যুদ্ধবিরতি নিয়ে পুতিনের ওপর ‘ভীষণ রেগে’ আছেন ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতি নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনা চালানোর পর তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ওপর 'অত্যন্ত ক্ষুব্ধ' ও 'বিরক্ত'। খবর বিবিসি'র।
এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, পুতিন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়েছেন। সেই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যদি রাশিয়া যুদ্ধবিরতিতে সম্মত না হয়, তাহলে রুশ তেল ক্রয়কারী দেশগুলোর ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
'যদি রাশিয়া ও আমি ইউক্রেনে রক্তপাত বন্ধের বিষয়ে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারি এবং যদি আমি মনে করি যে এটি রাশিয়ার দোষ - যা হয়তো নাও হতে পারে... তাহলে আমি রাশিয়ার সমস্ত তেল বাণিজ্যের ওপর গৌণ শুল্ক আরোপ করব,' বলেন ট্রাম্প।
এই মন্তব্য ট্রাম্পের রাশিয়া ও পুতিন বিষয়ে অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
তবে, হোয়াইট হাউজ তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
ইউরোপীয় নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন যে, ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার সময় ট্রাম্প পুতিনের প্রতি নরম মনোভাব দেখাচ্ছিলেন।
গত ছয় সপ্তাহে, ট্রাম্প ওভাল অফিসে জেলেনস্কিকে কড়া ভাষায় কথা বলেছেন এবং তার কাছ থেকে বিভিন্ন শর্ত মেনে নিতে বলেছেন। অন্যদিকে, তিনি পুতিনকে প্রশংসা করেছেন এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রুশ প্রেসিডেন্টের দাবির প্রতি নমনীয় থেকেছেন।
তবে এবারের প্রতিক্রিয়া সেই ধারা থেকে ভিন্ন বলে মনে হচ্ছে। এবারই প্রথম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়াকে যুদ্ধবিরতি নিয়ে কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হওয়ার হুঁশিয়ারি দিল। এর ফলে কূটনৈতিকভাবে মস্কোর ওপর চাপ আসতে পারে।
এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ১০ মিনিটের এক ফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যখন পুতিন জেলেনস্কির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তখন তিনি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও বিরক্ত হন। যদিও ট্রাম্প নিজেও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে একনায়ক বলে অভিহিত করেছেন এবং তার কাছে নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন।
'আপনি বলতে পারেন, আমি সত্যিই ক্ষুব্ধ, বিরক্ত হয়েছিলাম যখন... পুতিন জেলেনস্কির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, কারণ এটি সঠিক পথে যাচ্ছে না,' বলেন ট্রাম্প।
তিনি আরও বলেন, 'নতুন নেতৃত্ব মানেই দীর্ঘ সময়ের জন্য কোনো চুক্তি হবে না।'
পুতিন প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ক্রেমলিন তার ক্ষোভ সম্পর্কে জানে। তবে উল্লেখ করেন যে তিনি রুশ নেতার সঙ্গে 'খুব ভালো সম্পর্ক' বজায় রেখেছেন এবং 'যদি পুতিন সঠিক কাজটি করেন, তাহলে ক্ষোভ দ্রুত দূর হয়ে যাবে'।
যদি রাশিয়া যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি না রাখে এবং ট্রাম্প মনে করেন যে এটি পুতিনের দোষ, তবে তিনি আরও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন।
'মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হওয়া তেল এবং অন্যান্য পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে, যা গৌণ শুল্ক হিসেবে কার্যকর হবে,' বলেন ট্রাম্প। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যদি এক মাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি না হয়, তাহলে রাশিয়ার ওপর শুল্ক কার্যকর করা হবে।
গৌণ শুল্ক হলো এমন এক ধরনের নিষেধাজ্ঞা, যা কোনো নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রাখা অন্য দেশগুলোর ওপর আরোপ করা হয়। রাশিয়ার তেল আমদানিকারী দেশগুলোর ক্ষেত্রে এই শুল্ক ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। রাশিয়ার সবচেয়ে বড় তেল ক্রয়কারী দেশগুলোর মধ্যে চীন ও ভারত শীর্ষে রয়েছে।
'এটি সবার জন্যই বিপজ্জনক এবং যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং আমাদের বৈশ্বিক অংশীদারের মধ্যে যারা শান্তি চান, তাদের উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া জানানো উচিত,' বলেন ট্রাম্প।
তিনি জানান, সপ্তাহের শেষের দিকে তিনি পুতিনের সঙ্গে কথা বলবেন।
রাশিয়া ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক আগ্রাসন চালায়। বর্তমানে তারা ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে।