যেভাবে নির্বাচিত হবেন নতুন পোপ
রোমান ক্যাথলিক চার্চের প্রধান পোপ ফ্রান্সিস মারা গেছেন। সোমবার (ইস্টার মানডে) সকাল ৭টা ৩৫ মিনিটে ভ্যাটিকান তার মৃত্যুর খবর ঘোষণা করে জানায়, 'তিনি পিতার ঘরে ফিরে গেছেন।' মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। লাতিন আমেরিকার ইতিহাসে তিনিই ছিলেন প্রথম পোপ। খবর বিবিসি ও বাসস'র।
ভ্যাটিকানের স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রধান এবং কার্ডিনাল চেম্বারলেন (ক্যামেরলেনগো) কেভিন জোসেফ ফারেল প্রথা অনুযায়ী পোপের মৃত্যু নিশ্চিত করেন।
পোপ ফ্রান্সিস নিজের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সংক্ষিপ্ত ও আনুষ্ঠানিকতাবর্জিত রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। ফলে এবার তার মরদেহ তিনটি কফিনে নয়, একটি মাত্র কফিনেই রাখা হবে। মরদেহ প্রথমে ব্যক্তিগত এক প্রার্থনাস্থলে নেওয়া হবে। এরপর ক্যামেরলেনগোর নেতৃত্বে একটি শোভাযাত্রা শেষে সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকায় জনসাধারণের দেখার জন্য রাখা হবে।
তবে আগের পোপদের মতো মরদেহ মঞ্চে তোলা হবে না। কফিনেই রাখা থাকবে। ব্যক্তিগত দর্শনের কোনো সুযোগও থাকবে না।
শেষযাত্রার সময় পোপের সঙ্গে থাকবে তার সময়কালের প্রতীকস্বরূপ কিছু বস্তু— 'প্যালিয়াম' (বিশেষ পোশাক), 'রোজিতো' (পোপের শাসনামলের সারসংক্ষেপ), এবং তার পোপ হওয়ার বছরসংখ্যা অনুযায়ী রুপা, সোনা ও তামার কয়েনের থলি।
২০২৩ সালের এক সাক্ষাৎকারে ফ্রান্সিস জানিয়েছিলেন, রোমের প্রধান রেলস্টেশনের কাছে তার প্রিয় গির্জা 'বেসিলিকা অব সেন্ট মেরি মেজর'-এ তার জন্য সমাধিক্ষেত্র প্রস্তুত রাখা আছে। যদিও এটি ইতালির ভূমিতে, এটি ভ্যাটিকান ভূখণ্ড হিসেবেই গণ্য হয়।
চার থেকে ছয় দিনের মধ্যে সব ধর্মীয় আচার সম্পন্ন করে তাকে সেখানে সমাহিত করা হবে।
পোপের মৃত্যুতে শুরু হয়েছে 'সেদে ভাকান্তে' পর্ব, অর্থাৎ পোপের আসন শূন্য থাকা সময়কাল। ক্যামেরলেনগো পোপের বাসস্থান সান্তা মার্থা হাউসে তার অ্যাপার্টমেন্ট সিল করে দেন এবং একটি আনুষ্ঠানিক হাতুড়ি দিয়ে 'ফিশারম্যানস রিং' ভেঙে দেন— যা পোপ সরকারি নথিতে স্বাক্ষর করতে ব্যবহার করতেন।
এরপর শুরু হবে নতুন পোপ নির্বাচনের প্রস্তুতি।
নতুন পোপ নির্বাচন
পোপ হলেন ক্যাথলিক চার্চের প্রধান, যিনি বিশ্বাসীদের কাছে সেন্ট পিটার-এর উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচিত। তার শিক্ষাই চার্চের নীতি ও রীতিনীতির ভিত্তি গড়ে তোলে। বাইবেল ও তার শিক্ষার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয় বিশ্বজুড়ে ১৪০ কোটিরও বেশি ক্যাথলিক বিশ্বাসী।
