‘সব পথ খোলা, যেকোনো কিছু ঘটতে পারে’: হিজবুল্লাহ প্রধান
ইসরায়েল গাজায় যুদ্ধ চালিয়ে গেলে আঞ্চলিক উত্তেজনা সৃষ্টির তীব্র আশঙ্কা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরাল্লাহ। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গতকাল (শুক্রবার) প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক এক টেলিভিশন বক্তৃতায় তিনি এমন মন্তব্য করেছেন।
দীর্ঘ বক্তৃতায় নাসারাল্লাহ জানান, চলমান সংঘাতে সব পথই খোলা রয়েছে। এক্ষেত্রে যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
হিজবুল্লাহ প্রধান বলেন, "লেবাননের দক্ষিণ ফ্রন্টে সকল পরিস্থিতি সৃষ্টিরই সম্ভবনা রয়েছে। তবে এই ফ্রন্টে কী ঘটবে তা নির্ভর করবে গাজায় যা ঘটবে তার উপর।"
একইসাথে নাসারুল্লাহ গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার ঘটনায় স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠনটির প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন। আর আঞ্চলিক সংঘাত এড়াতে তিনি অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় হামলা বন্ধ করতে তেল আবিবের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
হিজবুল্লাহ নেতা প্রায় ৪ সপ্তাহ আগে হামাসের অতর্কিত হামলার প্রশংসা করেছেন। ঐ হামলায় ইসরায়েলে প্রায় ১৪০০ মানুষ নিহত হয়েছে। একইসাথে জিম্মি করা হয়েছে প্রায় ২২০ জনকে।
এরই পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে গাজায় নির্বিচারে ক্রমাগত বোমা হামলা করছে ইসরায়েল। যার ফলশ্রুতিতে এখন পর্যন্ত গাজায় ৯ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। একইসাথে খাদ্য, পানি ও বিদ্যুৎ সরবারাহ বন্ধ করে দেওয়ায় তৈরি হয়েছে মানবিক বিপর্যস্ত পরিস্থিতি।
হামাসের হামলা প্রসঙ্গে হিজবুল্লাহ প্রধান বলেন, "এই মহান ও বৃহৎ পরিসরের অপারেশনটি ছিল সম্পূর্ণরূপে ফিলিস্তিনি পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ফলাফল। এতে হিজবুল্লাহর কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। অত্যন্ত গোপনীয়তাই এই অপারেশনকে ব্যাপকভাবে সফল করেছে।"
নাসরুল্লাহ মনে করেন, বর্তমানে গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে এমন লক্ষ্য ধরে আগানো যা তারা অর্জন করতে পারবে না।
নাসারুল্লাহ বলেন, "পুরো মাসব্যাপী ইসরায়েল একটিও সামরিক সফলতা অর্জন করতে পারেনি। এক্ষেত্রে তারা কেবল আলোচনার মাধ্যমেই জিম্মিদের ফিরিয়ে নিতে পারবে।"
সংঘাত শুরুর পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও দেশটির পররাষ্ট্র সচিব অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন তেল আবিব সফর করে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। আর এদিকে হিজবুল্লাহর প্রধান গাজায় সংঘাত ও প্রচণ্ড মাত্রায় বেসামরিক নাগরিক নিহতের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন।
ব্লিঙ্কেনের সাথে আলোচনায় নেতানিয়াহু যুদ্ধে সামরিক বিরতি প্রদানের আহ্বানে রাজি হননি। সেক্ষেত্রে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমরা বিজয় অর্জন না করা পর্যন্ত থামবো না। আমাদের লক্ষ্য হামাসকে ধ্বংস করা, জিম্মিদের ফিরিয়ে আনা এবং আমাদের নাগরিক ও শিশুদের নিরাপত্তা পুনরুদ্ধার করা।"
নাসারুল্লাহ মনে করেন, গাজায় যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণরূপে দায়ী যুক্তরাষ্ট্র। তবে গণমাধ্যমের সাথে গতকাল (শুক্রবার) তেল আবিব থেকে আলাপকালে ব্লিঙ্কেন বলেন, "গাজায় মানবিক সহায়তা অবিলম্বে কার্যকরীভাবে বাড়াতে হবে।"
নাসারুল্লাহ বলেন, "গাজার বিজয় মানে ফিলিস্তিনি জনগণের বিজয়। এটি মিশর, জর্ডান, সিরিয়া এবং লেবাননের জন্যও ইতিবাচক হবে।" তাই তিনি আরব বিশ্বকে নিজেদের রাষ্ট্রদূতদের ইসরায়েল থেকে প্রত্যাহার করার এবং তেল আবিবকে তেল, গ্যাস ও খাদ্য সরবরাহ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ফিলিস্তিনে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই হামাসের মিত্র হিসেবে হিজবুল্লাহ ইসরায়েল সীমান্তে বেশ বুঝেশুনে পদক্ষেপ নিয়েছে। এক্ষেত্রে একটি সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হবে এমন কোনো পদক্ষেপ গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে আপাতত নেওয়া হয়নি।
নাসরুল্লাহ জোর দিয়ে বলেন, "হিজবুল্লাহ ৮ অক্টোবর থেকে এই যুদ্ধে রয়েছে। ১৯৪৮ সাল থেকে সীমান্তে ফিলিস্তিনে যা ঘটছে সেটি নজিরবিহীন। কেননা তখন ইসরায়েল সৃষ্টি হয়েছিল এবং নাকবা বা 'বিপর্যয়' এর সময় হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছিল। .
গত বৃহস্পতিবার হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। ঠিক তার পরের দিনই গোষ্ঠীটির নেতার এমন কড়া বার্তাকে শঙ্কার চোখে দেখছেন অনেকে।
হামাসের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হিজবুল্লাহ। জনপ্রিয় একটি অনুমান অনুযায়ী, হিজবুল্লাহর কাছে প্রায় দেড় লাখের মতো বিভিন্ন মিসাইল ও রকেট রয়েছে। বেশিরভাগ ইরানের দেওয়া এসব মিসাইল দিয়ে গোষ্ঠীটি সহজেই ইসরায়েলকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।
