গ্রিনল্যান্ড নিয়ে বিবাদ কি ন্যাটোর ইতি টানবে?
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একগুঁয়েমি কি শেষ পর্যন্ত ন্যাটোর ঐক্যে ফাটল ধরাবে, এমন আরও বিভিন্ন দিক উঠে এসেছে দ্য ইকোনমিস্টের জনপ্রিয় পডকাস্ট 'দ্য ইন্টেলিজেন্স'-এর এই পর্বে। সাক্ষাৎকারে এই বিষয়গুলো নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা করেছেন সঞ্চালক রোজি ব্লাউ এবং দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিরক্ষা সম্পাদক শশাঙ্ক জোশী।
রোজি ব্লাউ: সপ্তাহান্তটা কেটেছে আবারও এক নজিরবিহীন নাটকীয়তায়। ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড পুরোপুরি কিনে নেওয়ার ব্যাপারে নিজের অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ইউরোপের আটটি দেশের আমদানির ওপর তিনি ১০ শতাংশ শুল্ক বা ট্যারিফ আরোপ করেছেন। এই আটটি দেশই ন্যাটোর মিত্র, যারা গ্রিনল্যান্ডকে সমর্থন জানাতে সেখানে সেনা পাঠিয়েছিল। ইউরোপীয় নেতারাও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তারা কোনো দাদাগিরি সহ্য করবেন না। ডেনমার্ক বর্তমানে এই স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটি পরিচালনা করে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ইউরোপ কোনো 'ব্ল্যাকমেইল'-এর কাছে মাথানত করবে না। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডেনিশ এমপি লার্স ক্রিশ্চিয়ান ব্রাস্ক ট্রাম্পের এই হুমকিকে 'ব্যক্তিগত আক্রোশ' হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, 'আপনি একটি দেশের জনসংখ্যাকে বিক্রি করতে পারেন না, এটা আধুনিক দাসত্ব।' কয়েক সপ্তাহ আগেও অনেকে হয়তো মানচিত্রে গ্রিনল্যান্ড খুঁজে পেতে হিমশিম খেতেন। আর এখন এই আর্কটিক দ্বীপটি নিয়েই বিশ্বব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম।
শশাঙ্ক জোশী: আমার মনে হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই মেয়াদে আটলান্টিকের দুই পাড়ের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটিই সবচেয়ে বড় সংকট। অতীতে আমরা যা দেখেছি, তার চেয়ে এটি অনেক বেশি গুরুতর।
রোজি ব্লাউ: শশাঙ্ক জোশী হলেন দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিরক্ষা সম্পাদক।
শশাঙ্ক জোশী: ইউরোপীয়দের প্রতিক্রিয়া থেকে আমরা 'ব্ল্যাকমেইল', 'ভীতি প্রদর্শন' ও 'হুমকি'র মতো শব্দ ব্যবহার করতে দেখেছি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইউরোপীয়দের এভাবে কথা বলতে আমি আগে কখনো দেখিনি। আর এটাই বুঝিয়ে দিচ্ছে যে আমরা কতটা নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে আছি।
রোজি ব্লাউ: শশাঙ্ক, পরিস্থিতি তো সত্যিই অবিশ্বাস্য। আসলেই কি গ্রিনল্যান্ড নিয়ে কেউ যুদ্ধে জড়াতে যাচ্ছে?
শশাঙ্ক জোশী: আমার মনে হয় সরাসরি শক্তি প্রয়োগ বা গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন হামলার চেয়ে—চলমান মার্কিন অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ এবং হাত মুচড়ে দেওয়ার মতো কৌশল চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই অনেক বেশি। তবে আমি একটা বিষয় নিয়ে চিন্তিত। কোনো সেনা অভিযান ছাড়াই হয়তো ট্রাম্প শুধু ঘোষণার মাধ্যমেই গ্রিনল্যান্ডকে আমেরিকার অংশ হিসেবে দাবি করে বসতে পারেন (অ্যানেক্সেশন)। আমি এবং আমার পরিচিত অনেকেই এই পর্যায়ে কোনো কিছুই উড়িয়ে দিচ্ছি না। আগে যেসব বিষয়কে আমরা আজগুবি বা অসম্ভব ভাবতাম, এখন পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে সেগুলোও বাস্তবে ঘটার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
রোজি ব্লাউ: আমাদের একটু মনে করিয়ে দিন, ট্রাম্প আসলে কেন গ্রিনল্যান্ড চান?