অবশ্য প্রোটেস্ট্যান্ট ও অর্থোডক্স খ্রিস্টানরা তার কর্তৃত্ব স্বীকার করে না।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে নির্বাচিত কার্ডিনালদের মধ্যে যাদের বয়স ৮০ বছরের কম, শুধুমাত্র তারাই পোপ নির্বাচনের ভোটে অংশ নিতে পারেন। বর্তমানে ১৩৫ জন কার্ডিনাল ভোটের জন্য যোগ্য, যাঁদের মধ্যে ১০৮ জনকেই নিয়োগ দিয়েছিলেন পোপ ফ্রান্সিস।
কার্ডিনালরা হলেন রোমান ক্যাথলিক চার্চের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ধর্মীয় নেতাদের মধ্যে অন্যতম, যাঁরা পোপের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া নতুন পোপ নির্বাচনের জন্য গঠিত গোপন বৈঠক—'কনক্লেভ'-এ অংশ নেওয়ার অধিকারও তাঁদের রয়েছে।
যদিও ইউরোপীয় কার্ডিনালের সংখ্যাই এখনো বেশি, তবে সম্প্রতি এশিয়ার কার্ডিনালদের উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রায় এক-চতুর্থাংশ ভোটদাতা এখন এশিয়ান।
পোপের দাফনের পর কার্ডিনালদের রোমে সমবেত হওয়ার জন্য ১৫ থেকে ২০ দিনের সময় পাবেন ডিন অব দ্য কলেজ অব কার্ডিনালস, জিওভান্নি বাতিস্ত রে।
ভোটপ্রক্রিয়া হয় ভ্যাটিকানের সিস্টিন চ্যাপেলে। কার্ডিনালরা তখন সেন্ট মার্থা হাউসে থাকবেন—যেটি একটি পাঁচতলা গেস্টহাউস। এখানেই পোপ ফ্রান্সিস ২০১৩ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত থেকেছেন, ২০১ নম্বর কক্ষে। প্রতিদিন তারা হেঁটে ভিয়া দেল্লে ফন্দামেন্তে ধরে সিস্টিন চ্যাপেল-এ যাবেন, যেখানে নির্বাচন প্রক্রিয়া চলে।
এই সময় বাইরের কারো সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নির্বাচনী গোপনীয়তা রক্ষা করাই এখানে মুখ্য।
শুধু ডাক্তার, যাজক, রান্নার কর্মী ও পরিষ্কারকর্মীর মতো নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি কনক্লেভ চলাকালে উপস্থিত থাকেন এবং তারাও কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করতে বাধ্য।
সিস্টিন চ্যাপেলের অভ্যন্তরে উপস্থিত কার্ডিনালরা লাতিন ভাষায় একটি সরল কার্ডে লেখেন: 'আই ইলেক্ট এস সুপ্রিম পন্টিফ….' এরপর তারা জৈষ্ঠতার ভিত্তিতে একে একে সামনে এসে একটি রুপালি ও সোনায় মোড়ানো পাত্রে ভোটপত্র রাখেন।
ভোট গণনার দায়িত্বে থাকেন তিনজন স্ক্রুটিনিয়ার, যারা ভোটগুলো জোরে পড়ে শুনিয়ে গণনা করেন। পরে সেসব কার্ড একত্র করে পোড়ানো হয়।
নতুন পোপ নির্বাচিত হতে হলে একজন প্রার্থীকে কার্ডিনালদের দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পেতে হয়। সাধারণত প্রতিদিন দুপুর ও বিকেলে দুটি করে মোট চারবার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রথম তিন দিনে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারলে একদিনের জন্য প্রার্থনার বিরতি নেওয়া যায়। এরপর প্রতি সাতটি ব্যর্থ ভোটের পরও আবার একদিন করে বিরতি নেওয়ার সুযোগ থাকে।
