উত্তরায় চীনা ভ্লগারদের রহস্যময়ভাবে ভিডিও ধারণ, আসলে কী ঘটছে?
ঢাকার উত্তরার সেক্টর–১২-এর টেকপাড়ায় প্রবেশ করতেই দেখা যায় কয়েকজন বিদেশি নাগরিক মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছেন।
দৃশ্যটি কিছুটা এমন, যেন সাংবাদিকরা কোনো ঘটনাস্থল থেকে লাইভে গিয়ে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি তুলে ধরছেন। উত্তরার অভিজাত আবাসিক ভবনের সারি যেখানে শেষ হয়ে যায় এবং নিম্ন আয়ের মানুষদের বসতি শুরু হয়—সেই ছোট্ট পাড়াতেই এই অস্বাভাবিক দৃশ্য আমাদের স্বাগত জানায়।
প্রথম দেখায় বিষয়টি একেবারেই সাধারণ মনে হলেও, দ্রুতই কৌতূহল জাগে—আসলে তারা কী দেখাতে চাইছেন? এলাকার জীবনযাপন, সরু গলি আর ঘনবসতিপূর্ণ বসতি, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে?
ঘটনাটি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করতেই বোঝা যায়, তারা শুধু ভিডিওই ধারণ করছেন না; পাশাপাশি নিজেদের ভাষায় সরাসরি ক্যামেরার সামনে কথা বলছেন। কিছু স্থানীয় মানুষ থেমে তাদের দেখছিলেন, আবার কেউ বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে ছিলেন। যেন উত্তরা'র পরিপাটি নগরজীবনের পাশেই থাকা এই ভিন্ন বাস্তবতাই তাদের ক্যামেরার একমাত্র বিষয় হয়ে উঠেছে।
প্রথমে তাদের একজনকে পাশেই বিশ্রাম নিতে দেখা যায়। আমি তাকে জিজ্ঞেস করি, তিনি কেমন আছেন এবং কোন দেশের নাগরিক। তিনি জবাব দেন, 'চাইনিজ'। বাংলাদেশে স্বাগত জানানো হলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়ান।
এরপর আমি তাকে জিজ্ঞেস করি, তিনি এখানে কী ধারণ করছেন এবং এটি কোন প্ল্যাটফর্মের জন্য—ইউটিউব, ফেসবুক, টিকটক নাকি অন্য কিছু? প্রশ্ন শোনার পরপরই তিনি বলেন, 'আমাকে এখন বাসায় যেতে হবে', এবং তাড়াহুড়ো করে একটি রিকশায় উঠে সেখান থেকে চলে যান।
'কিউরিয়াসার অ্যান্ড কিউরিয়াসার'
লুইস ক্যারলের অ্যালিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড পড়ে যেমন মনে হয়েছিল, আমি যেন সেই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র।
একজন সাধারণ পর্যটক সাধারণত সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে এভাবে দ্রুত কোনো স্থান থেকে পালিয়ে যান না।
এরপর আমরা টেকপাড়ার ভেতরের রাস্তাগুলো ধরে হাঁটতে থাকি। যতই সামনে এগোই, ততই চোখে পড়ে আরও চীনা ভ্লগার—প্রতিজনই আইফোনে ভিডিও ধারণ করছেন, আর ফোনে যুক্ত রয়েছে কুলিং ফ্যান, যা দেখে বোঝা যায় প্রতিটি ভ্লগিং সেশন দীর্ঘ সময় ধরে চলে।
সরু গলি ও অলিগলিতে অন্তত পাঁচ-ছয়জনকে ভিডিও ধারণ করতে দেখা যায়। তাদের কাউকেই কথা বলতে আগ্রহী বলে মনে হচ্ছিল না। কিছু স্থানীয় মানুষ তাদের দেখছিলেন, আবার কেউ কেউ না দেখার ভান করছিলেন।
এরপর আমরা কথা বলি রায়হান আহমেদ নামের এক তরুণের সঙ্গে, যিনি প্রায় ১৫ বছর ধরে এই এলাকায় বসবাস করছেন।
'আমি ছোটবেলা থেকেই এখানে আছি,' তিনি বলেন। 'প্রায় এক বছর ধরে আমি তাদের [চীনা ভ্লগারদের] দেখছি। এক সময় তাদের কারণে এলাকায় উত্তেজনাও তৈরি হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছিলেন, তারা অনুমতি ছাড়া বাসায় ঢুকে পড়ছেন। এক বাড়ির ভাড়াটিয়ারা অভিযোগ করেন, তারা ক্যামেরা নিয়ে রান্নাঘর এমনকি গোসলখানার কাছাকাছিও ঢুকে পড়েছিলেন।'
