যুক্তরাষ্ট্রে শাটডাউন: দ্বিতীয় দিনে ১,৪০০-র বেশি ফ্লাইট বাতিল, ৬ হাজার বিলম্বিত, পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা
ফেডারেল সরকারের শাটডাউনের কারণে এয়ারলাইনগুলোকে চলতি সপ্তাহে ফ্লাইট চলাচল কমানোর নির্দেশ দেওয়ার পর শনিবার যুক্তরাষ্ট্রগামী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে এবং অভ্যন্তরীণ রুটের ১ হাজার ৪০০-র বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
ফ্লাইট ট্র্যাকার ফ্লাইটঅ্যাওয়ার জানিয়েছে, শনিবার প্রায় ৬ হাজার ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে। তবে এই সংখ্যা শুক্রবারের ৭ হাজারের বেশি বিলম্বিত ফ্লাইটের চেয়ে কম।
ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) চলতি সপ্তাহের শুরুতে ঘোষণা দিয়েছিল, তারা দেশের ৪০টি ব্যস্ততম বিমানবন্দরে বিমান চলাচলের সক্ষমতা ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনবে। এর কারণ, শাটডাউনের সময় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলাররা বেতন ছাড়াই কাজ করছেন এবং তারা ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন।
১ অক্টোবর শুরু হওয়া এই শাটডাউন এখনও চলছে। কংগ্রেসে এই অচলাবস্থা কীভাবে শেষ করা যায়, তা নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটরা এখনও বিভক্ত।
শনিবার এই অচলাবস্থার ৩৯তম দিন, যা দেশটির ইতিহাসের দীর্ঘতম শাটডাউন। সরকার পুনরায় চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল প্রস্তাবে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটরা এখনও একমত হতে পারেনি।
শাটডাউন অবসানের লক্ষ্যে দ্বিদলীয় আলোচনার জন্য সপ্তাহান্তে (উইকএন্ড) সিনেটররা ওয়াশিংটনে অবস্থান করছেন। খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে অর্থ কমানো ও ফ্লাইট বিপর্যয়ের কারণে শাটডাউনের প্রভাব পড়া মার্কিনীর সংখ্যা বাড়ছে।
শনিবার এক বিবৃতিতে 'ওয়াশিংটন ডিসির নেতাদের এই শাটডাউন শেষ করার জন্য অবিলম্বে সমাধানে পৌঁছানোর' আহ্বান জানিয়েছে আমেরিকান এয়ারলাইনস।
নিউ জার্সির নিউআর্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের সবচেয়ে বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এফএএর তথ্যমতে, শনিবার বিকেল পর্যন্ত এই বিমানবন্দরে আসা ফ্লাইটগুলো গড়ে চার ঘণ্টার বেশি এবং এখান থেকে ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইটগুলো গড়ে দেড় ঘণ্টা বিলম্বিত ছিল।
ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্যানুসারে, শনিবার সবচেয়ে বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে (আসা ও যাওয়া উভয়ই) শার্লট/ডগলাস ইন্টারন্যাশনাল, নিউআর্ক লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল ও শিকাগো ও'হেয়ার ইন্টারন্যাশনাল বিমানবন্দরে।
এফএএ জানিয়েছে, শনিবার বিকেল পর্যন্ত জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনালে প্রায় তিন ঘণ্টা, হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা ইন্টারন্যাশনালে আড়াই ঘণ্টার বেশি ও লা গার্ডিয়া বিমানবন্দরে প্রায় এক ঘণ্টা ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে।
আগামী ২৭ নভেম্বর থ্যাঙ্কসগিভিং উৎসবকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রে এখন বছরের অন্যতম ব্যস্ত ভ্রমণ মৌসুম চলছে।
শুধু বাণিজ্যিক ফ্লাইটই প্রভাবিত হয়নি। শনিবার এক্স প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে সেক্রেটারি ডাফি বলেছেন, ব্যক্তিগত জেটের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
তিনি লেখেন, 'আমরা ব্যস্ত বিমানবন্দরগুলোতে ব্যক্তিগত জেটের চলাচল কমিয়ে দিয়েছি। এর বদলে ব্যক্তিগত জেটগুলো ছোট বিমানবন্দর বা এয়ারফিল্ড ব্যবহার করছে, যাতে ব্যস্ত কন্ট্রোলাররা বাণিজ্যিক বিমান চলাচলে মনোযোগ দিতে পারেন।'
এফএএ যেহেতু বাতিল করা ফ্লাইটের সংখ্যা আরও বাড়াচ্ছে, তাই আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সংস্থাটি জানিয়েছে, ফ্লাইট কমানোর এই প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে করা হবে। শুক্রবার ৪ শতাংশ ফ্লাইট কমানোর মাধ্যমে এটি শুরু হয়েছে, ১১ নভেম্বরের মধ্যে তা ৬ শতাংশ, ১৩ নভেম্বরের মধ্যে ৮ শতাংশ ও ১৪ নভেম্বরের মধ্যে পূর্ণ ১০ শতাংশে পৌঁছাবে।
এফএএ বলেছে, নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য এই পদক্ষেপ জরুরি ছিল, কারণ শাটডাউনের সমযয় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলাররা অতিরিক্ত কাজের চাপে রয়েছেন।
ইউনিয়নগুলো বলছে, 'অত্যাবশ্যক কর্মী' হিসেবে কন্ট্রোলাররা বেতন ছাড়াই কাজ চালিয়ে যেতে বাধ্য। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের খরচ মেটাতে তাদের অনেকে অসুস্থতার কথা বলে ছুটি নিচ্ছেন বা দ্বিতীয় কোনো কাজ খুঁজে নিয়েছেন।
এয়ার কন্ট্রোলারসহ ১৪ লাখ ফেডারেল কর্মী শাটডাউনের সময় হয় বেতন ছাড়াই কাজ করছেন অথবা বাধ্যতামূলক ছুটিতে আছেন।
বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটার আরেকটি কারণ হলো, ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি এজেন্সির (টিএসএ) ৬৪ হাজার এজেন্টের বেশিরভাগই শাটডাউন চলাকালীন বেতন পাচ্ছেন না।
২০১৮ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে আগের সরকারি শাটডাউনের সময় দেখা গিয়েছিল, টিএসএ কর্মীদের প্রায় ১০ শতাংশ বিনামূল্যে কাজ করার পরিবর্তে বাড়িতে থাকাই বেছে নিয়েছিলেন।
