দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইউনকে অপসারণ করল আদালত, ৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচন

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলকে অপসারণ করেছে দেশটির সাংবিধানিক আদালত। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) রায়টি আট বিচারপতির সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে গৃহীত হয়েছে।
এই রায়ের ফলে দেশের সংবিধান অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী হান ডাক-সু নতুন প্রেসিডেন্টের শপথগ্রহণ না হওয়া পর্যন্ত অন্তবর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
অন্তবর্তীকালীন প্রধান বিচারপতি মুন হ্যাং-বাইয়ে বলেছেন, ইউন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার দায়িত্ব ভঙ্গ করেছেন, কারণ তিনি সংবিধান প্রদত্ত ক্ষমতার বাইরে গিয়ে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। এবং তার পদক্ষেপের প্রভাব গণতন্ত্রের জন্য একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ ছিল।
মুন আরও বলেন, 'ইউন গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের সার্বভৌম সদস্য জনগণের আস্থা ভঙ্গ করেছেন।' তিনি বলেছেন, সামরিক আইন ঘোষণা করে ইউন সমাজের সব ক্ষেত্র, অর্থনীতি এবং পররাষ্ট্র নীতিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন।
ইউনের অপসারণের রায় শোনার পর হাজার হাজার দক্ষিণ কোরীয় নাগরিক উল্লাসে ফেটে পড়েন এবং 'আমরা জয়ী হয়েছি!' বলে স্লোগান দেন।
এই রায়ের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ায় মাসব্যাপী রাজনৈতিক অস্থিরতার সমাপ্তি হয়েছে, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির চেষ্টাগুলিকে ছাপিয়ে গিয়েছিল। বিশেষ করে যখন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে গিয়েছিল।
গত ৩ ডিসেম্বর এক টেলিভিশন ঘোষণায় উত্তর কোরিয়ার প্রতি সহানুভূতিশীল 'রাষ্ট্রবিরোধী' শক্তির হাত থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য মার্শাল ল অথবা সামরিক আইন জারি করেন ইউন।
তারপরেই সামরিক বাহিনী সব সংসদীয় কার্যক্রম স্থগিত করার ঘোষণা দেয় এবং গণমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে।
ইউনের ঘোষণার দুই ঘণ্টার মধ্যে তার দলের সদস্যসহ মোট ১৯০ জন সংসদ সদস্য জরুরি অধিবেশনে মিলিত হয়ে সামরিক আইন প্রত্যাহারের প্রস্তাব পাস করেন।
১৪ ডিসেম্বর ইউনকে অভিশংসন করা হয় এবং তার দায়িত্ব স্থগিত করা হয়। এটি দীর্ঘ সময়ের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকট তৈরি করে।