শশাঙ্ক জোশী: এর কারণগুলো বারবার পাল্টাচ্ছে। জনসমক্ষে তার সাম্প্রতিক মন্তব্যে তিনি বলেছেন, মিসাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য গ্রিনল্যান্ডের অবস্থান খুব গুরুত্বপূর্ণ। এটা সত্য, কিন্তু গত ৬০ বছর ধরেই তো তা সত্য এবং আমেরিকার মালিকানা ছাড়াই তা চলছে। আরেকটি কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে—ডেনমার্ক ও ইউরোপীয়রা আগামী ১০ বছরে চীন ও রাশিয়ার বিরুদ্ধে গ্রিনল্যান্ডকে রক্ষা করতে পারবে না। কিন্তু এটা ব্যাখ্যা করে না যে, আমেরিকা কেন ইউরোপের অন্যান্য অংশের মতো এখানেও রক্ষায় সাহায্য করতে পারে না। তবে আমার মনে হয়, এই ঘোষিত কারণগুলোর আড়ালে আরও কিছু ব্যাপার আছে। গ্রিনল্যান্ডের নিচে প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ আছে, যদিও সেগুলো তোলা বেশ কঠিন। আর সাধারণভাবে আমার মনে হয়, ট্রাম্প এমন একজন প্রেসিডেন্ট হতে চান যিনি মানচিত্রে আমেরিকার সীমানা আবারও বাড়তে দেখেছেন। এজন্যই তিনি তার অভিষেক ভাষণে ম্যাককিনলির কথা বলেছিলেন, এজন্যই তিনি 'মেনিফেস্ট ডেস্টিনি'র (আমেরিকার সম্প্রসারণবাদ নীতি) কথা তুলেছিলেন। তার মনস্তত্ত্ব সম্পর্কে আমরা যা জানি, তার সঙ্গে এই বিষয়টি বেশ মিলে যায়।
রোজি ব্লাউ: শশাঙ্ক, আপনি ট্রাম্পের কারণে ন্যাটো ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলছেন। কিন্তু ন্যাটোতে তো আগেও ঝগড়া-বিবাদ হয়েছে। এবারেরটা আগের চেয়ে ঠিক কতটা আলাদা?
শশাঙ্ক জোশী: আপনি ঠিক বলেছেন, ন্যাটোতে আগেও বিবাদ হয়েছে। ১৯৭৪ সালে তুরস্কের সাইপ্রাস আগ্রাসন সম্ভবত সবচেয়ে বিখ্যাত উদাহরণ। এতে গ্রিস ও গ্রিক সাইপ্রিয়ট বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি সংঘাত বেধেছিল। ওই ঘটনার পর গ্রিস কয়েক বছর ন্যাটোর সামরিক কমান্ড থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিল। আটলান্টিকে আরও সংঘাত হয়েছে। ব্রিটেন ও আইসল্যান্ডের মধ্যে মাছ ধরার অধিকার নিয়ে বিখ্যাত 'কড ওয়ার' বা কড যুদ্ধের কথা বলা যায়। কিন্তু গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আমেরিকার এই হুমকি ওই সব সংঘাতের চেয়ে অনেক অনেক বেশি গুরুতর। এর মূল কারণ হলো, রোজি, আমেরিকা ন্যাটোর মেরুদণ্ড। প্রতিটি ন্যাটো কমান্ডের রন্ধ্রে রন্ধ্রে জড়িয়ে আছে আমেরিকান সামরিক কর্মকর্তারা। আমেরিকার বিমানশক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য ছাড়া যেকোনো সংঘাতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে টিকে থাকা ন্যাটো বাহিনীর জন্য খুব কঠিন হবে। তাই যে বিবাদ জোটে আমেরিকার ভূমিকা এবং আমেরিকার ওপর ইউরোপীয়দের বিশ্বাসকে হুমকির মুখে ফেলে—তা এই সংস্থার পুরো ইতিহাসে নজিরবিহীন এক অস্তিত্ব সংকট তৈরি করে।
রোজি ব্লাউ: আপনি ভবিষ্যতে ঘটতে পারে এমন অস্তিত্ব সংকটের কথা বলছেন। কিন্তু বর্তমান সংকটের কী হবে? ইউক্রেন যুদ্ধের কী হবে? এই ঘটনায় তার ওপর কী প্রভাব পড়ছে?