সর্বোচ্চ ৩৩ দফা ভোটগ্রহণের পরও যদি কারও পক্ষে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোট না পড়ে, তাহলে সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত দুই প্রার্থীর মধ্যে চূড়ান্ত ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়।
অতীতে কিছু কনক্লেভ কয়েকদিন সময় নিয়েছে। ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ কনক্লেভ হয়েছিল ১৯২২ সালে, যা পাঁচ দিন স্থায়ী হয়। তবে আধুনিক সময়ে গড়তিনিয়েই তিন দিনের মধ্যে নতুন পোপ নির্বাচন সম্পন্ন হয়ে থাকে। পোপ বেনেডিক্ট এবং পোপ ফ্রান্সিস—দুজনই নির্বাচিত হয়েছিলেন মাত্র দুই দিনের মধ্যে।
চ্যাপেলের পেছনে দুটি চুল্লি স্থাপন করা থাকে—একটিতে ব্যালটপত্র পোড়ানো হয় এবং অপরটি থেকে নির্গত ধোঁয়ার রঙে বোঝা যায় নির্বাচনের অগ্রগতি। কালো ধোঁয়া মানে ভোট ব্যর্থ, সাদা ধোঁয়া মানে নতুন পোপ নির্বাচিত।
নতুন পোপ নির্বাচিত হওয়ার পর তাকে কনক্লেভের উপস্থিত সকল কার্ডিনালের সামনে পোপের পদ গ্রহণ করতে হয় এবং নিজের নতুন নাম ঘোষণা করতে হয়।
২০১৩ সালে নির্বাচনের পর পোপ ফ্রান্সিস জানিয়েছিলেন, তার নামটি এসেছে সেন্ট ফ্রান্সিস অব অ্যাসিসির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং তার ব্রাজিলিয়ান বন্ধু কার্ডিনাল হুম্মেসের কাছ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে। হুম্মেস তাকে বলেছিলেন, 'গরিবদের কথা ভুলে যেয়ো না'।
সেই থেকে প্রতীকী ও ঐতিহ্যবাহী নামে পোপরা পরিচিত হন। বেশিরভাগ পোপ 'জন' নামটি বেছে নিয়েছেন এর জনপ্রিয়তার কারণে।
নতুন পোপকে এরপর নেওয়া হবে 'রুম অব টিয়ার্স'-এ। এই কক্ষে তিনি প্রথমবারের মতো পোপের পোশাক পরবেন—সাদা আলখাল্লা, মোজেত্তা (একটি সাদা কেপ) ও জুকেত্তো (সাদা টুপি)। অনেক নবনির্বাচিত পোপ এই মুহূর্তে আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন—এ কারণেই কক্ষটির নাম 'টিয়ার্স'-এর ঘর।
পোপ ফ্রান্সিস নিজের পদের প্রথম মুহূর্তেই জাঁকজমক এড়িয়ে সাদা সাধারণ পোশাক পরেছিলেন, লাল আড়ম্বরপূর্ণ কেপ পরেননি।
সবশেষে, ভ্যাটিকান ব্যাসিলিকার ব্যালকনিতে এসে পোপ বিশ্ববাসীর সামনে নিজের পরিচয় তুলে ধরেন। সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে জমায়েত লাখো মানুষের উদ্দেশে ঘোষণা করা হয় ঐতিহ্যবাহী শব্দ: 'আনুনসিও ভোবিস গাউডিয়াম ম্যাগনাম… হাবেমুস পাপাম!' অর্থাৎ, 'আমি আপনাদের এক মহাসুখের সংবাদ দিচ্ছি… আমাদের একজন পোপ হয়েছেন!'
