যেভাবে অনলাইনে 'মামদানি স্টাইল' অনুকরণ করছেন ডেমোক্র্যাটরা
অনলাইন ভোটারদের লক্ষ্য করে কন্টেন্ট তৈরি করে নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানির নির্বাচনী প্রচারণা এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
আর এখন, স্ক্রিন জুড়ে দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন প্রার্থীরা ক্যামেরার দিকে ঝুঁকে, ইশারা করে কথা বলছেন। তারা হয়তো কোনো ব্যস্ত রাস্তা বা দোকানের ভেতর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে কথা বলছেন। ভিডিওগুলোতে থাকছে উষ্ণ ও উজ্জ্বল রঙের ফিল্টার এবং দ্রুত কাটের সম্পাদনা, যেখানে তারা একের পর এক তাদের নীতি ও বক্তব্য তুলে ধরছেন।
আসুন দেখে নেওয়া যাক, কীভাবে কিছু ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মামদানির স্টাইল অনুকরণ করে কন্টেন্ট তৈরি করছেন।
মামদানির নান্দনিকতা
মামদানির ভিডিওগুলো তাদের উজ্জ্বল রঙের জন্য সহজেই চেনা যায়, যা সোশ্যাল মিডিয়ার হাজারো কন্টেন্টের ভিড়ে আলাদাভাবে চোখে পড়ে।
ভিডিওগুলোর আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো দ্রুত কাট এবং বড় বড় শারীরিক অঙ্গভঙ্গি—যা নিয়ে মামদানি নিজেই এক ভিডিওতে মজা করে বলেছিলেন, 'আমার টিম বলে আমি নাকি কথা বলার সময় খুব বেশি হাত নাড়াই।'
এই নান্দনিকতা অন্যান্য ডেমোক্র্যাটদের জন্যও কাজ করেছে, যার মধ্যে রয়েছেন মিশিগানের ডেমোক্রেটিক সিনেট প্রাইমারির দুই প্রগতিশীল প্রার্থীও।
ডেট্রয়েটের সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা আব্দুল এল-সায়েদ একটি ভিডিওতে বার্গার ব্যবহার করে ধনকুবেরদের অতিরিক্ত সম্পদকে তুলে ধরেছিলেন, যা মামদানির ম্যাঙ্গো লাচ্ছি ব্যবহার করে নিউইয়র্কের র্যাঙ্কড চয়েস ভোটিং সিস্টেম বোঝানোর ভিডিওর কথা মনে করিয়ে দেয়। একইভাবে, স্টেট সিনেটর ম্যালরি ম্যাকমোরো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ে একটি ভিডিও তৈরি করে ভাইরাল হয়েছিলেন, যা মামদানির মুদি দোকানে ঘোরার ভিডিওর কথা মনে করায়।
ডেমোক্রেটিক স্ট্র্যাটেজিস্ট অ্যান্ড্রু মামো, যিনি ম্যাকমোরো এবং টেক্সাসের স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ জেমস টালারিকোকে পরামর্শ দিচ্ছেন, তিনি দৃশ্যমান আকর্ষণীয় কন্টেন্টের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন।
মামো ব্যাখ্যা করেন, 'আপনাকে বুঝতে হবে, আপনি শুধু প্রাইমারিতে অন্য ডেমোক্র্যাটদের সাথেই প্রতিযোগিতা করছেন না। আপনি শুধু রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধেও লড়ছেন না। আপনি কুকুরের ভিডিও, খেলার হাইলাইটস, আপনার অন্য টেলিভিশনে চলা নেটফ্লিক্স, আপনার ফোনে আসা ফেসটাইম কল এবং গ্রুপ চ্যাটের সাথে মনোযোগের জন্য প্রতিযোগিতা করছেন।'
মূল বিষয়বস্তু: জীবনযাত্রার ব্যয়
মামদানির প্রচারণা দলের মতে, তাদের সাফল্যের পেছনে জীবনযাত্রার ব্যয় বা সাশ্রয়ী মূল্যের ওপর নিরলস মনোযোগ দেওয়াটাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। প্রচারণার এক শীর্ষ সহযোগী অ্যান্ড্রু এপস্টাইন বলেন, 'স্টাইলটা আসে মূল বিষয়বস্তুর পর।'
