৯৬ ভারী-ট্রাক দিয়ে বিশ্বের সর্বোচ্চ সেতুর ভার বহনের সক্ষমতা পরীক্ষা করল চীন, ‘নিরাপদ’ ঘোষণা

চীনের হুয়াজিয়াং গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন সেতু, যার উচ্চতা ৬২৫ মিটার, জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়ার আগে চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। গুইঝৌ প্রদেশের কার্স্ট পাহাড়ের মধ্যে অবস্থিত এই সেতুকে বলা হচ্ছে 'অভূতপূর্ব প্রকৌশল কীর্তি'।
চীনা সংবাদমাধ্যম চায়না ডেইলির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেতুটি ২১ থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত কঠোর ভার বহন পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে।
পরীক্ষার সময় মোট ৩ হাজার ৩৬০ মেট্রিক টন ওজনের ৯৬টি ভারী ট্রাক সেতুর ওপর রাখা হয় এর বহনক্ষমতা যাচাই করতে। সেতুর মূল স্প্যান, টাওয়ার, কেবল ও সাসপেন্ডারগুলোয় ৪০০-রও বেশি সেন্সর স্থাপন করে সামান্যতম নড়াচড়াও পর্যবেক্ষণ করা হয়, যাতে এর কাঠামোগত দৃঢ়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
প্রকৌশলীরা নিশ্চিত করেছেন, সেতুর শক্তি, দৃঢ়তা ও সামগ্রিক কর্মক্ষমতা নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণ করেছে।
চীনের হুয়াজিয়াং গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন সেতুর মোট দৈর্ঘ্য ২,৯০০ মিটার, যার মূল অংশ ১,৪২০ মিটার লম্বা। এটি খাঁড়ির পৃষ্ঠ থেকে ৬২৫ মিটার উচ্চতায় তৈরি। উদ্বোধনের পর এটি বিশ্বের সর্বোচ্চ সেতু এবং পাহাড়ি এলাকায় নির্মিত সবচেয়ে দীর্ঘ স্প্যানের সেতুর রেকর্ড গড়বে।
প্রকল্পের ব্যবস্থাপক উ ঝাওমিং বলেছেন, সেতু নির্মাণে অনেক সমস্যা ছিল। বড় পরিমাণ কংক্রিট ঢালার সময় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, খাড়াভূমি ঠিক রাখা এবং শক্তিশালী বাতাসের প্রভাব কমানো ছিল চ্যালেঞ্জ। তবুও দলটি সময়ের আগে কাজ শেষ করেছে। ফলে পাহাড়ি এলাকায় সবচেয়ে বড় স্প্যানের সেতু তৈরি হয়েছে।
সেতুটি সেপ্টেম্বরে উদ্বোধন করা হবে। এটি ওই এলাকার পর্যটন ও উন্নয়নে সাহায্য করবে এবং লিউঝি থেকে আনলং যাওয়ার সময় ২ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে মাত্র ২ মিনিট করবে। বিশ্বের ১০টি সর্বোচ্চ সেতুর মধ্যে আটটি চীনের গুইঝৌতে অবস্থিত।