যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল এজেন্টের গুলিতে নিহত ব্যক্তি সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে
যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে বর্ডার প্যাট্রোল কর্মকর্তার গুলিতে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তির নাম অ্যালেক্স প্রেটি। ৩৭ বছর বয়সী এই সেবক (নার্স) এই মাসে শহরটিতে ফেডারেল এজেন্টের গুলিতে নিহত দ্বিতীয় ব্যক্তি।
শহরে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) কর্মকর্তাদের অভিযানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে আবারও রাস্তায় নেমেছেন বিক্ষোভকারীরা। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে কর্তৃপক্ষ টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করেছে।
সর্বশেষ এই গুলিবর্ষণের ঘটনা সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কী জানা গেছে এবং এর ফলাফল কী হতে পারে?
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে
মিনিয়াপোলিসে কিছুদিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। রাজ্যে কল্যাণ তহবিল বা ওয়েলফেয়ার প্রতারণার অভিযোগের পর গত ৬ জানুয়ারি ট্রাম্প প্রশাসন সেখানে ২ হাজার ফেডারেল এজেন্ট মোতায়েন করে।
এটি গত বছরের শেষের দিকে আইস-এর শুরু করা একটি অভিযানের অংশ। ওই অভিযানে মিনিয়াপোলিসের অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়, যাদের বিরুদ্ধে দেশছাড়ার নির্দেশ বা ডিপোর্টেশন অর্ডার ছিল। এর মধ্যে শহরের সোমালি সম্প্রদায়ের সদস্যরাও রয়েছেন।
এজেন্টরা আসার পর থেকেই বিক্ষোভ চলছিল। তবে গত ৮ জানুয়ারি রেনি নিকোল গুড নামের এক মার্কিন নাগরিক গুলিতে নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
নিহত ব্যক্তি কে?
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রেটি ছিলেন একজন শ্বেতাঙ্গ মার্কিন নাগরিক এবং মিনিয়াপোলিসের বাসিন্দা। পুলিশ তাকে একজন বৈধ অস্ত্রধারী হিসেবে বর্ণনা করেছে। এর আগে কেবল পার্কিং টিকিট সংক্রান্ত বিষয়েই আইনশৃঙ্খলারক্ষী বাহিনীর সঙ্গে তার কথা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
নিকোলেট অ্যাভিনিউয়ের একটি কফি ও ডোনাট শপের ভেতর থেকে ধারণ করা একটি ভিডিও বিবিসি যাচাই করেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, এজেন্টরা তাকে ঘিরে ফেলে এবং মাটিতে ফেলে দেয়। গুলির শব্দ শোনার আগে একজনকে তাকে বেশ কয়েকবার আঘাত করতে দেখা যায়। এরপর প্রেটি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ একটি অস্ত্রের ছবি প্রকাশ করেছে। তারা দাবি করছে, প্রেটি এই অস্ত্রটিই বহন করছিলেন।
ফেডারেল কর্তৃপক্ষ যা বলছে
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ নিশ্চিত করেছে যে, ২৪ জানুয়ারি স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৫ মিনিটে (১৫:০৫ জিএমটি) মিনিয়াপোলিসে এক ফেডারেল কর্মকর্তার গুলিতে একজন নিহত হয়েছেন।
মুখপাত্র ট্রিশা ম্যাকলাফলিন জানান, বর্ডার প্যাট্রোল কর্মকর্তারা একজন 'অবৈধ অভিবাসী'র বিরুদ্ধে 'সুনির্দিষ্ট অভিযান' চালাচ্ছিলেন। ওই ব্যক্তি সহিংস হামলার দায়ে অভিযুক্ত ছিলেন। ঠিক তখনই কেউ একজন ৯ এমএম সেমি-অটোমেটিক পিস্তল নিয়ে সেখানে এগিয়ে আসেন।
ম্যাকলাফলিন বলেন, 'কর্মকর্তারা সন্দেহভাজনকে নিরস্ত্র করার চেষ্টা করেন, কিন্তু সশস্ত্র ওই ব্যক্তি সহিংসভাবে বাধা দেন।'
'নিজের ও সহকর্মীদের জীবনের নিরাপত্তার কথা ভেবে এক এজেন্ট আত্মরক্ষার্থে গুলি চালান। ঘটনাস্থলে থাকা চিকিৎসকরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে চিকিৎসা দেন, কিন্তু তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।'
পরে এক সংবাদ সম্মেলনে বর্ডার প্যাট্রোল কমান্ডার গ্রেগ বোভিনো বলেন, ওই এজেন্ট 'আত্মরক্ষার্থে গুলি চালিয়েছিলেন'।
রাজ্য ও শহর কর্তৃপক্ষ যা বলছে
মিনেসোটার গভর্নর ডেমোক্র্যাট দলের টিম ওয়ালজ সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন। তিনি বলেন, ঘটনার পর তিনি হোয়াইট হাউসকে জানিয়েছেন যে মিনেসোটাকেই 'তদন্তের নেতৃত্ব দিতে হবে'।
এক সংবাদ সম্মেলনে মিনিয়াপোলিসের ডেমোক্র্যাট মেয়র জ্যাকব ফ্রে বলেন, আইসিই-এর কার্যক্রম 'শহরে নিরাপত্তা তৈরি করছে না'। এই অভিযানকে তিনি মুখোশধারী এজেন্টদের 'আগ্রাসন' বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, এদের মধ্যে এমন ভাব আছে যেন তাদের কোনো বিচার হবে না।
ফ্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, 'মিনিয়াপোলিসকে গুরুত্ব দিন, আমেরিকাকে সবার আগে রাখুন। এখনই ব্যবস্থা নিন এবং এই ফেডারেল এজেন্টদের সরিয়ে নিন।'
ট্রাম্প যা বলছেন
প্রেসিডেন্ট হোমল্যান্ড সিকিউরিটির পোস্ট করা পিস্তলের ছবিটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, স্থানীয় পুলিশ কোথায় ছিল এবং 'কেন তাদের আইস কর্মকর্তাদের সুরক্ষা দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি?'
তিনি লিখেছেন, 'মেয়র ও গভর্নর কি তাদের সরিয়ে নিয়েছিলেন? বলা হচ্ছে, অনেক পুলিশকে তাদের কাজ করতে দেওয়া হয়নি। ফলে আইস-কে নিজেদের রক্ষা করতে হয়েছে—যা মোটেও সহজ কাজ নয়!'
কোনো প্রমাণ ছাড়াই ট্রাম্প স্থানীয় কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে চুরি ও জালিয়াতি লুকানোর জন্য 'ধামাচাপা দেওয়ার' অভিযোগ আনেন।
তিনি লেখেন, 'মেয়র ও গভর্নর তাদের জাঁকজমকপূর্ণ, বিপজ্জনক ও দাম্ভিক কথাবার্তা দিয়ে বিদ্রোহ উসকে দিচ্ছেন... আমাদের আইসিই দেশপ্রেমিকদের তাদের কাজ করতে দিন!'