তিনি আরও বলেন, 'আপনার যদি এমন কোনো বার্তা এবং এজেন্ডা না থাকে, যা মানুষের জীবনের সাথে সরাসরি প্রাসঙ্গিক, যা দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার কথা বলে, যা এই ভেঙে পড়া স্থিতাবস্থার বিকল্প হিসেবে নিজেকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে উপস্থাপন করতে পারে—তাহলে কোনো কিছুই কাজ করবে না।'
এল-সায়েদের কমিউনিকেশনস ডিরেক্টর রক্সি রিচনারও বিষয়বস্তুর ওপর জোর দেওয়ার কথা বলেছেন। তিনি এল-সায়েদের একটি ভিডিওর কথা উল্লেখ করেন, যেখানে 'তিনি বে সিটি, মিশিগানের ব্রিজগুলোর বেসরকারিকরণের বিষয়টি এমনভাবে ব্যাখ্যা করেছিলেন, যা মানুষ বুঝতে পেরেছিল এবং যা হয়তো রাজ্যের অন্য অংশের মানুষ জানত না।'
যদিও অনেক রাজনীতিবিদই ভোটারদের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তবে স্ট্র্যাটেজিস্টরা নির্দিষ্ট বিষয় তুলে ধরার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন, যেমনটা মামদানি করেছিলেন বাসা ভাড়া এবং বাস ভাড়ার মতো দৈনন্দিন চাপের বিষয়গুলোতে মনোযোগ দিয়ে।
মামো বলেন, 'বিষয়টা শুধু দেশের অর্থনৈতিক সংকট নয়—বিষয়টা হলো, 'আমার নতুন ডিওডোরেন্ট দরকার, আর সেটার দাম ১৩.৯৯ ডলার, ডিওডোরেন্টের দাম কবে থেকে এত হলো?' আপনি যদি কোনো বারে বসে থাকেন, তবে এভাবেই কথাটা বলতেন। আর ভিডিওতেও আপনার ঠিক সেভাবেই বলা উচিত।'
অনুকরণ, কিন্তু অন্ধ অনুকরণ নয়
এই গ্রীষ্মে ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে মামদানির কাছে হেরে যাওয়ার পরপরই, প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ড্রু কুওমো সফট-ফিল্টারে হাঁটতে হাঁটতে কথা বলার ভিডিও তৈরি করা শুরু করেন। বিষয়টি মামদানির দলের নজরে আসে।
এপস্টাইন বলেন, 'আমি বলতে চাই, অনুকরণ হলো তোষণের সেরা রূপ, কিন্তু অ্যান্ড্রুর ক্ষেত্রে, বিষয়টা তার চেয়েও অনেক বেশি করুণ।'
অন্যান্য স্ট্র্যাটেজিস্টরা প্রচারণার যোগাযোগে সত্যতা বা আন্তরিকতার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন, কারণ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ভিন্ন ভিন্ন পটভূমির প্রার্থীদের বিভিন্ন ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।
মামো ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেটর অ্যাডাম শিফের উদাহরণ দিয়ে বলেন, 'বিষয়টা আপনার জন্য বাস্তব হতে হবে। তিনি একজন আইনজীবী, অধ্যাপক এবং ব্যাখ্যাকারী। তাই তাদের ভিডিওগুলোও আইনজীবী-অধ্যাপক-ব্যাখ্যাকারী অ্যাডাম শিফের মতোই হয়, যিনি কংগ্রেসে কী ঘটছে তা ব্যাখ্যা করেন।'
মিশিগানে এল-সায়েদের প্রচারণার সাথে যুক্ত রিচনার বলেন, মঙ্গলবারের নির্বাচনের ফলাফল প্রমাণ করেছে যে দলের প্রতিভাবান যোগাযোগকারী-দের কতটা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, 'সেটা নিউ জার্সিতে বিদ্যুতের দাম কমানোই হোক, বা নিউইয়র্কে বাসকে দ্রুত এবং বিনামূল্যে করাই হোক, আমি মনে করি মানুষ এই মুহূর্তে কষ্টে আছে, এবং তারা বিশ্বাস করতে চায় যে পরিস্থিতি আরও ভালো হতে পারে, এবং তাদের এমন নেতা এবং বার্তাবাহক প্রয়োজন যারা তাদের সেই পথ দেখাতে পারবে।'
