ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি না হলে সামরিক সংঘাত ‘প্রায় অনিবার্য’, সতর্কবার্তা ফ্রান্সের

ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ-নোয়েল ব্যারো বুধবার সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিশ্বশক্তিগুলো যদি দ্রুত নতুন চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সামরিক সংঘাত 'প্রায় অনিবার্য' হয়ে উঠবে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বুধবার ইরান ইস্যুতে একটি গোপন বৈঠক আহ্বান করার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যারো পার্লামেন্টে এই মন্তব্য করেন। ওই বৈঠকে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
ইউরোপীয় শক্তিগুলো কূটনৈতিক পথে আলোচনা চালিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে, যার মাধ্যমে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কার্যক্রম সীমিত রাখা সম্ভব হবে। তারা আশা করছে, এ বছরের গ্রীষ্মের মধ্যে এবং ২০২৫ সালের অক্টোবরে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে একটি সমাধান খুঁজে পাওয়া যাবে।
পশ্চিমা শক্তিগুলোর অভিযোগ, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি মূলত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির গোপন প্রচেষ্টা। তবে ইরান বরাবরই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
ব্যারো বলেন, 'আমাদের হাতে খুব সীমিত সময় আছে। ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে আমাদের অবশ্যই একটি সমাধানে পৌঁছাতে হবে। ব্যর্থ হলে সামরিক সংঘাত প্রায় অনিবার্য হয়ে উঠবে।'
ফরাসি সরকারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের কথা নিশ্চিত করেছেন তিনজন কূটনৈতিক সূত্র। তারা বলছেন, ওয়াশিংটনের ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে যে, দ্রুত কোনো সমঝোতা না হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের পরমাণু স্থাপনার ওপর বিমান হামলা চালাতে পারে ।
এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগন মঙ্গলবার জানিয়েছে, ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে মার্কিন বোমা হামলার পাশাপাশি অঞ্চলটিতে আরও যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে।
একজন ইউরোপীয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ইউরোপীয় কৌশলবিদরা এখন হিসাব কষছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক তৎপরতা কি ইরানের ওপর আসন্ন মার্কিন হামলার প্রস্তুতি হিসেবে দেখা যেতে পারে কিনা।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তেহরান যদি পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনায় না বসে, তাহলে দেশটির ওপর বোমা হামলা এবং দ্বিতীয় দফার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৃহস্পতিবার প্যারিস সফর করবেন।
কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ২০১৫ সালের চুক্তির অন্যতম স্বাক্ষরকারী ফ্রান্স, ব্রিটেন ও জার্মানির মন্ত্রীরা এই সপ্তাহে ব্রাসেলসে ন্যাটো বৈঠকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে ইরান ইস্যুতে আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসন ২০১৫ সালের চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করেছিল। ওই চুক্তির আওতায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপের বিনিময়ে দেশটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছিল। কিন্তু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে যাওয়ার পর ইরান উল্লেখযোগ্য মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা বাড়িয়েছে, যা সামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত বলে পশ্চিমা শক্তিগুলোর দাবি।
ইউরোপীয় শক্তিগুলো চায়, ইরান দ্রুত আলোচনা শুরু করুক এবং ২০২৫ সালের অক্টোবরে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই একটি নতুন চুক্তি সম্পন্ন হোক। তবে এখনো আলোচনা কাঙ্ক্ষিত ফল বয়ে আনতে পারেনি বলে কূটনীতিকরা মনে করছেন।