ট্রাম্পের সঙ্গে ইরানের সরাসরি পরমাণু আলোচনা প্রত্যাখ্যান, পরোক্ষ সংলাপে আগ্রহী

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে দেশটির পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। তবে তিনি পরোক্ষ সংলাপে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
অন্যদিকে, ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন যে, তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতায় না এলে বোমা হামলা এবং অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হবে।
রবিবার (৩০ মার্চ) তেহরানে মন্ত্রিসভার বৈঠকে পেজেশকিয়ান বলেন, 'আমরা ওমানের মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্টের চিঠির জবাব দিয়েছি এবং সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছি। তবে আমরা পরোক্ষ আলোচনার জন্য প্রস্তুত।'
তিনি আরও বলেন, ইরান আলোচনার বিরুদ্ধে নয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে তার অতীতের 'ভুল আচরণ' সংশোধন করতে হবে এবং আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
তেহরানের এই অবস্থানের কথা ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ প্রকাশ করেছে।
এদিকে, রবিবার এনবিসি-কে দেওয়া এক ফোনালাপে ট্রাম্প বলেন, 'তারা যদি চুক্তিতে না আসে, তাহলে বোমা হামলা হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'যদি তারা সমঝোতায় না আসে, তবে আমি তাদের বিরুদ্ধে চার বছর আগের মতোই নতুন করে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করব।'
ওয়াশিংটনের স্টিমসন সেন্টারের ফেলো এবং জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক অধ্যাপক বারবারা স্লাভিন আল জাজিরাকে বলেন, 'ট্রাম্পের অতীত রেকর্ড এবং আগের একটি চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার কথা বিবেচনায় নিলে, ইরানিদের অবিশ্বাসের যথেষ্ট কারণ রয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, পরমাণু ও আঞ্চলিক ইস্যুগুলো সমাধান হলে তিনি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে পারেন। তবে তিনি সত্যিই কোনো চুক্তি করতে পারবেন কি না, তা অনিশ্চিত।'
স্লাভিনের মতে, ইরানের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ নিষেধাজ্ঞার কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতি।
'ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানি মুদ্রার ব্যাপক অবমূল্যায়ন হয়েছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্ব বেড়েছে। ইরানিরা এটিকেই শারীরিক হামলার চেয়েও বেশি ভয় পাচ্ছে। কারণ সামরিক হামলা হলে বরং দেশ ঐক্যবদ্ধ হতে পারে।'
তিনি আরও বলেন, 'মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ডিয়েগো গার্সিয়ায় বোমারু বিমান পাঠিয়েছে এবং আরও একটি বিমানবাহী রণতরি ওই অঞ্চলে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। তাই কোনো কূটনৈতিক সমাধান না হলে যুক্তরাষ্ট্র, হয়তো ইসরায়েলের সঙ্গে মিলিতভাবে, সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।'
এর আগে, গত মার্চে ট্রাম্প ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কাছে চিঠি পাঠিয়ে হুঁশিয়ারি দেন যে, তেহরানকে নতুন আলোচনায় আসতে হবে, নতুবা সামরিক সংঘাতের মুখোমুখি হতে হবে।
খামেনি ওই চিঠিকে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, 'ইরান শুধুমাত্র মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা করবে।'
ট্রাম্প প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি থেকে সরিয়ে নেন এবং ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এরপর আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানায়, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পর্যাপ্ত উপাদান সংগ্রহ করলেও বোমা তৈরির চেষ্টা করেনি।
তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।
নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সমঝোতা ছাড়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা নেই।
এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির উপদেষ্টা কামাল খাররাজি বলেছেন, 'আমরা আলোচনার সব দরজা বন্ধ করিনি।'
তিনি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেন, 'ইরান পরোক্ষ সংলাপে প্রস্তুত, যাতে অপর পক্ষের অবস্থান মূল্যায়ন করা যায়, নিজেদের শর্ত উপস্থাপন করা যায় এবং যথাযথ সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।'