ইউনূস সরকারের আমলে ‘সুপারসনিক গতিতে’ আইন প্রণয়ন: এটি কি ক্ষমতার স্পষ্ট অপব্যবহার নয়?
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে 'সুপারসনিক গতিতে' আইন প্রণয়নের মাধ্যমে নতুন রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। প্রায় দুই দশক আগে ফখরুদ্দিন আহমেদ–এর নেতৃত্বাধীন জরুরি অবস্থার সরকারের রেকর্ডকেও এটি ছাড়িয়ে গেছে।
উভয় সরকারই পূর্ববর্তী সংসদগুলোর আইন প্রণয়নের গতির তুলনায় অনেক এগিয়ে ছিল। তবে দুই ক্ষেত্রেই অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে প্রণীত বহু আইন বিতর্কের জন্ম দেয়, যা ইতিবাচক উদ্যোগগুলোকেও অনেকাংশে ম্লান করেছে। ২০০৮ সালের ডিসেম্বর এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর গঠিত সংসদগুলোর ওপর উভয় অন্তর্বর্তী সরকারই মাত্র ৩০ দিনের মধ্যে এসব আইনের মেয়াদ নির্ধারণের বিশাল বোঝা চাপিয়ে দেয়।
আসুন রেকর্ডের খাতাটা একটু দেখে নিই।
১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের পতনের পর গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ধারায় অনুষ্ঠিত তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত আগের চারটি সংসদ বিল পাস করে বছরে গড়ে ৩৮টি আইন প্রণয়ন করেছিল।
পরবর্তীতে ফখরুদ্দিন আহমেদ–এর নেতৃত্বাধীন জরুরি সরকার—যা 'তিন উদ্দিনের' সরকার হিসেবেও পরিচিত [তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদ এবং সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদসহ]—সংসদগুলোর বার্ষিক আইন প্রণয়নের রেকর্ড ভেঙেছিল। ২০০৭-০৮ সময়ে অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে ১২২টি আইন প্রণয়ন করে তারা নতুন রেকর্ড গড়ে, যা বছরে গড়ে ৬১টি আইনের সমান।
তবে সদ্য বিদায়ী মুহাম্মদ ইউনূস–এর অন্তর্বর্তী সরকার এ রেকর্ডকেও অতিক্রম করেছে।
দেড় বছরের মেয়াদে অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকার ১৩৩টি আইন প্রণয়ন করেছে। অর্থাৎ, প্রতি বছর গড়ে ৮৮টি অধ্যাদেশ জারি হয়েছে, যা সংসদীয় আইন প্রণয়নের গড় হারের তুলনায় ১৩২ শতাংশ বেশি।
সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, সরকারের শেষ দিকে—বিশেষ করে শেষ দেড় মাসে—আইন প্রণয়নের গতি 'সুপারসনিক' মাত্রাকেও ছাড়িয়ে যায়। মাত্র ৪৭ দিনে ৩৬টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়। সাপ্তাহিক ছুটি বাদ দিলে প্রতিদিন গড়ে অন্তত একটি করে অধ্যাদেশ জারির নজির তৈরি হয়। ২০২৫ সালে মোট ৮০টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। অন্যদিকে, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট সরকার গঠনের পর প্রথম পাঁচ মাসে প্রণীত আইনের সংখ্যা ছিল মাত্র ১৯।
অধ্যাদেশের মাধ্যমে একদিকে নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে, অন্যদিকে বিদ্যমান বহু আইনে সংশোধনী আনা হয়েছে। এ বিষয়ে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা দাবি করেছেন, এটি 'জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনার মূলে থাকা প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের' অংশ ছিল।
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া বিদায়ী ভাষণে মুহাম্মদ ইউনূস তার সরকারের 'আইন প্রণয়নে সুপারসনিক গতির' কৃতিত্বের কথা উল্লেখ করেন।