পোপ ফ্রান্সিসের উত্তরসূরি হওয়ার ১৫ সম্ভাব্য প্রার্থী
পোপ ফ্রান্সিসের পরবর্তী নেতা নির্বাচনের জন্য ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থীকে সামনে আনা হয়েছে।
নিচে সেই প্রার্থীদের কিছু বিশদ পরিচিতি দেওয়া হলো:
১. পিয়েত্রো প্যারোলিন (ইতালি), ৭০, ভ্যাটিকানের সেক্রেটারি অব স্টেট
পিয়েত্রো প্যারোলিন দীর্ঘ সময় ধরে ভ্যাটিকান সরকারের প্রধান হিসাবে কাজ করছেন, পোপ ফ্রান্সিসের সেক্রেটারি অব স্টেট হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
তিনি বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন এবং ভ্যাটিকানের কূটনৈতিক কার্যক্রমে প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন।
২০১৩ সালে পোপ ফ্রান্সিস তাকে এই পদে নিযুক্ত করেন। প্যারোলিনকে কূটনীতি, প্রশাসন এবং বিশ্ব রাজনীতি সম্পর্কে গভীর অভিজ্ঞতা রয়েছে, যা তাকে পোপ হওয়ার জন্য একটি শক্তিশালী প্রার্থী করে তুলেছে।
২. পিয়েরবাত্তিস্তা পিজাবাল্লা (ইতালি), ৬০, ল্যাটিন প্যাট্রিয়ার্ক অব জেরুজালেম
পিজাবাল্লা বর্তমানে জেরুজালেমের ল্যাটিন প্যাট্রিয়ার্ক, মধ্যপ্রাচ্যে ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের নেতা হিসেবে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
তিনি পূর্ববর্তী পোপদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ লাভ করেছেন এবং ২০২৩ সালে কার্ডিনাল হিসেবে নির্বাচিত হন।
তিনি ফিলিস্তিন, ইসরায়েল, জর্ডান এবং সাইপ্রাসে ক্যাথলিকদের জন্য কাজ করেছেন এবং বিশ্ব শান্তির পক্ষে শক্তিশালী সমর্থক।
তার প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের ক্যাথলিকদের মধ্যে গভীরভাবে অনুভূত।
৩. ম্যাটেও মারিয়া জুপ্পি (ইতালি), ৬৯, বোলোগনার আর্চবিশপ
বোলোগনার আর্চবিশপ ম্যাটেও মারিয়া জুপ্পি, যিনি ক্যাথলিক সমাজে একটি প্রগতিশীল কণ্ঠস্বর, বিশ্ব শান্তির জন্য পোপ ফ্রান্সিসের বিশেষ শান্তির দূত হিসেবে ইউক্রেনে নিযুক্ত হয়েছেন।
তিনি বিশেষত সেন্ট'ইজিডিও রোমান সম্প্রদায়ের সদস্য এবং অভিবাসী ও সমকামী ক্যাথলিকদের জন্য তার ভূমিকার জন্য সুপরিচিত।
তিনি গত কয়েক বছরে ইউরোপীয় শান্তি ও মানবাধিকার বিষয়ে তার দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন।
৪. ক্লডিও গুগেরোত্তি (ইতালি), ৬৯
ভ্যাটিকানের আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং স্লাভিক বিশ্বের প্রতি গভীর নজর দেওয়া ক্লডিও গুগেরোত্তি ২০২২ সালে পূর্ব গির্জাগুলোর জন্য ডিকাস্টারির প্রধান নিযুক্ত হয়েছেন, ভ্যাটিকানের ক্ষমতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
তিনি রোমান কুরিয়া (ভ্যাটিকানের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা) এর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন এবং তার পদ্ধতি প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক।
৫. জ্যঁ-মার্ক এভেলিন (ফ্রান্স), ৬৬, মার্সেইর আর্চবিশপ
জ্যঁ-মার্ক এভেলিন ২০২২ সালে কার্ডিনাল হিসেবে নিযুক্ত হন।
তিনি পোপ ফ্রান্সিসের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। এভেলিন বিশেষত ধর্মীয় সংলাপ ও অভিবাসীদের সুরক্ষায় তার ভূমিকার জন্য পরিচিত।
তিনি একটি আধুনিক ক্যাথলিক গির্জার পক্ষে কাজ করছেন, যা সামাজিক পরিবর্তন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
৬. অ্যান্ডার্স আরবোরেলিয়াস (স্বিডেন), ৭৫, স্টকহোমের বিশপ
আরবোরেলিয়াস স্বিডেনের প্রথম কার্ডিনাল, তার কাজের মাধ্যমে ক্যাথলিক ধর্মকে আরও খোলামেলা এবং সহনশীল করেছেন।
তিনি পোপ ফ্রান্সিসের সাথে একযোগে কাজ করেছেন এবং বিশেষত গির্জার জন্য নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এসেছেন।