তার ভাষ্য অনুযায়ী, একবার একজনকে একটি বাসায় প্রবেশের কারণে থামানো হয় এবং জিজ্ঞেস করা হয় কেন তিনি সেখানে ঢুকেছিলেন। ওই ব্যক্তি নাকি তখন বলেন, তার একজন 'বস' আছেন; পরে আরেকজন চীনা ব্যক্তি এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।
'ওই ব্যক্তি বলেন, তার এই দেশে অনেক টাকা ও যোগাযোগ আছে,' রায়হান দাবি করেন। 'তিনি বলেন, তিনি যা খুশি তাই করতে পারেন।'
রায়হান বলেন, স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের উপস্থিতিতে বেশ বিরক্ত। 'আমরা এখনও বুঝতে পারি না তাদের আসল কাজ কী। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত—কখনো কখনো রাত ১০টা-১১টা পর্যন্তও তাদের এখানে দেখা যায়। উত্তরার অন্য এলাকাতেও তাদের দেখেছি, তবে টেকপাড়ায় তাদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।'
তিনি আরও অভিযোগ করেন, নারীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা প্রায়ই লঙ্ঘিত হচ্ছে। 'কোনো বাড়ির গেট খোলা থাকলে তারা সরাসরি ঢুকে পড়েন। অনেক সময় নারীদের গোপনীয়তার কোনো রকম সম্মান দেখান না,' তিনি বলেন।
মোহাম্মদ বাদল, যিনি প্রায় ২০ থেকে ২২ বছর ধরে এই এলাকায় বসবাস করছেন, বলেন—গত এক বছর ধরে তিনি নিয়মিত এই এলাকায় চীনা নাগরিকদের ভিডিও ধারণ করতে দেখছেন।
'তারা ছেলে বা মেয়ে দেখলেই ভিডিও করে,' তিনি বলেন। 'অনেক সময় তারা বাসার ভেতরেও ঢুকে নানা ধরনের ফুটেজ নেয়। একবার এই নিয়ে এলাকায় মারামারিও হয়। পরে তারা দল বেঁধে আবার পুলিশ নিয়ে আসে।'
তিনি বলেন, তারা বিশেষ করে স্থানীয় বস্তি ও নিম্ন আয়ের মানুষের বাড়িঘরের প্রতি বেশি আকৃষ্ট।
টেকপাড়ার দীর্ঘদিনের বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম দাবি করেন, কিছু বাংলাদেশি নারীও নিয়মিত চীনা নাগরিকদের সঙ্গে থাকেন এবং ভিডিও তৈরিতে সহায়তা করেন।
'যেসব মেয়েরা তাদের সঙ্গে ঘোরে, তাদের ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা দেওয়া হয়,' তিনি বলেন। 'তারা সারাদিন তাদের সঙ্গে হাঁটে এবং ভিডিও করার সময় পাশে দাঁড়িয়ে থাকে। তারা বলে লাইভে যায়, কিন্তু আমরা ঠিক বুঝতে পারি না আসলে কী করছে।'
আমরা আরও কয়েকজন চীনা নাগরিকের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করি, যারা মোবাইলে ভিডিও ধারণ করছিলেন, কিন্তু তারা কথা বলতে রাজি হননি।
তাদের একজন শুধু নিজের নাম জানান। 'আমার নাম লি ওয়েই। আমি শুধু আমার বসের জন্য কাজ করি,' তিনি বলেন। ভিডিও কোথায় প্রকাশ করা হয় বা তাদের কোনো অনলাইন চ্যানেল আছে কি না—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, 'আমার কাছে ভিডিও নেই,' এরপর আর কিছু বলতে রাজি হননি।
আরেকজনের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি দ্রুত পাশের একটি বাড়ির ভেতরে ঢুকে যান। একই বাড়ির সামনে আরও কয়েকজন চীনা নাগরিক বসে ছিলেন। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেতেই তারাও দ্রুত ভেতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন।
বাংলাদেশে কী ভিডিও করছে চীনা ভ্লগাররা?