সরকারি সংস্কার উদ্যোগের দিকটি তুলে ধরে ইউনূস বলেছেন, তার অন্তর্বর্তী প্রশাসন প্রায় ১৩০টি নতুন আইন ও সংশোধনী প্রণয়ন করেছে [যদিও আইন মন্ত্রণালয়ের নোটে এই সংখ্যা ১৩৩টি উল্লেখ করা হয়েছে]—এবং প্রায় ৬০০টি নির্বাহী আদেশ জারি করেছে। সরকারি বার্তা সংস্থা বাসসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব নির্বাহী আদেশের প্রায় ৮৪ শতাংশ ইতোমধ্যেই বাস্তবায়িত হয়েছে।
ইউনূস বলেন, 'এই সংস্কারগুলো নাগরিক অধিকার সুসংহত করেছে, বিচার বিভাগকে শক্তিশালী করেছে এবং গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সংস্কৃতি যাতে আর ফিরে না আসে তা নিশ্চিত করেছে।'
তবে তার সরকারের আইন প্রণয়নের রেকর্ড ততটা উজ্জ্বল নয় যতটা তিনি দাবি করেছেন, কারণ একাধিক অধ্যাদেশের বৈধতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এমনকি হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবার এবং এতে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি দিতে 'ইনডেমনিটি' বা দায়মুক্তি অধ্যাদেশ জারি করা হয়।
এটি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়, কারণ সংবিধানের প্রাধান্য ক্ষুণ্ন করে সংসদ নিজেও এমন আইন তৈরি করতে পারে না। তারপরও প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শে রাষ্ট্রপতি ওই অধ্যাদেশ জারি করেন বলে জানা যায়।
এখানে বাতিল হয়ে যাওয়া অন্তত তিনটি আলোচিত দায়মুক্তি আইনের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রক্তক্ষয়ী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণকারী খন্দকার মোশতাক আহমেদ হত্যাকাণ্ড ও সরকার উৎখাতে জড়িতদের দায়মুক্তি দিয়ে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেছিলেন। ১৯৯৬ সালের জুনের নির্বাচনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বিল পাসের মাধ্যমে সংসদ ওই অধ্যাদেশ বাতিল করে।
১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড ও সরকার পতনে অভিযুক্তদের একজন শাহরিয়ার রশিদ ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিলের আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। ১৯৯৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তার আবেদন খারিজ করে দেন এবং ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিলে সংসদের পদক্ষেপ বহাল রাখেন।
২০০৩ সালে 'অপারেশন ক্লিন হার্ট' নামে বিতর্কিত অপরাধ দমন অভিযানের সব কাজকে বৈধতা দেওয়া আরেকটি ইনডেমনিটি আইন সর্বোচ্চ আদালত বাতিল করে দেন।
২০২৪ সালের নভেম্বরে ইউনূস সরকারের সময় হাইকোর্ট বিদ্যুৎ ও জ্বালানি দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০-এর ৯ ধারায় দায়মুক্তির বিধানকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করে।
এরপর সরকার অপেক্ষা না করে দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে অধ্যাদেশের মাধ্যমে 'বিতর্কিত' এই আইনটি বাতিল করে, যা প্রণীত হওয়ার ১৪ বছর পর কার্যকর হয়।
কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র এক মাস আগে জানুয়ারিতে একই সরকার ইউ-টার্ন নিয়ে ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র ও জনগণকে আইনি সুরক্ষা ও দায়মুক্তি দিতে একটি ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে।
সংবিধানের পঞ্চম ও সপ্তম সংশোধনীতেও দুটি সামরিক শাসনামলের সব কাজকে বৈধতা দেওয়ার অনুরূপ ইনডেমনিটি বিধান ছিল। পরবর্তী সময়ে সুপ্রিম কোর্ট উভয় সংশোধনীই বাতিল করে দেন।
কারণটি ছিল সহজ। ইনডেমনিটি আইনগুলো ভুক্তভোগী ও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আদালতের দরজা কার্যত বন্ধ করে দেয়, যা আইনের শাসনের পরিপন্থী। আইনের শাসনের মৌলিক নীতি হলো, আইনের চোখে সবাই সমান।
