নেটওয়ার্ক বিভ্রাটে বিশ্বজুড়ে এক্স, চ্যাটজিপিটিসহ বহু ওয়েবসাইট অচল: ক্ষমা চাইল ক্লাউডফ্লেয়ার
মঙ্গলবার এক্স (সাবেক টুইটার) এবং চ্যাটজিপিটি-সহ বিশ্বের বহু জনপ্রিয় ওয়েবসাইট হঠাৎ বিকল হয়ে পড়েছিল। এর কারণ, ইন্টারনেট অবকাঠামো খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ক্লাউডফ্লেয়ারের নেটওয়ার্কে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছিল।
জিএমটি সময় সকাল সাড়ে ১১টার পর থেকেই হাজার হাজার ব্যবহারকারী এই ওয়েবসাইটগুলো ছাড়াও আরও অনেক পরিষেবা নিয়ে বিভ্রাট পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ডাউনডিটেক্টরে অভিযোগ জানাতে শুরু করেন।
ক্লাউডফ্লেয়ার জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ ইন্টারনেট ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনার জন্য তৈরি একটি কনফিগারেশন ফাইল ঠিকমতো কাজ না করায় তাদের সফটওয়্যারে 'ক্র্যাশ' ঘটে এবং এই 'বড় ধরনের বিভ্রাট'দেখা দেয়।
নিজেদের এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি ক্ষমা চেয়ে বলেছে, 'আজ আপনাদের হতাশ করার জন্য আমরা আমাদের গ্রাহক এবং পুরো ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের কাছে ক্ষমা চাইছি।'
কোম্পানিটি আরও যোগ করে, 'ক্লাউডফ্লেয়ারের পরিষেবার গুরুত্ব বিবেচনা করলে, যেকোনো ধরনের বিভ্রাটই অগ্রহণযোগ্য।'
তারা জানিয়েছে, যদিও সমস্যাটির সমাধান করা হয়েছে, তবুও কিছু পরিষেবা পুরোপুরি অনলাইনে ফিরে আসার সময় সাময়িক ত্রুটির সম্মুখীন হতে পারে।
এই বিভ্রাটের কারণে বিশ্বজুড়ে অসংখ্য অ্যাপ এবং ওয়েবসাইট বন্ধ হয়। গ্রাইন্ডার, জুম এবং ক্যানভার মতো পরিষেবা ব্যবহার করার সময় ব্যবহারকারীরা বিলম্ব বা প্রযুক্তিগত সমস্যার কথা জানান।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার) এর হোমপেজে কিছু ব্যবহারকারী একটি বার্তা দেখতে পান, যেখানে বলা হয় ক্লাউডফ্লেয়ারের ত্রুটির কারণে তাদের অভ্যন্তরীণ সার্ভারে সমস্যা হচ্ছে।
একইভাবে, চ্যাটজিপিটি-র সাইটেও একটি ত্রুটির বার্তা দেখানো হচ্ছিল, যেখানে লেখা ছিল: 'এগিয়ে যেতে দয়া করে চ্যালেঞ্জেস ডট ক্লাউডফ্লেয়ার ডট কম আনব্লক করুন।'
ক্লাউডফ্লেয়ার আসলে কী?
ক্লাউডফ্লেয়ার হলো বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট নিরাপত্তা প্রদানকারী একটি বিশাল প্রতিষ্ঠান। তাদের অন্যতম প্রধান কাজ হলো, কোনো ওয়েবসাইটে মানুষ প্রবেশ করছে নাকি স্বয়ংক্রিয় বট, তা পরীক্ষা করার মতো সেবা দেওয়া।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বিশ্বের প্রায় ২০% ওয়েবসাইট কোনো না কোনোভাবে তাদের পরিষেবা ব্যবহার করে।
বিভ্রাটের ব্যাপকতা এতটাই ছিল যে, ডাউনডিটেক্টর ওয়েবসাইটটি নিজেই একটি ত্রুটির বার্তা দেখাচ্ছিল। কারণ, অন্য ওয়েবসাইট ডাউন হলে মানুষ সাধারণত এই সাইটেই ভিড় জমায়, আর সেদিন এটিও বিভ্রাটের শিকার হয়।
ওয়েব পরিষেবা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা নেটব্লকসের পরিচালক আল্প টোকার বলেন, এই বিভ্রাটটি 'ক্লাউডফ্লেয়ারের অবকাঠামোতে একটি বিপর্যয়কর ভাঙনের' ইঙ্গিত দেয়।
তিনি বিবিসিকে বলেন, 'আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে 'ডিডস' সাইবার হামলা থেকে বাঁচতে ইন্টারনেটের একটি বিশাল অংশকে ক্লাউডফ্লেয়ারের অবকাঠামোর আড়ালে আশ্রয় নিতে হয়েছে।' তিনি তুলে ধরেন যে, ক্লাউডফ্লেয়ারের মূল কাজই হলো ক্ষতিকর ট্র্যাফিক রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে কোনো ওয়েবসাইটকে অচল করে দেওয়ার চেষ্টা থেকে রক্ষা করা।
তিনি আরও বলেন, এর ফলে এবং তাদের পরিষেবার সুবিধার কারণে, ক্লাউডফ্লেয়ার এখন 'ইন্টারনেটের সবচেয়ে বড় 'একক ব্যর্থতার কেন্দ্রবিন্দু' হয়ে উঠেছে।'
ক্লাউডফ্লেয়ার জোর দিয়ে বলেছে যে, সমস্যাটি একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণেই ঘটেছে। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, 'পরিষ্কার করে বলছি, এটি কোনো হামলার ফল বা ক্ষতিকর কার্যকলাপের কারণে ঘটেছে, এমন কোনো প্রমাণ নেই।'
জিএমটি সময় বিকেল ৩টার দিকে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম প্রায় ৩% কমে যায়।
গত মাসে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস-এ একটি বিভ্রাটের কারণে ১,০০০-এরও বেশি সাইট এবং অ্যাপ অফলাইন হয়ে গিয়েছিল। এর কিছুদিন পরেই আরেক বড় পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট অ্যাজুর-ও ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
ইসেট-এর গ্লোবাল সাইবারসিকিউরিটি উপদেষ্টা জেক মুর বলেন, 'গত কয়েক মাসে ঘটে যাওয়া এই বিভ্রাটগুলো আবারও প্রমাণ করেছে যে আমরা এই ভঙ্গুর নেটওয়ার্কগুলোর ওপর কতটা নির্ভরশীল।'
তিনি আরও বলেন, 'অন্য কোনো ভালো বিকল্প না থাকায় কোম্পানিগুলো প্রায়ই তাদের ওয়েবসাইট ও পরিষেবা হোস্ট করার জন্য ক্লাউডফ্লেয়ার, মাইক্রোসফট এবং অ্যামাজনের মতো প্রতিষ্ঠানের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করতে বাধ্য হয়।'
