চাহিদার চাপে ‘হলো নাইট: সিল্কসং’ মুক্তির দিনই অচল গেম স্টোরগুলো, ক্ষুব্ধ গেমাররা
বছরের অন্যতম প্রতীক্ষিত ভিডিও গেম 'হলো নাইট: সিল্কসং' মুক্তির পরই বিশ্বের বৃহত্তম অনলাইন ভিডিও গেম স্টোরগুলোতে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। গত বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিপুল চাহিদার কারণে এই প্ল্যাটফর্মগুলো বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে, যার ফলে হাজারো গেমার গেমটি কিনতে পারেননি।
গেমটি উন্মুক্ত হওয়ার পরপরই পিসি গেমিং প্ল্যাটফর্ম 'স্টিম'-এ ব্যাপক সমস্যা দেখা দেয়। অসংখ্য ব্যবহারকারী গেমটি কিনতে না পারার অভিযোগ করেন। শুধু স্টিম নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও গেমাররা নিন্টেন্ডো, প্লেস্টেশন এবং এক্সবক্সের মতো অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে 'সিল্কসং' কেনার ক্ষেত্রে একই ধরনের সমস্যার কথা জানান।
গেমটি মুক্তির পরপরই আউটেজ-চেকার 'ডাউনডিটেক্টর'-এ ব্যবহারকারীদের অভিযোগের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে, যা একপর্যায়ে ৩ হাজার ৭৫০-এ গিয়ে পৌঁছে। এই পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ ভক্তরা প্ল্যাটফর্মগুলোর তীব্র সমালোচনা করেন। কেউ কেউ এই বিভ্রাটকে 'হাস্যকর' বলে অভিহিত করেন, আবার অনেকে বলেন যে গেমটি আগে থেকে অর্ডার করার কোনো সুযোগ না থাকাটা ছিল 'বোকার মতো' কাজ, যা থাকলে এই সমস্যাগুলো হয়তো এড়ানো যেত। হতাশাগ্রস্ত ভক্তরা এক্স (সাবেক টুইটার) সহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ত্রুটিপূর্ণ কোডের স্ক্রিনশট পোস্ট করে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
যদিও, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে গেমটি কিনতে না পারার অভিযোগ থাকলেও, মুক্তির আধা ঘণ্টার মধ্যেই স্টিমে ১ লাখেরও বেশি মানুষ 'সিল্কসং' খেলছিলেন বলে রেকর্ড করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, তারা হয়তো অন্য কোনো অনলাইন স্টোর থেকে গেমটির কপি সংগ্রহ করেছিলেন।
প্ল্যাটফর্মের একটি আলোচনা বোর্ডে একজন গেমার আক্ষেপ করে লেখেন, 'আমি যখন কিনতেই পারছি না, তখন তোমরা কীভাবে খেলছো?' অন্যদিকে, 'হলো নাইট' এবং এর সিক্যুয়েলের সুরকার ক্রিস্টোফার লারকিন এক্স-এ রসিকতা করে লেখেন যে, গেমটি হয়তো 'ইন্টারনেট ক্র্যাশ' করিয়েছে। একজন এক্স ব্যবহারকারী তো রসিকতা করে পোস্ট করেন যে, তিনি 'সবচেয়ে কঠিন বসকে হারিয়েছেন'–সাথে তিনি সফলভাবে 'হলো নাইট' সিক্যুয়েলটি কেনার স্ক্রিনশট জুড়ে দেন।
এই সমস্যা শুধু গেমারদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, অন্তত একজন ভিডিও গেম প্রকাশকও জানিয়েছেন যে গেমটির অভূতপূর্ব চাহিদার কারণে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলায় তারাও আটকা পড়েছিলেন।
'হলো নাইট' গেমগুলো তৈরি করেছে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড-ভিত্তিক টিম চেরি নামের একটি ছোট্ট ইন্ডিপেন্ডেন্ট ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান, যেখানে মাত্র তিনজন সদস্য কাজ করেন। ২০১৭ সালে প্রথম গেম 'হলো নাইট' মুক্তির পর বিশ্বব্যাপী ১৫ মিলিয়নেরও বেশি কপি বিক্রি হয়েছিল।
