ফেসবুকের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকলেন মার্ক জাকারবার্গ—যার কথা ভাবছেন, তিনি নন
ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতার সঙ্গে নাম মিলে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক আইনজীবী। তার নামও মার্ক জাকারবার্গ। আর এ কারণেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি বারবার তার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিচ্ছে। তাদের অভিযোগ, তিনি নাকি একজন "বিখ্যাত ব্যক্তিকে নকল" করছেন।
এই হয়রানির শিকার হয়ে শেষ পর্যন্ত ফেসবুকের বিরুদ্ধেই মামলা করেছেন মার্ক এস জাকারবার্গ। তিনি জানান, গত আট বছরে পাঁচবার তার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে। এর ফলে ব্যবসায়িকভাবে তার হাজার হাজার ডলার ক্ষতি হয়েছে।
ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের এই আইনজীবী দেউলিয়াত্ব আইন নিয়ে কাজ করেন। মামলার নথিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, তিনি ৩৮ বছর ধরে আইন পেশায় আছেন। তখন ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক ই জাকারবার্গের বয়স ছিল মাত্র কয়েক বছর।
এই ঘটনার পর ফেসবুকের মূল সংস্থা মেটা জানিয়েছে, তারা আইনজীবীর অ্যাকাউন্টটি পুনরায় চালু করেছে এবং ভবিষ্যতে যাতে এই ভুল না হয়, তার জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছে।
ভুক্তভোগী জাকারবার্গ ইন্ডিয়ানাপলিসের একটি টেলিভিশনকে বলেন, "এটা কোনো মজার বিষয় নয়, বিশেষ করে যখন তারা আমার টাকা নিয়ে নেয়।"
আদালতে দায়ের করা মামলায় তিনি বলেন, ফেসবুক চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। কারণ তিনি বিজ্ঞাপনের জন্য ১১,০০০ ডলার দিয়েছিলেন, কিন্তু ফেসবুক বেআইনিভাবে তা সরিয়ে দিয়েছে।
তিনি বলেন, "ব্যাপারটা এমন যে, আপনি রাস্তার পাশে একটি বিলবোর্ড কিনলেন, তার জন্য টাকাও দিলেন, কিন্তু পরে তারা এসে সেটার ওপর একটি বড় কম্বল দিয়ে ঢেকে দিল। ফলে আপনি আপনার টাকার কোনো সুবিধাই পেলেন না।"
স্থানীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া ফেসবুকের ইমেল থেকে জানা যায়, কোম্পানিটি তাকে তার "আসল নাম" ব্যবহার না করার জন্য অভিযুক্ত করেছিল।
আইনজীবী জাকারবার্গ বলেন, নিজের পরিচয় প্রমাণ করতে তিনি তার ছবিসহ পরিচয়পত্র, ক্রেডিট কার্ড এবং নিজের মুখের একাধিক ছবি জমা দিয়েছেন। তিনি বলেন, "আমার নাম মার্ক স্টিভেন। আর তার নাম মার্ক এলিয়ট।"
গত মে মাসে তার অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং মামলা করার পরেই তা পুনরুদ্ধার করা হয়।
এক বিবৃতিতে মেটা বলেছে, "ভুলবশত বন্ধ করে দেওয়া মার্ক জাকারবার্গের অ্যাকাউন্টটি আমরা পুনরায় চালু করেছি। এই বিষয়ে তার ধৈর্যের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ এবং ভবিষ্যতে যাতে এমনটা না ঘটে তার জন্য আমরা কাজ করছি।"
দেউলিয়াত্ব আইন বিশেষজ্ঞ এই আইনজীবী তার নাম নিয়ে হওয়া বিভিন্ন বিভ্রান্তি নথিভুক্ত করার জন্য একটি ওয়েবসাইটও চালু করেছেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন, একবার ওয়াশিংটন রাজ্য ভুল করে তার বিরুদ্ধে নির্যাতনের মামলাও করে বসেছিল।
