‘অনেক দেরি হওয়ার আগে’ পোপকে গাজা সফরের অনুরোধ মার্কিন পপতারকা ম্যাডোনার
মার্কিন পপতারকা ম্যাডোনা নতুন পোপ লিও চতুর্দশকে গাজা সফরের অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, 'অনেক দেরি হওয়ার আগে শিশুদের জন্য আপনার আলো নিয়ে সেখানে যান।' খবর বিবিসি'র।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ম্যাডোনা লিখেছেন, পোপই 'আমাদের মধ্যে একমাত্র ব্যক্তি যাকে প্রবেশে বাধা দেওয়া যাবে না।'
ম্যাডোনার এই আহ্বান এসেছে এমন এক সময়, যখন যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও জাপান এক যৌথ বিবৃতিতে সতর্ক করেছে, 'আমাদের চোখের সামনেই দুর্ভিক্ষ তৈরি হচ্ছে।'
ইনস্টাগ্রামে ম্যাডোনা লিখেছেন, 'সবচেয়ে পবিত্র পিতা, অনুগ্রহ করে গাজায় যান এবং দেরি হওয়ার আগে শিশুদের জন্য আপনার আলো নিয়ে আসুন। একজন মা হিসেবে আমি তাদের কষ্ট দেখাটা সহ্য করতে পারি না। বিশ্বের শিশু সবারই সন্তান। আপনি আমাদের মধ্যে একমাত্র ব্যক্তি, যাকে প্রবেশে বাধা দেওয়া যাবে না।'
গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। জাতিসংঘ-সমর্থিত বিশেষজ্ঞরা গত মাসে সতর্ক করে বলেছিলেন,'দুর্ভিক্ষের সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি' অবরুদ্ধ এলাকায় তৈরি হচ্ছে। তবে ইসরায়েল গাজায় দুর্ভিক্ষের কথা অস্বীকার করেছে। তারা অভিযোগ করেছে, জাতিসংঘের সংস্থাগুলো সীমান্তে পৌঁছে দেওয়া সাহায্য সংগ্রহ ও বিতরণ করছে না।
গত সপ্তাহে জাতিসংঘের মানবিক সংস্থা জানিয়েছে, গাজায় প্রবেশ করা সাহায্যের পরিমাণ এখনো 'প্রয়োজনীয় ন্যূনতম মাত্রার চেয়ে অনেক কম'। সংস্থাটি বলেছে, ইসরায়েল-নিয়ন্ত্রিত সীমান্ত এলাকা থেকে সাহায্য সংগ্রহে এখনো নানা বাধা ও বিলম্বের মুখে পড়তে হচ্ছে।
ম্যাডোনা আরও লিখেছেন, 'এই নিষ্পাপ শিশুদের বাঁচাতে মানবিক সহায়তার সব দরজা পুরোপুরি খুলে দিতে হবে।' তিনি বার্তাটি শেষ করেছেন এভাবে,'সময় আর নেই। দয়া করে বলুন, আপনি যাবেন। ভালোবাসা রইল, ম্যাডোনা।'
এ বছরের জুলাইয়ে নতুন পোপ গাজায় নতুন করে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান। তার আগের দিন গাজা সিটির ক্যাথলিক গির্জায় আশ্রয় নেওয়া তিনজন ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন।
পোপ পরে পিএ নিউজকে বলেন, 'আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাই—মানবিক আইন মেনে চলতে হবে। বেসামরিকদের সুরক্ষা, সমষ্টিগত শাস্তি নিষিদ্ধকরণ, নির্বিচারে শক্তি প্রয়োগ বন্ধ করা এবং জনগণকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত না করার বাধ্যবাধকতা অবশ্যই পালন করতে হবে।'
ম্যাডোনা গত মাসে বহুদিনের আলোচিত রিমিক্স অ্যালবাম ভেরোনিকা ইলেকট্রোনিকা প্রকাশ করেছেন। গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তিনি মঞ্চে এ নিয়ে আবেগঘন বক্তব্য দিয়ে আসছেন।
২০২৩ সালে লন্ডনের ওটু অ্যারেনায় গান পরিবেশনের সময় তিনি ভক্তদের বলেন, 'শিশুদের কষ্ট দেখা, কিশোরদের কষ্ট দেখা, বয়স্কদের কষ্ট দেখা—সবই হৃদয়বিদারক। আমি নিশ্চিত, আপনারাও একমত। কিন্তু আমাদের হৃদয় ভেঙে গেলেও মনোবল ভাঙা যাবে না।'
তিনি ভক্তদের আহ্বান জানান, পৃথিবীতে আলোর ও ভালোবাসার বার্তা ছড়িয়ে দিতে—ব্যক্তিগতভাবে ও সম্মিলিতভাবে, কথায় ও কাজে—যাতে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।
নিজের সর্বশেষ অনলাইন পোস্টের শিরোনামে তিনি লেখেন, সেদিন ছিল তার ছেলে রোকোর জন্মদিন। 'একজন মা হিসেবে আমি তাকে যে সেরা উপহার দিতে পারি—তা হলো সবাইকে অনুরোধ করা, গাজায় যুদ্ধের মধ্যে আটকে পড়া নিরপরাধ শিশুদের বাঁচাতে যা সম্ভব তা করতে।'
তিনি তিনটি সংস্থাকে অনুদান দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, 'আমি কারও দিকে আঙুল তুলছি না, দোষারোপ করছি না, পক্ষও নিচ্ছি না। সবাই কষ্ট পাচ্ছে। জিম্মিদের মায়েরাও। আমি প্রার্থনা করি, তারাও যেন মুক্তি পান।'
ম্যাডোনার এমন মন্তব্যের আগেই গাজা পরিস্থিতি নিয়ে এক বিবৃতি দিয়েছেন আয়ারল্যান্ডের ব্যান্ড ইউটু'র ভোকালিস্ট বোনো ও তার অন্যান্য সহশিল্পীরা। এতে তারা বিষয়টি নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
বিবৃতিতে বোনো ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও হামাস—দু'পক্ষেরই কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানান। তিনি বলেন, 'আমাদের ব্যান্ড ফিলিস্তিনি জনগণের পাশে আছে—যারা সত্যিকার অর্থে ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি ও সহাবস্থানের পথ খুঁজছেন এবং রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য ও বৈধ দাবি তুলেছেন।'
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, 'আমরা অবশিষ্ট জিম্মিদের সঙ্গেও সংহতি প্রকাশ করছি এবং কেউ যেনো যুক্তিসঙ্গতভাবে আলোচনার মাধ্যমে তাদের মুক্তির ব্যবস্থা করেন—এ আবেদন জানাচ্ছি।'