শশাঙ্ক জোশী: অদ্ভুত এক পরিস্থিতি, তাই না? ইউরোপীয়রা আমেরিকার 'ব্ল্যাকমেইল' নিয়ে গভীর উদ্বেগে আছে—শব্দটা আমার নয়, এটা সুইডিশ প্রধানমন্ত্রীর, ডেনিশ প্রধানমন্ত্রীর কথা। আবার একই সময়ে তারা ইউক্রেনে যেকোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তি টিকিয়ে রাখতে 'কোয়ালিশন অফ দ্য উইলিং' বা ইচ্ছুক দেশগুলোর জোটের জন্য আমেরিকার সমর্থন চাইছে। খুবই অদ্ভুত এক অবস্থা। এতে বোঝা যায় ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য আমেরিকা অপরিহার্য। আর এখানেই মূল সমস্যা, তাই না? আমেরিকা যদি ডেনমার্কের মতো এক মিত্রকে ভেঙে দিতে চায়, তবে ন্যাটোর সনদের ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ (আর্টিকেল ৫) অনুযায়ী রাশিয়ার আক্রমণে অন্য মিত্রের পাশে তারা দাঁড়াবে—এই বিশ্বাস কে করবে? ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের ওপর আস্থা এমনিতেই কমছিল। জো বাইডেন যেভাবে এই জোটগুলোকে পবিত্র দায়িত্ব মনে করতেন, ট্রাম্প তেমন মানুষ নন। আমি বলব না যে এগুলো ন্যাটোর কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিচ্ছে। এখনই সেটা বলা বাড়াবাড়ি হবে। কিন্তু আমি মনে করি, গ্রিনল্যান্ড ও ইউরোপের ওপর এই সাম্প্রতিক হামলার আগেই ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের ওপর যেটুকু বিশ্বাস অবশিষ্ট ছিল, তা এখন গভীরভাবে ক্ষয়ে যাচ্ছে।
রোজি ব্লাউ: ট্রাম্প কি আসলেই এভাবে ন্যাটোকে ক্ষয়ে যাওয়ার ঝুঁকির মুখে ফেলবেন? আমেরিকা তো ইউরোপের ওপর নির্ভর করে, ন্যাটোর ওপর নির্ভর করে, ওই জোটের ওপরও তো তাদের নির্ভরতা আছে।
শশাঙ্ক জোশী: অবশ্যই, বিষয়টিকে দেখার একটি যৌক্তিক উপায় আছে। তা হলো, শুধু অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিকভাবে নয়, সামরিকভাবেও আমেরিকার জন্য ইউরোপ অপরিহার্য। এই শো-তে আমরা আগেই আলোচনা করেছিলাম 'বেলা ১' নামের ভেনেজুয়েলান তেল ট্যাঙ্কার আইসল্যান্ডের জলসীমা থেকে আমেরিকা কীভাবে আটক করেছিল। আমেরিকা কি জাদুবলে উত্তর আটলান্টিকের মাঝখানে পৌঁছে গিয়েছিল? না, তারা যুক্তরাজ্যের ঘাঁটি ব্যবহার করে সেখানে বাহিনী পাঠিয়েছিল। আর জানেন, ওই অভিযানে আর কে সাহায্য করেছিল? ডেনমার্ক। আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে শক্তি প্রদর্শনের জন্য ইউরোপের ঘাঁটিগুলোর ওপর আমেরিকা কতটা নির্ভরশীল, তা দেখুন। জার্মানির রামস্টেইন বিমানঘাঁটির বিশাল গুরুত্বের দিকে তাকান, যা আমেরিকার বিশাল লজিস্টিক ও মেডিকেল হাব। এটা হলো যৌক্তিক দৃষ্টিভঙ্গি। কিন্তু আপনি যদি প্রশাসনের ভেতরে থাকেন, তবে ভাবতে পারেন—ইউরোপীয়রা নতি স্বীকার করবে, তারা ভেঙে পড়বে, কারণ তারা আমাদের ওপর নির্ভরশীল। তাই ঝুঁকির কিছু নেই। আর আমার মনে হয় প্রশাসনের উপদেষ্টাদের মধ্যে একটি ছোট অংশ—যারা হয়তো সবচেয়ে প্রভাবশালী নন—তারা ভাবেন, যদি এতে ন্যাটোতে সংকট তৈরি হয় এবং জোট ভেঙেও যায়, তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কারো কারো মতে, 'সেটা খুব একটা খারাপ হবে না'।
রোজি ব্লাউ: আর যদি তা-ই ঘটে, যদি ন্যাটো ভেঙে যায়, তবে ইউরোপীয়দের অবস্থা কী হবে?