মুহাম্মদ ইউনূস তার বিদায়ী ভাষণে দাবি করেছেন, তার সরকারের সেরা অর্জন হলো 'জুলাই সনদ'। তবে এর বাস্তবায়ন আদেশ নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি এমন আদেশ জারি করার এখতিয়ার রাখেন কি না তা নিয়ে আইন বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন তোলার পরও অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রপতির দ্বারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ সই করিয়ে নেয়।
গত নভেম্বরে খসড়া প্রকাশের পর থেকেই এই আদেশের বৈধতা নিয়ে বিতর্ক চলছে। খসড়ায় সংবিধানের ওপর প্রাধান্য দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যা নিয়ে সংবিধান বিশেষজ্ঞরা তীব্র আপত্তি জানান।
সংবিধান বিশেষজ্ঞরা এই আদেশের তীব্র বিরোধিতা করে বলেছেন, এখনো কার্যকর থাকা সংবিধান রাষ্ট্রপতিকে এমন আদেশ জারির অনুমতি দেয় না।
সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ না থাকলে জরুরি প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করে আইন করতে পারেন। তবে এই ক্ষমতার সীমা আছে; সংবিধানে এর ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। অধ্যাদেশ এমন কোনো বিধান করতে পারে না যা যা সংসদ আইন করে করতে পারে না এবং এটি সংবিধানের কোনো বিধান পরিবর্তন বা বাতিল করতে পারে না।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের বিরুদ্ধে সংবিধানের সর্বোচ্চতার নীতিকে অস্বীকার করার অভিযোগ উঠেছে। অথচ সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অধীনে সংসদ তার গণপরিষদীয় ক্ষমতা প্রয়োগ করেও সংবিধানের এই সর্বোচ্চতা পরিবর্তন করতে পারে না।
উদাহরণ হিসেবে ১৪২ অনুচ্ছেদের কথাই ধরা যাক। এ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদের মোট সদস্যসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন।
অথচ জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে প্রস্তাবিত সংস্কার পরিষদকে উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সাংবিধানিক সংস্কার গ্রহণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আদেশের এ বিধানটি ১৪২ অনুচ্ছেদের চেতনাকেই ক্ষুণ্ন করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের সাবেক অধ্যাপক ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ রিদওয়ানুল হক আইন প্রণয়নের এই 'সুপারসনিক গতি'কে 'অপব্যবহারমূলক সাংবিধানিকতা' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, 'অপব্যবহারমূলক সাংবিধানিকতা হলো ক্ষমতায় টিকে থাকা কিংবা সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের মতো কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ঢাকতে ঢাল হিসেবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা বা সাংবিধানিক কর্তৃত্ব ব্যবহার করা।'
তিনি বলেন, 'উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বিচারপতিদের অবসরের বয়সসীমা পরিবর্তনে বিএনপির করা চতুর্দশ সংশোধনী, ক্ষমতায় টিকে থাকতে আওয়ামী লীগের করা পঞ্চদশ সংশোধনী এবং আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাসীন থাকার সুবিধা দিতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ত্রয়োদশ সংশোধনী-সংক্রান্ত রায়।'
রিদওয়ানুল হক আরও বলেন, 'এই সরকার যে গ্রামীণ ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানের সুবিধার্থে বা অন্য কারণে এতগুলো অধ্যাদেশ জারি করেছে, সেটিও অপব্যবহারমূলক সাংবিধানিকতার একটি দৃষ্টান্ত।'