তিনি বিশ্বে অভিবাসী সম্প্রদায় এবং সমকামী ক্যাথলিকদের সমর্থন জানানোর জন্য পরিচিত।
৭. মারিও গ্রেচ (মাল্টা), ৬৮, গোজো এর বিশপ ইমেরিটাস
মাল্টার বিশপ গ্রেচ সিনড অফ বিশপসের সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন।
তিনি গির্জার ভেতর এবং বাইরের ইস্যুগুলোর ওপর এক গভীর দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করেন। তিনি বিশেষত ক্যাথলিক যুবকদের জন্য তার কাজের জন্য পরিচিত।
৮. পিটার এর্দো (হাঙ্গেরি), ৭২, এসজারটম-বুদাপেস্টের আর্চবিশপ
এর্দো ক্যানন আইন এবং ধর্মীয় তত্ত্বে বিশেষজ্ঞ, তিনি পোপ ফ্রান্সিসের একজন ঘনিষ্ঠ পরামর্শদাতা।
তিনি একটি আধুনিক গির্জার পক্ষে কাজ করছেন এবং সমকামীদের বিরুদ্ধে পোপের অবস্থান নিয়ে আলোচনা করেছেন।
৯. জ্যঁ-ক্লদ হোলেরিচ (লুক্সেমবার্গ), ৬৭, আর্চবিশপ
লুক্সেমবার্গের আর্চবিশপ হোলেরিচ পোপ ফ্রান্সিসের ঘনিষ্ঠ সহযোগী, তিনি গির্জার সংস্কারে এক অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষত তিনি শাস্তি প্রদান ও ধর্মীয় সংলাপে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এসেছেন।
১০. লুইস আন্তোনিও ট্যাগলে (ফিলিপিন্স), ৬৭, ম্যানিলার আর্চবিশপ ইমেরিটাস
ফিলিপিন্সের প্রাক্তন আর্চবিশপ ট্যাগলে পোপ ফ্রান্সিসের বিশেষ পরামর্শদাতা, লাতিন আমেরিকার ক্যাথলিকদের জন্য তার ভূমিকার জন্য পরিচিত। তিনি ধর্মীয় অসাম্প্রদায়িকতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
১১. চার্লস মাওং বো (মিয়ানমার), ৭৬, ইয়াঙ্গনের আর্চবিশপ
বো মিয়ানমারে প্রথম এবং একমাত্র কার্ডিনাল, তিনি রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নিপীড়নের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন।
মিয়ানমারের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং মানবাধিকার বিষয়ে তিনি তার কঠোর বক্তব্য প্রকাশ করেছেন।
১২. পিটার তুর্কসন (ঘানা), ৭৬, কেপ কোস্টের আর্চবিশপ ইমেরিটাস
তুর্কসন আফ্রিকার প্রভাবশালী কার্ডিনালদের মধ্যে অন্যতম, অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার, পরিবেশগত সমস্যা এবং সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে তিনি কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।
তিনি জাতিসংঘে আফ্রিকান জনগণের অধিকারের পক্ষে কথা বলেছেন।
১৩. ফ্রিদোলিন অ্যামবঙ্গো বেসুংগু (ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো), ৬৫, কিনশাসার আর্চবিশপ
অ্যামবঙ্গো কঙ্গোর প্রথম কার্ডিনাল, এক সাহসী নেতা হিসেবে পরিচিত। তিনি আফ্রিকান ক্যাথলিকদের জন্য একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যত তৈরির জন্য কাজ করছেন।
১৪. রবার্ট ফ্রান্সিস প্রিভস্ট (যুক্তরাষ্ট্র), ৬৯, চিত্লায়োর আর্চবিশপ-বিশপ ইমেরিটাস
প্রিভস্ট নতুন বিশপদের নিয়োগের ক্ষেত্রে পোপ ফ্রান্সিসের পরামর্শদাতা, লাতিন আমেরিকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
তিনি দক্ষিণ আমেরিকার ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের সংস্কারের পক্ষে।
১৫. টিমোথি ডোলান (যুক্তরাষ্ট্র), ৭৫, নিউ ইয়র্কের আর্চবিশপ
ডোলান নিউ ইয়র্কে ক্যাথলিক ধর্মের নেতৃত্ব দেন, একটি শক্তিশালী কট্টরপন্থী কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত।
তিনি সমকামীদের বিরুদ্ধে ক্যাথলিক চার্চের অবস্থান সম্পর্কে কঠোর মন্তব্য করেছেন।
এই ১৫ জন প্রার্থী ভ্যাটিকানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করছেন এবং পোপ ফ্রান্সিসের উত্তরাধিকারী হওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।