সামরিক আইন জারির চেষ্টার দায়ে দ. কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের ৫ বছরের কারাদণ্ড
দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইয়োলকে ২০২৪ সালে ব্যর্থ সামরিক আইন জারির প্রচেষ্টার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্ষমতার অপব্যবহার, বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি এবং নথি জালিয়াতির অভিযোগে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এটি তার সামরিক আইন ঘোষণাকে কেন্দ্র করে চলমান চারটি বিচারের মধ্যে প্রথম রায়। সামরিক আইনটি স্বল্পস্থায়ী হলেও দেশজুড়ে ব্যাপক অস্থিরতা সৃষ্টি করেছিল। ইউনের সিদ্ধান্ত বাতিল করতে সংসদ সদস্যরা দ্রুত জাতীয় সংসদে গেলে সারা দেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
শুক্রবার এক বিচারক বলেন, ইউনের কর্মকাণ্ড 'দেশকে রাজনৈতিক সংকটে নিমজ্জিত করেছে'।
তিনি বলেন, ইউন 'এখনও পর্যন্ত কোনো অনুশোচনা দেখাননি'।
শুক্রবারের এই রায় থেকে ইউনের বাকি মামলাগুলোর সম্ভাব্য গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে শুরু করে নির্বাচনি আইন লঙ্ঘন।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো রাষ্ট্রদ্রোহ (বিদ্রোহ), যার জন্য প্রসিকিউশন মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানিয়েছে। ওই মামলার রায় ফেব্রুয়ারিতে দেওয়া হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
শুক্রবার প্রায় ১০০ জন ইউনের সমর্থক আদালতের বাইরে জড়ো হয়েছিলেন। তারা বড় পর্দায় সরাসরি সম্প্রচারিত বিচার কার্যক্রম দেখছিলেন।
তাদের মধ্যে কয়েকজন লাল ব্যানার ধরে ছিলেন, যাতে লেখা ছিল: 'ইউন, আবার! কোরিয়াকে আবার মহান করো।'
রায় ঘোষণার সময় কয়েকজন বিচারকের উদ্দেশে চিৎকার করছিলেন, আবার কেউ কেউ নীরব ও গম্ভীরভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
প্রেসিডেন্টের দেহরক্ষীদের ব্যবহার করে গ্রেপ্তার ঠেকানোর চেষ্টা, সামরিক আইন ঘোষণার আগে পুরো মন্ত্রিসভার সঙ্গে পরামর্শ না করা এবং প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর অনুমোদনের দাবি করে জাল নথি তৈরি ও পরে তা ধ্বংস করার অভিযোগে রায়ে ইউনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
বিচারক বলেন, 'অভিযুক্তের দায়িত্ব ছিল সংবিধান ও আইন রক্ষা করা, কিন্তু তিনি তা করেননি।'
এই মামলায় প্রসিকিউশন ১০ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছিল। রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের জন্য উভয় পক্ষকে সাত দিন সময় দেওয়া হয়েছে।
ইউন অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাটিই অবৈধ ছিল এবং জরুরি ক্ষমতা প্রয়োগের আগে মন্ত্রিসভার প্রতিটি সদস্যের সঙ্গে পরামর্শ করার বাধ্যবাধকতা আইনে নেই।
তিনি তার সব বিচারে দাবি করেছেন যে তদন্তকারী সংস্থাগুলোর তাকে তদন্ত ও গ্রেপ্তার করার কোনো আইনি ভিত্তি ছিল না।
তার মতে, সামরিক আইন ঘোষণার সময় কোনো প্রক্রিয়াগত ত্রুটি না থাকায় তার বিরুদ্ধে আনা অধিকাংশ অভিযোগই অবৈধ।
দক্ষিণ কোরিয়ার আদালতগুলোতে সাধারণত অভিযুক্ত ব্যক্তি অপরাধ স্বীকার করলে বা দায় স্বীকার করলে শাস্তিতে নমনীয়তা দেখানো হয়।
তবে প্রসিকিউটররা যুক্তি দিয়েছেন, ইউন অনুশোচনা না করায় তার কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।
২০২১ সালে ক্ষমতার অপব্যবহার ও ঘুষ গ্রহণের দায়ে ২০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পার্ক গিউন-হে ছিলেন শেষ সাবেক প্রেসিডেন্ট, যিনি ফৌজদারি মামলায় কারাগারে গিয়েছিলেন। তবে পরে তাকে ক্ষমা করে অল্প সময়ের মধ্যেই মুক্তি দেওয়া হয়।
ইউনের সামরিক আইন জারির চেষ্টার ছয় মাস পর, ভোটাররা বিরোধীদলীয় নেতা লি জে-মিয়ংকে বড় ব্যবধানে বিজয়ী করে নির্বাচিত করেন।
ইউনের বিচার দক্ষিণ কোরিয়ার গভীর রাজনৈতিক বিভাজনকে আবার সামনে এনেছে। সাবেক এই প্রেসিডেন্টের এখনও শক্ত সমর্থন রয়েছে।
গত ডিসেম্বর পরিচালিত এক জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৩০% দক্ষিণ কোরীয় মনে করেন না যে ইউনের সামরিক আইন ঘোষণা রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল ছিল।
