নৈতিকতা লঙ্ঘনের অভিযোগে পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে বরখাস্ত করলেন আদালত

থাইল্যান্ডের সাংবিধানিক আদালত প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে পদচ্যুত ঘোষণা করেছেন। কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের সঙ্গে ফাঁস হওয়া একটি ফোনালাপে নৈতিকতা লঙ্ঘনের অভিযোগে শুক্রবার (২৯ আগস্ট) এ রায় দেন আদালত। খবর বিবিসি'র।
এ রায়ের ফলে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিরতা বিরাজ করছে এবং এটিকে সিনাওয়াত্রা পরিবারের জন্য বড় একটি ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আদালতের রায়ে বলা হয়, পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নৈতিক মানদণ্ড লঙ্ঘন করেছেন। জুন মাসে হুন সেনের সঙ্গে হওয়া ওই ফোনালাপে তাকে 'আঙ্কেল' বলে সম্বোধন করতে শোনা যায়। একই সঙ্গে তিনি থাই সেনাবাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে সমালোচনা করে তাকে 'প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।
আদালতের ভাষ্য অনুযায়ী, এই আচরণে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ককে 'কম্বোডিয়ার স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ' হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে।
নয় সদস্যবিশিষ্ট আদালতের ছয় বিচারক তার বিরুদ্ধে এ রায় দেন।
তারা জানান, পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রার দাবি, এটি ছিল সহিংসতা ছাড়াই শান্তি ফিরিয়ে আনার ব্যক্তিগত আলোচনা। তার এ দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। বরং তার কর্মকাণ্ড জনগণকে সন্দেহ করতে বাধ্য করেছে যে এটি দেশের স্বার্থের চেয়ে কম্বোডিয়ার বেশি উপকারে আসবে।
এ ঘটনার মাধ্যমে ২০০৮ সালের পর থেকে আদালতের রায়ে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া পঞ্চম প্রধানমন্ত্রীতে পরিণত হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার কন্যা পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা। একই সঙ্গে তিনি তৃতীয় সিনাওয়াত্রা, যার প্রধানমন্ত্রিত্ব মাঝপথে শেষ হলো।
এর আগে তার বাবা থাকসিন ২০০৬ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে এবং ফুফু ইংলাক ২০১৪ সালে আদালতের রায়ে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন।
ফোনালাপটি ফাঁস করেছিলেন হুন সেন নিজেই। সমালোচকরা বলেন, এর মাধ্যমে পেতংতার্ন দেশের সেনাবাহিনীকে দুর্বল করেছেন এবং জাতীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছেন।
রায় ঘোষণার পর এক সংবাদ সম্মেলনে পায়েতংতার্ন বলেন, 'আমার উদ্দেশ্য ছিল দেশের কল্যাণ, ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়, বরং জনগণের জীবন রক্ষা করা। হোক সেটা সাধারণ নাগরিক কিংবা সেনা সদস্য।'
তিনি আরও বলেন, 'আজকের রায় থাই রাজনীতিতে পরিবর্তন এনেছে। সরকার বা বিরোধী দল, কিংবা জনগণ, আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে এবং নিশ্চিত করতে হবে যেন আর কোনো নতুন মোড় না আসে।'
উল্লেখ্য, এই ফোনালাপের পর থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্ত উত্তেজনা তীব্র হয়ে ওঠে এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তা পাঁচ দিনের সংঘাতে রূপ নেয়। ওই সংঘাতে ডজনখানেক মানুষ নিহত হন এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হন।
৩৯ বছর বয়সী পেতংতার্ন ২০২১ সালে ফিউ থাই দলে যোগ দেন এবং ২০২৩ সালে দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।
সংসদে এখন দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবে। তবে যেখানে তার দল অল্প সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে। তবে জোটের এক অংশীদার ইতোমধ্যেই সরকার থেকে সরে যাওয়ায় তার অবস্থান নাজুক হয়ে পড়ে।