিল।
২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার পর থেকে এই সংঘাতের বিষয়ে ইসরায়েলের কঠোর অবস্থানের বারবার নিন্দা জানিয়ে আসছে স্পেন। এমনকি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকেও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে দেশটি।
এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে স্পেনে অবস্থিত যৌথ সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় ওয়াশিংটনের সঙ্গেও মাদ্রিদের সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পেনের সঙ্গে সব ধরণের বাণিজ্য বন্ধের হুমকি দিয়েছেন।
এছাড়া ন্যাটোর নতুন প্রতিরক্ষা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হওয়া নিয়েও স্পেনের সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তবে ট্রাম্পের প্রকাশ্য হুমকি সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্পেনের সম্পর্ক বর্তমানে 'স্বাভাবিক' রয়েছে বলে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন আলবারেস। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ওয়াশিংটন এখন পর্যন্ত মাদ্রিদের বিরুদ্ধে কোনো বৈরী পদক্ষেপ নেয়নি।
আলবারেস বলেন, 'ওয়াশিংটনে আমাদের দূতাবাস স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে এবং সব ধরণের যোগাযোগ বজায় রেখেছে।' একই কথা মাদ্রিদে অবস্থিত মার্কিন মিশনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে তিনি জানান।