শশাঙ্ক জোশী: গত কয়েক বছরে প্রতিটা সংকটের সময় আমরা এই আলোচনা বহুবার করেছি, তাই না? ইউরোপ আমেরিকার ওপর কতভাবে নির্ভরশীল তা আমি আর নতুন করে বলব না। গোয়েন্দা তথ্য, বিমান সহায়তা, লজিস্টিকস, আকাশে জ্বালানি ভরার ট্যাঙ্কার, কমান্ড পোস্টের সিনিয়র অফিসার—এসব আপনারা জানেন। আমি যা বলব তা হলো, ইউরোপীয়রা এই সমস্যাটি খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। আমেরিকা ছাড়া ইউরোপের সমস্যাটা খুবই গুরুতর। এটা টাকার সমস্যা নয়। আমেরিকার রেখে যাওয়া এই শূন্যস্থান পূরণ করতে এবং সব ছিদ্র মেরামত করতে হয়তো বছরের পর বছর লেগে যাবে। আর এই জ্ঞান বা উপলব্ধির কারণেই ইউরোপীয়রা সতর্ক পদক্ষেপ নেবে। কিন্তু 'সতর্ক' মানে এই নয় যে তারা 'মেরুদণ্ডহীন' আচরণ করবে। আমরা দেখব তারা পাল্টা আঘাত করবে। ইউরোপ থেকে আমরা ইতিমধ্যেই বেশ কড়া ভাষা শুনতে পাচ্ছি।
রোজি ব্লাউ: তাহলে এর শেষ কোথায়, শশাঙ্ক? ন্যাটো কি শেষ?
শশাঙ্ক জোশী: না, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি ন্যাটো শেষ হয়ে যায়নি। দেখুন, এটি এই গ্রহের সবচেয়ে বড়, প্রাচীনতম এবং সবচেয়ে সফল চলমান জোট। একজন মানুষের খেয়ালখুশিতে ভেঙে যাওয়ার মতো এটি ছোট বা ঠুনকো নয়। অবশ্যই তিনি বেরিয়ে যেতে পারেন এবং তাতে বিশাল ক্ষতি হবে। তবে আমার মনে হয় তিনি যে পথে হাঁটছেন—এটা ভেনেজুয়েলার মতো নয়, এটা ইরানকে বোমা মারার মতো। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ইউরোপীয়দের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করা, কিংবা সেখানে হামলা বা আগ্রাসন চালানোর ধারণা—খোদ আমেরিকাতেই অত্যন্ত অজনপ্রিয়। কংগ্রেসে অনেকেই এর বিরোধিতা করছেন, এমনকি রিপাবলিকানরাও। যদিও সত্যি বলতে, ট্রাম্প যখন অন্য ইস্যুতে আইনের সীমা বা কংগ্রেসের বিরোধিতাকে পাত্তা দেননি, তখন এই রিপাবলিকানরাই মেরুদণ্ডহীনের মতো আচরণ করেছে। তবে আমার ধারণা অনেক উপদেষ্টা তাকে বলবেন, 'মিস্টার প্রেসিডেন্ট, আপনি অবশ্যই আপনার ক্ষমতা ব্যবহার করুন, ইউরোপীয়দের হুমকি দিন। কিন্তু বাস্তবে পদক্ষেপ নেওয়াটা হবে পাগলামি।' কারণ এতে বাণিজ্য থেকে শুরু করে প্রযুক্তি কোম্পানি, এমনকি ইউরোপে আমাদের ঘাঁটির প্রবেশাধিকার—সব ক্ষেত্রেই ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে। আমার মনে হয় না যুক্তরাষ্ট্র এখনই সেই পথে যেতে রাজি। তবে ইউরোপকে এখন সেই পৃথিবীর কথা ভাবতেই হবে। এটি দীর্ঘদিন পর আমাদের সামনে আসা সবচেয়ে গুরুতর সংকট। গত বছর মিউনিখে জেডি ভ্যান্স ইউরোপীয়দের যে লেকচার দিয়েছিলেন, তার চেয়েও এটি গুরুতর। এবারের অনুভূতিটা একদম অন্যরকম। আর সে কারণেই ইউরোপীয় নেতারা উঠে দাঁড়িয়ে এমনভাবে কথা বলছেন যা অতীতে তারা বলেননি। তবে যা-ই ঘটুক, ট্রাম্পের খামখেয়ালি আচরণ এবং ইউরোপের ওপর ক্রমাগত আক্রমণ দেখে ইউরোপীয়রা বুঝতে পারছে, এই ইস্যু মিটে গেলেও তাদের অনেক দ্রুত এবং সিরিয়াসলি এমন এক ইউরোপীয় প্রতিরক্ষার পথে হাঁটতে হবে, যেখানে আমেরিকার উপস্থিতি থাকবে নামমাত্র।
রোজি ব্লাউ: শশাঙ্ক, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
শশাঙ্ক জোশী: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ, রোজি।
