গাজায় যুদ্ধবিরতির বিরোধিতায় যুক্তরাষ্ট্র
সংঘাত শুরুর পর থেকে জাতিসংঘে বেশ কয়েকবার গাজায় যুদ্ধ বন্ধে উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেগুলো সফল হয়নি। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র মনে করে যে, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির জন্য এখনই উপযুক্ত সময় নয়। খবর বিবিসির।
মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র জন কিরবি গতকাল (সোমবার) সাংবাদিকদের কাছে এমন মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, "আমরা মনে করি না যে, এখন যুদ্ধবিরতির সময়। ইসরায়েলের নিজেদের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে। হামাসের নেতৃত্ব খুঁজে বের করার জন্য তাদের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।"
অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার ভিন্ন আরেকটি প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রশ্নের জবাবে বলেন, "গাজা যাতে মানবিক সহায়তা পেতে থাকে আমরা সেদিকে নজর রাখব।"
ম্যাথু মিলার জানান, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধ পর্যালোচনা করতে মার্কিন দূত হিসেবে ডেভিড স্যাটারফিল্ডকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি মানবিক সহায়তা প্রদানের জন্য নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। একইসাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে গাজার অভ্যন্তরে এমন জায়গা স্থাপনের জন্য কাজ করা হচ্ছে যেখানে বেসামরিক মানুষ নিরাপদে থাকতে পারবে।
এদিকে চলমান পরিস্থিতিতে ইরানের পক্ষ থেকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ফের সতর্ক করা হয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়, ইসরায়েল অবিলম্বে সামরিক হামলা বন্ধ না করলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি 'নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে'।
গত রবিবার তেহরানে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমিরআব্দুল্লাহিয়ান এক সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, "আমি যুক্তরাষ্ট্র এবং তার সহযোগীকে (ইসরায়েল) সতর্ক করে দিচ্ছি যে, তারা গাজায় অবিলম্বে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যা বন্ধ না করলে যে কোনো মুহূর্তে যেকোনো কিছু সম্ভব। আর এতে করে এই অঞ্চলের পরিস্থিতি 'নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে'।"
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র আবার অঞ্চলটিতে একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠিয়েছে। আর লোহিত সাগরে একটি মার্কিন সামরিক যান ইয়েমেন থেকে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হুথিদের নিক্ষেপকৃত ক্ষেপণাস্ত্রকে আটকে দিতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়াও ইরাকে থাকা মার্কিন বাহিনীর একটি ঘাঁটিও ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীর রকেট ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে।
গত ৭ অক্টোবরের হামাসের হামলার পেছনে ইরানকে দায়ী করেছে ইসরায়েল। এই হামলায় প্রায় ১৪০০ ইসরায়েলি নিহত হয়েছে। অন্যদিকে এই ঘটনার পর গাজায় ক্রমাগত বিমান হামলা করছে তেল আবিব। এতে করে এখন পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজারেরও বেশি গাজাবাসী নিহত হয়েছে।
ইরান মনে করে, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের মাধ্যমে ফিলিস্তিনে যুদ্ধ শুরু করেছে। গাজায় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর বোমাবর্ষণ অব্যাহত রাখলে এর ফল খারাপ হবে বলেও দেশটির পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
আমিরআব্দুল্লাহিয়ান বলেন, "গাজায় আমরা যা দেখছি, সেটি ভুয়া ইসরায়েলি শাসকদের শুরু করা প্রক্সি যুদ্ধ, যারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করছে।" এ যুদ্ধ নিপীড়িত ফিলিস্তিনি জাতি ও বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আমিরআব্দুল্লাহিয়ান আরও বলেন, "যুদ্ধের মধ্যে বাইডেনের ইসরায়েল সফর এবং হাসপাতাল, মসজিদ, গির্জা ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর বোমাবর্ষণে ইসরায়েলকে সহায়তা দেওয়ার ব্যাপারটা অত্যন্ত 'তিক্ত ও দুর্ভাগ্যজনক'।"