উত্তরার টেকপাড়ায় দেখা যাওয়া চীনা ভ্লগাররা ঠিক কী ধরনের কনটেন্ট তৈরি করছেন—তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। তবে চীনের ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম যেমন বিলিবিলি ও ইউকুতে খোঁজ নিয়ে একটি উদ্বেগজনক চিত্র পাওয়া গেছে।
বিভিন্ন ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশে চীনা ভ্লগারদের বড় একটি অংশ নির্দিষ্ট একটি ধাঁচ অনুসরণ করছেন। তাদের ভিডিওর শিরোনামে প্রায়ই 'দরিদ্র', 'নোংরা' বা 'বস্তি' ধরনের শব্দ ব্যবহার করা হয়। ভিডিওগুলোর মূল বিষয়বস্তু হিসেবে সাধারণত স্থানীয় দরিদ্র মানুষের জীবনযাপন তুলে ধরা হয়, যেখানে ভ্লগারকে প্রায়ই একজন দানশীল ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়—যিনি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।
শুধু উপস্থাপনার ধরনই নয়, এসব ভিডিওতে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগও উঠেছে। একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, কিছু মানুষ নিজেদের দৈনন্দিন কাজ করছেন—যেমন গোসল করা বা ব্যক্তিগত জীবনযাপন—যেখানে তারা বুঝতেই পারেন না যে তাদের ভিডিও করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ভ্লগারদের অনুমতি ছাড়া মানুষের ঘরে ঢুকে পড়তেও দেখা গেছে, যেখানে ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিরা অস্বস্তিকর অবস্থায় রয়েছেন।
আরও উদ্বেগজনক একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর একটি বাংলাদেশি তরুণের কলার ধরে টেনে ধরছেন, যেন তাকে 'শাসন' করা হচ্ছে। এই দৃশ্যটি অনলাইনে কনটেন্ট তৈরির নামে কিছু ভ্লগারের আচরণ এবং স্থানীয় মানুষকে কাজে লাগানোর মাত্রা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
চীনা নাগরিকদের সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন সাম্প্রতিক অপরাধ
বাংলাদেশে চীনা নাগরিকদের উপস্থিতি মূলত অবকাঠামো প্রকল্প, কারখানা, প্রকৌশল, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি-সম্পর্কিত ব্যবসার সঙ্গেই যুক্ত। ঢাকা, চট্টগ্রাম, গাজীপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল ও বৃহৎ চীনা-সমর্থিত প্রকল্প এলাকায় বর্তমানে হাজারো চীনা নাগরিক বসবাস ও কর্মরত আছেন।
তবে গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে চীনা নাগরিকদের জড়িত থাকার অভিযোগে একাধিক অপরাধমূলক ঘটনারও সন্ধান পাওয়া গেছে—বিশেষ করে সাইবার প্রতারণা, অবৈধ অনলাইন জুয়া, মানব পাচার, স্বর্ণ চোরাচালান, নকল ইলেকট্রনিকস এবং অবৈধ টেলিকমিউনিকেশন কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত থাকার অভিযোগে।
সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত একটি ঘটনা ঘটে ২০২৬ সালের মে মাসে উত্তরা ও তুরাগ এলাকায়। পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) অনলাইন জুয়া ও সাইবার প্রতারণা চক্র পরিচালনার অভিযোগে ছয়জন চীনা নাগরিকসহ মোট নয়জনকে গ্রেপ্তার করে।
তদন্তে বলা হয়, এই চক্রটি ফেসবুক পেজ, ইউটিউব চ্যানেল, টেলিগ্রাম গ্রুপ এবং একাধিক ভুয়া বিনিয়োগ ওয়েবসাইট ব্যবহার করে দ্রুত মুনাফা ও বেটিংয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ব্যবহারকারীদের আকৃষ্ট করত।
অভিযানকালে পুলিশ কয়েক ডজন মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, বিদেশি সিম কার্ড, ইন্টারনেট ডিভাইস এবং ডিজিটাল লেনদেন-সংক্রান্ত বিভিন্ন উপকরণ জব্দ করে। তদন্তকারীরা আরও দাবি করেন, ডিজিটাল চ্যানেল ও অনানুষ্ঠানিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে।
