রুশ সেনারা ইউক্রেনের পোকরোভস্ক শহর ঘিরে ফেলেছে: দাবি পুতিনের
রুশ বাহিনী ইউক্রেনের শহর পোকরোভস্ককে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেছে এবং এর প্রায় ৭০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তবে ইউক্রেনের শীর্ষ জেনারেল বলেন, তাদের সেনারা শক্তভাবে পাল্টা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে এবং শহরের কেন্দ্র জুড়ে তীব্র লড়াই চলছে।
মস্কো ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে পোকরোভস্কের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। রুশরা এই শহরকে এর সোভিয়েত-যুগের নাম 'ক্রাসনোআরমেইস্ক' বলে ডাকে। দোনবাসের বৃহত্তর শিল্পাঞ্চল পুরোপুরি দখলে নেওয়ার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে রাশিয়া এ অভিযান চালাচ্ছে।
শহরটির ওপর সরাসরি ব্যাপক আক্রমণ চালানোর বদলে রুশ বাহিনী কৌশলে তার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। শহরটিতে একসময় ৬০ হাজারের বেশি মানুষ বসবাস করত এবং এটি ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক্স ঘাঁটি।
রাশিয়া 'পিঞ্চার মুভমেন্টের' মাধ্যমে ধীরে ধীরে শহরটিকে ঘিরে ফেলছে। তারা শুরুতে ছোট ছোট আক্রমণকারী দল পাঠিয়ে, পরে বড় আকারের দল পাঠিয়ে ধীরে ধীরে অগ্রসর হয়েছে।
মস্কো বলছে, রুশ গণমাধ্যম যাকে 'দোনেৎস্কের প্রবেশদ্বার' বলে আখ্যা দিয়েছে সেই পোকরোভস্ক দখল করতে পারলে তারা উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে দোনেৎস্ক অঞ্চলের ইউক্রেনীয় নিয়ন্ত্রণে থাকা বাকি দুটি বড় শহর—ক্রামাতোরস্ক ও স্লোভিয়ানস্ক—অভিমুখে আঘাত হানার সুযোগ পাবে।
শহরটির ওপর চাপ বাড়ছে এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী এই সংঘাতের অবসান করতে একটি সম্ভাব্য শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে। উভয় পক্ষই যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের এগিয়ে থাকা প্রদর্শন করতে আগ্রহী, কারণ তা যেকোনো আলোচনায় তাদের অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারে।
বৃহস্পতিবার কিরগিজস্তানে এক সংবাদ সম্মেলনে পুতিন বলেন, পোকরোভস্ক এবং পাশের শহর মিরনোহ্রাদে (যাকে রুশরা দিমিত্রভ বলে) অবস্থানরত ইউক্রেনীয় বাহিনী গুরুতর সমস্যায় আছে এবং ইউক্রেনের ফ্রন্টলাইনের কিছু অংশ ভেঙে পড়তে পারে।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, 'ক্রাসনোআরমেইস্ক (পোকরোভস্ক) এবং দিমিত্রভ (মিরনোহ্রাদ) পুরোপুরি ঘিরে ফেলা হয়েছে,' এবং দাবি করেন যে এই লড়াইয়ে কিয়েভের সবচেয়ে যুদ্ধবাজ বাহিনীগুলোর কিছু অংশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
পুতিন বলেন, 'ক্রাসনোআরমেইস্কের (পোকরোভস্ক) ভূখণ্ডের ৭০ শতাংশ রুশ সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। দিমিত্রভ (মিরনোহ্রাদ) শহরের দক্ষিণ অংশে শত্রু বাহিনী বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তারা পুরো শহরজুড়ে ছড়িয়ে আছে। আর আমাদের সেনারা তাদের নিয়মতান্ত্রিকভাবে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।'
বৃহস্পতিবার এর আগে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের আক্রমণকারী ইউনিটগুলো পোকরোভস্কের কেন্দ্র ও উত্তরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং মিরনোহ্রাদের পূর্ব, পশ্চিম ও দক্ষিণ দিকেও রুশ বাহিনী অগ্রগতি অর্জন করেছে।
তবে ইউক্রেনের শীর্ষ সেনাপ্রধান ওলেক্সান্দর সিরস্কি ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেছেন, পোকরোভস্ক ও মিরনোহ্রাদের ওপর রাশিয়ার নতুন হামলা চালানোর চেষ্টা ইউক্রেনীয় বাহিনী প্রতিহত করছে।
সিরস্কি আরও বলেন, রাশিয়া ওই এলাকায় অতিরিক্ত রিজার্ভ সেনা পাঠাতে বাধ্য হয়েছে।
আলাদাভাবে ইউক্রেনের 'অপারেশনাল টাস্ক ফোর্স ইস্ট' জানিয়েছে, তাদের সেনারা পোকরোভস্ক রেলস্টেশনের দক্ষিণে অভিযান চালাচ্ছে এবং শহরের কেন্দ্রজুড়ে তীব্র লড়াই অব্যাহত রয়েছে।
রয়টার্স যুদ্ধক্ষেত্র নিয়ে উভয় পক্ষের দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি এবং দুই পক্ষের প্রকাশিত মানচিত্রও একে অপরের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
রুশ মানচিত্রে দেখা যাচ্ছে, পোকরোভস্ক পুরোপুরি মস্কোর নিয়ন্ত্রণে এবং পাশের মিরনোহ্রাদে ইউক্রেনীয় বাহিনী ঘেরাও অবস্থায় রয়েছে।
অন্যদিকে ইউক্রেনীয় মানচিত্রে পোকরোভস্ককে 'ধূসর এলাকা' হিসেবে দেখানো হয়েছে—অর্থাৎ কোনো পক্ষই পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি—এবং মিরনোহ্রাদ সম্পূর্ণভাবে ঘেরাও নয় বলে দেখানো হয়েছে।
