ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের বাসভবনের মূল্যবান ‘গ্লাস-প্লেট’ চুরির দায়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিচার শুরু
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের বাসভবন এলিসি প্রাসাদের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মূল্যবান তৈজসপত্র চুরির অভিযোগে বিচার শুরু হতে যাচ্ছে। চুরি হওয়া এসব জিনিসের মধ্যে অত্যন্ত দামি 'বাকারাত' শ্যাম্পেন গ্লাস এবং 'সেভ্রেস' পোরসেলিন প্লেট রয়েছে। খবর বিবিসির।
প্রেসিডেন্টের সংগ্রহশালা থেকে নিখোঁজ হওয়া প্রায় ১০০টি বস্তু থমাস এম-এর লকার, গাড়ি এবং বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। জানা গেছে, থমাস এম. এলিসি প্রাসাদের প্রধান বাটলার বা খানসামা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাকেসহ আরও দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই মামলার বিচার কাজ চলবে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত এসব জিনিসের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার ইউরোর (প্রায় ১৩ হাজার থেকে ৩৫ হাজার পাউন্ড) মধ্যে। এর মধ্যে কিছু আইটেম তারা অভিযুক্তের 'ভিনটেড' (একটি অনলাইন কেনাবেচার প্ল্যাটফর্ম) অ্যাকাউন্টেও বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত দেখতে পেয়েছেন।
প্যারিসের ল্যুভর মিউজিয়ামে ৮৮ মিলিয়ন ইউরো মূল্যের গয়না চুরির এক দুঃসাহসিক ঘটনার মাত্র কয়েক মাস পরেই এই চুরির খবরটি সামনে এলো।
ফরাসি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, থমাস এম এলিসি প্রাসাদের প্রধান বাটলার ও মূল্যবান রুপার সামগ্রীর তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। রাষ্ট্রীয় নৈশভোজ ও অন্যান্য মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানে টেবিল সাজানোর কাজও তার দায়িত্বের মধ্যে ছিল।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি গত কয়েক মাস ধরে অত্যন্ত সুকৌশলে অল্প অল্প করে এসব সামগ্রী সরিয়ে ফেলতেন এবং নিজের অপরাধ ঢাকতে প্রাসাদের নথিপত্র জালিয়াতি করতেন।
চুরি হওয়া এসব জিনিসের মধ্যে খাটি রুপার তৈরি চামচ-কাঁটা-চামচ এবং বিখ্যাত ডিজাইনার রেনে লালিকের তৈরি একটি অত্যন্ত দামি শৌখিন মূর্তিও রয়েছে।
প্রসিকিউটরদের (সরকারি কৌঁসুলি) দাবি, থমাস এম.-এর কাছে থাকা একটি তালিকা (ইনভেন্টরি) দেখে বোঝা যাচ্ছে যে, তিনি প্রাসাদ থেকে আরও বিপুল পরিমাণ মালামাল চুরির পরিকল্পনা করছিলেন।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম টিএফ১ ইনফোর তথ্য অনুযায়ী, এলিসি প্রাসাদ ইতোমধ্যেই তার পরিবর্তে নতুন কাউকে নিয়োগ দিতে একটি চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।
ফ্রান্সের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পোরসেলিন কারখানা 'সেভ্রেস'-এর কর্মকর্তারাও অনলাইন নিলামের সাইটগুলোতে তাদের তৈরি করা কিছু পণ্য শনাক্ত করেছেন। এর মধ্যে বিমান বাহিনীর বিশেষ সিল সংবলিত প্লেট এবং অ্যাশট্রে বা ছাইদানিও রয়েছে।
চুরির সন্দেহে থমাস এমকে গত মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) গ্রেপ্তার করা হয়। তার সঙ্গে গ্রেপ্তার হন তার সঙ্গী ড্যামিয়েন জি, যিনি একজন সংগ্রাহক এবং একটি অনলাইন নিলামকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক।
এর একদিন পর ঘিসলাইন এম. নামে তৃতীয় এক ব্যক্তিকে চোরাই মাল গ্রহণ করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। তার আইনজীবীর দাবি, বিরল প্রাচীন সামগ্রীর প্রতি তার 'আসক্তি' থেকেই তিনি এই ঘটনার সাথে জড়িয়ে পড়েছেন।
এই খবরটি প্রথম প্রকাশ করে ফরাসি সংবাদপত্র 'লে প্যারিসিয়ান'। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘিসলাইন ওই সময় ল্যুভর মিউজিয়ামের একজন রক্ষী বা গার্ড হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার মিউজিয়ামে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
আগামী ফেব্রুয়ারিতে এই মামলার বিচার কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
