যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোতে থাকবেই—এমন ‘প্রতিশ্রুতি’ আমি দিতে পারছি না: ন্যাটোর সাবেক মহাসচিব
ন্যাটোর সাবেক মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ সম্প্রতি 'ডের স্পিগেল'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই জোটে (ন্যাটো) থাকবে কি না সে বিষয়ে তিনি কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে পারছেন না। তিনি আরও বলেন, গ্রিনল্যান্ড দখল করার বিষয়ে ওয়াশিংটন যখন তার ইচ্ছার কথা জানায়, তখন ইউরোপীয় দেশগুলোর উচিত সেটিকে গুরুত্বের সাথে নেওয়া।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি খনিজ সমৃদ্ধ আর্কটিক দ্বীপটি দখল করার প্রচেষ্টা আবারও নতুন করে জোরদার করেছেন। তিনি এটাও নাকচ করেননি যে, ন্যাটো যদি তার এই আকাঙ্ক্ষার বিরোধিতা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র জোট থেকে সরে যেতে পারে। এতে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে উত্তেজনা বেড়েছে এবং ন্যাটোর ঐক্য ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
স্টলটেনবার্গ ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতিক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি নর্ডিক দেশগুলো, জার্মানি এবং অন্যান্য ইউরোপীয় রাষ্ট্রের যৌথ বিবৃতির কথা উল্লেখ করেন, যেখানে কোপেনহেগেনের প্রতি সমর্থন জানানো হয়েছে এবং গ্রিনল্যান্ড যে ডেনমার্কের রাজ্যের অংশ—তা পুনরায় নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ন্যাটোর মিত্রদের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করা অপরিহার্য।
ন্যাটোর সাবেক এই প্রধান বলেন, 'আমাদের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে হবে, আর এর অর্থ হলো—মতবিরোধ হলে তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা।'
ডেনমার্ক জোর দিয়ে বলছে যে, এই দ্বীপটি বিক্রির জন্য নয় এবং এর ভবিষ্যৎ অবশ্যই সেখানকার বাসিন্দাদের দ্বারা নির্ধারিত হতে হবে। উল্লেখ্য যে, ২০০৮ সালে গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দারা ডেনিশ সাম্রাজ্যের অধীনে নিজেদের স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন, যার মধ্যে খনিজ সম্পদ উত্তোলনের নিয়মাবলি নিয়ন্ত্রণের অধিকারও রয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, কেবল যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বই দ্বীপটিকে চীন বা রাশিয়ার দখলে চলে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে। তবে এই অভিযোগ চীন ও রাশিয়া—উভয় দেশই প্রত্যাখ্যান করেছে।
তিনি (ট্রাম্প) শুক্রবার সতর্ক করে বলেছেন, যেসব বাণিজ্যিক অংশীদার দেশ গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রচেষ্টায় সমর্থন দিতে অস্বীকার করবে, তাদের ওপর তিনি শুল্ক আরোপ করার চিন্তা করছেন।
গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন 'মৌলিক মতপার্থক্য'-এর কথা স্বীকার করেন। তবে তিনি আশা করছেন নতুন প্রতিষ্ঠিত একটি দ্বিপাক্ষিক কার্যকরী দল এই সমস্যা সমাধানে সাহায্য করবে।
এদিকে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্রান্স ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে বলেছে, গ্রিনল্যান্ড দখলের যেকোনো চেষ্টা হবে 'সীমা লঙ্ঘন' এবং এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে হুমকির মুখে ফেলবে।
আগামী সপ্তাহের শেষে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া 'আর্কটিক এন্ডিউরেন্স' মহড়ার আগে ডেনমার্ক—ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন, নরওয়ে এবং যুক্তরাজ্যের সাথে একত্রিত হয়ে দ্বীপটিতে ছোট ছোট সেনাদল পাঠিয়েছে।
