বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলা রাশিয়ার, বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ইউক্রেনের বিস্তীর্ণ অঞ্চল
আবারও ইউক্রেনের বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে রুশ বাহিনী। এতে বিদ্যুৎ ও পানিবিহীন হয়ে পড়ছে কিয়েভ ও অন্যান্য শহর। খবর বিবিসির
স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে বিস্ফোরণের আওয়াজ শোনা যায়। তার খানিক পরই দিনিপ্রো নদীর কাছে অবস্থিত একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে গলগল ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা যায়।
কিয়েভের পশ্চিমাঞ্চলের ঝিতমিরে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ কেটে গেছে। এছাড়া দিনিপ্রোর তীরবর্তী দুটি বিদ্যুৎ স্থাপনা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
'কামিকাজে' ড্রোন দিয়ে হামলা চালানোর ২৪ ঘণ্টা পরই নতুন এই হামলা চালাল রাশিয়া।
ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের তৈরি এই ড্রোনের হামলায় কিয়েভে অন্তত পাঁচজন ও উত্তরের শহর সুমিতে চারজন নিহত হয়েছে। এছাড়া কামিকাজের হামলায় শত শত শহর ও গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শহর ও গ্রামগুলো বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
উল্লেখ্য, কামিকাজে ড্রোন হলো ছোট আকারের 'এয়ার ওয়েপন' বা বিমান হামলায় ব্যবহার করা হয় এমন অস্ত্র। এই ড্রোনের বিশেষত্ব হলো, লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সঙ্গে সঙ্গে এটি ধ্বংস হয়ে যায়। অন্যান্য ড্রোনের মতো লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ফেলে আবারও ফিরে আসে না।
দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময় জাপানের কিছু পাইলট স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে আত্মঘাতী মিশনে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। মূলত তাদের কাছ থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে এই ড্রোনের নামকরণ করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাশিয়া যুদ্ধক্ষেত্র থেকে দূরবর্তী শহরগুলোর বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে আক্রমণ বাড়িয়েছে। ইউক্রেনের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোগুলো মেরামত করতে আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। তবে শীতের আগে আগে এসব হামলার প্রতিক্রিয়া কেমন হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
রুশ হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনে 'দখলদাররা' ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে।
