ফেড থেকে বরখাস্তের চেষ্টা, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করলেন গভর্নর লিসা কুক

মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর লিসা কুক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। ট্রাম্প তাকে পদ থেকে সরানোর চেষ্টা করায় তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিয়ে আইনি লড়াইয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। খবর বিবিসি'র।
কুক আদালতের কাছে তার বরখাস্তের আদেশকে 'অবৈধ ও বাতিল' ঘোষণা করার আবেদন করেছেন। মামলায় তিনি ফেডের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলকেও বিবাদী করেছেন।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, মর্টগেজ চুক্তিতে লিসা কুক মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন বলে বিশ্বাস করার 'যথেষ্ট কারণ' রয়েছে। সাংবিধানিক ক্ষমতার কথা উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, এই ক্ষমতাবলে তিনি কুককে অপসারণ করতে পারেন।
কুক এর আগে বলেছিলেন, 'আইনের অধীনে তাকে বরখাস্ত করার কোনও কারণ নেই।'
আরও পড়ুন: ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নরকে বরখাস্ত করছেন ট্রাম্প, মার্কিন ইতিহাসে নজিরবিহীন
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে সুদের হার কমাতে অনিচ্ছুক ফেডকে চাপ দিয়ে আসছেন। কুক ফেড বোর্ডের সদস্য হিসেবে সুদের হার নির্ধারণের দায়িত্বে আছেন।
বৃহস্পতিবার করা এই মামলা নানা আইনি জটিলতার জন্ম দিতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়াতে পারে।
কুকের আইনজীবী অ্যাবে লোয়েল মামলার বিবরণীতে লিখেছেন, 'এই মামলা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নজিরবিহীন ও বেআইনি প্রচেষ্টাকে চ্যালেঞ্জ জানায়। যদি তা ঘটে, তবে ফেড বোর্ডের ইতিহাসে এ ধরনের ঘটনা হবে প্রথম।'
তিনি আরও লিখেছেন, 'এটি ফেডারেল রিজার্ভ আইনকে বিপর্যস্ত করবে। ওই আইনে স্পষ্ট বলা আছে, কেবলমাত্র যথাযথ কারণ দেখাতে পারলেই কোনো গভর্নরকে অপসারণ করা যাবে। অথচ সিনেটের অনুমোদনের আগেই কুকের ব্যক্তিগত মর্টগেজ আবেদনপত্র নিয়ে তোলা অভিযোগ কোনোভাবেই সেই শর্ত পূরণ করে না।'
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই বিবিসিকে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট কুককে অপসারণে তার 'আইনগত ক্ষমতা প্রয়োগ' করেছেন।
তিনি বলেন, 'প্রেসিডেন্ট মনে করেছেন, আর্থিক নথিতে মিথ্যা বলার গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত একজন গভর্নরকে, যিনি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর তদারকির মতো সংবেদনশীল পদে ছিলেন, পদে রাখা ঠিক নয়। তাই তাকে অপসারণ করা হয়েছে। এভাবে কোনো গভর্নরকে অপসারণ করলে ফেডারেল রিজার্ভ বোর্ডের জবাবদিহিতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাজার ও আমেরিকান জনগণের কাছে আরও সুদৃঢ় হয়।'
ফেডারেল রিজার্ভ আইনে প্রেসিডেন্টের ইচ্ছামতো কোনো কর্মকর্তাকে অপসারণের ক্ষমতা নেই। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষায়, আইনে 'যথাযথ কারণ থাকলে' প্রেসিডেন্ট তা করতে পারেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ও আবাসন অর্থায়ন নিয়ন্ত্রক বিল পুলটি প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর লিসা কুকের বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ তোলা হয়। ওই চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, মর্টগেজ নেওয়ার জন্য কুক নথি জাল করেছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়, মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কুক দুটি আলাদা নথিতে সই করেন। সেখানে তিনি দেখান, দুই রাজ্যের দুটি বাড়িই তার স্থায়ী বাসভবন। তবে এখন পর্যন্ত কুকের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি এবং তিনি তদন্তের মুখে পড়েছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।
কুকের দায়ের করা মামলায় এসব অভিযোগের উল্লেখ নেই। তিনি আগেই বলেছিলেন, তাকে অপসারণের কোনো কারণ নেই। আইন বিশেষজ্ঞরাও ট্রাম্পের অবস্থান নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।
কুক ফেডারেল রিজার্ভের সাত সদস্যের বোর্ড অব গভর্নরসের একজন। এ পদে থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার নির্ধারণে দায়িত্বপ্রাপ্ত ১২ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিতে কাজ করছেন।
দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সুদের হার নিয়ে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশেষ করে ফেড চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলকে লক্ষ্য করে তার সমালোচনা জোরালো হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফেডের সদস্য নিয়োগের ক্ষমতা রাখেন। তাই লিসা কুককে সরানো হলে, তার জায়গায় ট্রাম্প সুদের হার কমানো এবং তার অর্থনৈতিক কর্মসূচিকে সহায়তা করার মতো কাউকে নিয়োগ দিতে পারবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ কত সুদে ঋণ নিতে পারবে এবং ব্যাংক আমানতে কত সুদ পাবে তা ফেডের সিদ্ধান্তে নির্ধারিত হয়। একই সঙ্গে মার্কিন সুদের হার বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করে তাদের মুদ্রানীতি ঠিক করে।
গত জুলাইয়ের শেষের দিকে ফেডের নীতি নির্ধারণী বৈঠকে লিসা কুক, জেরোম পাওয়েলসহ অধিকাংশ সদস্য সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে ভোট দেন।