ট্রাম্পের গাজা 'বোর্ড অভ পিস'-এ যোগ দেওয়ার প্রস্তাবে 'না' বলে দিল ফ্রান্স
গাজার যুদ্ধপরবর্তী শাসন ও পুনর্গঠন তদারকিতে 'বোর্ড অভ পিস' বা শান্তি বোর্ড গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু ফ্রান্স সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা ট্রাম্পের এই বোর্ডে যোগ দেবে না।
যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ডজনখানেক বিশ্বনেতাকে এই বোর্ডে যোগ দিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। শোনা যাচ্ছে, এতে তিন বছরের জন্য সদস্য হওয়ার সুযোগ থাকছে। আর ১ বিলিয়ন ডলার দিলে মিলবে স্থায়ী আসন। অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটিক প্রশাসনের পাশাপাশি কাজ করবে এই বোর্ড।
ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো সোমবার বলেন, প্যারিসকে অবশ্যই 'না' বলতে হবে। কারণ হিসেবে তিনি জানান, বর্তমানে 'বোর্ড অভ পিস'-এর সনদের আওতা গাজা ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত। এটি জাতিসংঘ অনুমোদিত শান্তি পরিকল্পনার সীমানা অতিক্রম করে গেছে।
আরএফআই-এর বরাতে বারো আরও বলেন, 'সনদের বর্তমান ভাষা ফ্রান্সের আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।'
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, গত নভেম্বরে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ২০ দফার যে পরিকল্পনা অনুমোদন করেছিল, তা বাস্তবায়নে এই বোর্ড 'অপরিহার্য ভূমিকা' পালন করবে।
বোর্ডের নির্বাহী শাখায় থাকবেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ। এ ছাড়া প্রেসিডেন্টের জামাতা ও আলোচক জ্যারেড কুশনারও থাকছেন এই দলে।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প আশা করছেন আগামী বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিতব্য অর্থনৈতিক ফোরামে বিভিন্ন দেশ এই বোর্ডে সই করবে।
বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইউরোপীয় রাজনীতিবিদরা ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম আই২৪নিউজ জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বর্তমান মনোভাব বেশ 'নার্ভাস ও সন্দেহপূর্ণ'।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নীতিগতভাবে এই বোর্ড গঠনকে সমর্থন করেন। তবে তিনিও স্বীকার করেছেন যে, এ নিয়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
এদিকে ক্রেমলিন জানিয়েছে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকেও 'বোর্ড অভ পিস'-এ যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তিনি প্রস্তাবটি খতিয়ে দেখছেন।