এর আগে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আরেকটি বড় অভিযানে উত্তরা ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে পাঁচজন চীনা নাগরিক ও তিনজন বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযোগ ছিল, তারা অবৈধ ভিওআইপি সিস্টেম, অনলাইন প্রতারণা এবং টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন প্রচারের সঙ্গে জড়িত।
সেসময় ৫১ হাজারের বেশি সিম কার্ড, ৫১টি মোবাইল ফোন, ২১টি অবৈধ ভিওআইপি গেটওয়ে ডিভাইস, ল্যাপটপ, রাউটার ও অন্যান্য ইন্টারনেট যোগাযোগ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। তদন্তকারীদের ধারণা, এটি একটি আন্তর্জাতিক সাইবারক্রাইম নেটওয়ার্কের অংশ, যারা বাংলাদেশকে স্বল্প খরচের অপারেশন বেস হিসেবে ব্যবহার করছিল।
একই মাসে ঢাকায় চীনা নাগরিকদের জড়িত থাকার অভিযোগে একটি অবৈধ আইফোন সংযোজন ও বিতরণ চক্রেরও সন্ধান পায় পুলিশ। কর্তৃপক্ষের দাবি, চোরাচালান করা যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে শুল্ক ও কর ফাঁকি দিয়ে ডিভাইস সংযোজন বা পরিবর্তন করা হতো।
অভিযানে ৩০০টির বেশি আইফোন এবং বিপুল পরিমাণ মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ জব্দ করা হয়। তদন্তকারীদের মতে, প্রায় দেড় বছর ধরে সক্রিয় এই চক্রটি অনানুষ্ঠানিক পথে স্থানীয় বাজারে ডিভাইস সরবরাহ করছিল।
বাংলাদেশে চীনা নাগরিকদের জড়িত থাকার অভিযোগে মানব পাচারের ঘটনাও সামনে এসেছে। ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে একাধিক ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এমন চীনা নাগরিকদের গ্রেপ্তার করেছে, যাদের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, বিদেশে চাকরি বা উন্নত জীবনের আশ্বাস দিয়ে বাংলাদেশি নারীদের চীনে পাচারের চেষ্টা করার অভিযোগ রয়েছে।
কিছু তদন্তে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সক্রিয় দালাল চক্রের অস্তিত্বের কথাও বলা হয়েছে। এক ঘটনায় এক তরুণী হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইটে ওঠার আগ মুহূর্তে পালিয়ে যান এবং পরে অভিযোগ করেন, তাকে জোরপূর্বক বিদেশে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলেন, বাংলাদেশে বসবাসরত চীনা নাগরিকদের বড় একটি অংশই বৈধভাবে নির্মাণ, উৎপাদন, প্রকৌশল, টেলিকমিউনিকেশন ও বাণিজ্য খাতে কাজ করছেন। তবে একই সঙ্গে তারা এটিও স্বীকার করেন, সম্প্রসারিত ডিজিটাল অবকাঠামো, তুলনামূলক কম খরচ এবং বিশাল মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর কারণে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক সাইবারক্রাইম চক্রগুলোর নজরে পড়ছে।
এই বৃহত্তর প্রেক্ষাপটেই উত্তরার টেকপাড়ায় চীনা নাগরিকদের নিয়মিত ভিডিও ধারণের ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ, অস্বস্তি ও উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে এখন পর্যন্ত ওই এলাকায় দেখা যাওয়া ভিডিও ধারণকারীদের সঙ্গে কোনো পূর্ববর্তী অপরাধমূলক ঘটনার সরাসরি কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি।
ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা জোনে কর্মরত সহকারী কমিশনার আরিফুল ইসলাম রনি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, 'এর আগে বিদেশি নাগরিকদের বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে, তবে ওই নির্দিষ্ট এলাকা সম্পর্কে আমাদের কাছে এখনো কোনো নির্দিষ্ট তথ্য নেই।' দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড থেকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি এটিকে 'সন্দেহজনক' বলে মন্তব্য করেন।
সব মিলিয়ে টেকপাড়ার রহস্য এখনো ঠিক রহস্যই রয়ে গেছে।
- 'কিউরিয়াসার অ্যান্ড কিউরিয়াসার' কথাটি লুইস ক্যারলের 'অ্যালিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড' উপন্যাস থেকে নেওয়া
ইংরেজি থেকে অনুবাদ: তাসবিবুল গনি নিলয়