আইনের এই অধ্যাপকের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষেত্রে সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ প্রয়োগ হওয়া উচিত অত্যন্ত সীমিত পরিসরে। অর্থাৎ, অধ্যাদেশ ছাড়া সরকার পরিচালনা সম্ভব নয়—এমন পরিস্থিতিতেই কেবল এটি ব্যবহারযোগ্য। তিনি জানানা, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কারসংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলোই এমন বৈধ উদাহরণ।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, 'সুপারসনিক গতিতে আইন প্রণয়ন' মূলত 'অপব্যবহারমূলক সাংবিধানিকতা'র ইঞ্জিনে গতিবর্ধক হিসেবে কাজ করে।
উভয় কৌশলের লক্ষ্যই একটি দেশকে উদার গণতন্ত্র থেকে অনুদার বা কর্তৃত্বপরায়ণ—তবে আইনের আবরণে ঢাকা—শাসনব্যবস্থার দিকে ঠেলে দেওয়া।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন প্রধানমন্ত্রীর শপথ ও নতুন সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে সুপারসনিক গতির আইন প্রণয়নের এ অধ্যায় শেষ হয়। তবে এর ফলে নতুন সংসদের জন্য বিপুল কর্মভার থেকে গেছে।
নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১৩৩টি অধ্যাদেশই উপস্থাপন করতে হবে। এখন পর্যন্ত এসব অধ্যাদেশের নির্দিষ্ট কোনো মেয়াদ নেই। তবে প্রথম অধিবেশনে উত্থাপিত হওয়ার পর এগুলোর কার্যকারিতা থাকবে মাত্র ৩০ দিন। অধ্যাদেশের মাধ্যমে আগেই বাতিল করা না হলে, ৩০ দিন পূর্তির সঙ্গে সঙ্গেই সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে অকার্যকর হয়ে যাবে। সংসদ কোনো অধ্যাদেশ অনুসমর্থন করতে পারে না; তবে ৩০ দিনের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই প্রস্তাব পাসের মাধ্যমে যেকোনো অধ্যাদেশ বাতিল বা অননুমোদন করতে পারে।
ফলে অধ্যাদেশগুলোর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তায় ঝুলে আছে। আগামী ১২ মার্চ নতুন সংসদের অধিবেশন বসছে। মাত্র ৩০ দিনের মধ্যে অধ্যাদেশের বিধানসম্বলিত সমসংখ্যক বিল পাস করে ১৩৩টি আইন বহাল রাখা সংসদের জন্য নিঃসন্দেহে দুঃসাধ্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
তবে চলতি অর্থবছরের বাজেট পাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু অধ্যাদেশের বিষয়ে সংসদকে জরুরি পদক্ষেপ নিতেই হবে।
জরুরি প্রয়োজনের প্রেক্ষাপটে আইন মন্ত্রণালয় গত ১৯ ফেব্রুয়ারি একটি সার্কুলার জারি করে সব মন্ত্রণালয়কে অধ্যাদেশগুলো সংসদের আইনে রূপান্তরের লক্ষ্যে বিলের খসড়া প্রণয়নসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে অনুরোধ জানায়। প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে মন্ত্রিসভার বিবেচনার জন্য বিলের সারসংক্ষেপ প্রস্তুতের নির্দেশও দেওয়া হয়। নতুন সংসদ আইনগতভাবে সব অধ্যাদেশ বহাল রাখতে বাধ্য নয়; ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনি অঙ্গীকার ও নীতির আলোকে অনেক অধ্যাদেশই যাচাই-বাছাইয়ের মুখে পড়বে।
এ ছাড়া প্রথমবারের মতো নির্বাচিত এমপিদের প্রাধান্য থাকা নতুন সংসদকে ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি করা বিতর্কিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের বিষয়টিও সামাল দিতে হবে।
জরুরি অবস্থার সরকারের শাসনের অবসানের পর গতবার কী ঘটেছিল?
২০০৮ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর গঠিত তৎকালীন সংসদ ফখরুদ্দিনের নেতৃত্বাধীন জরুরি সরকারের কাছ থেকে ১২২টি অধ্যাদেশ পেয়েছিল।
বিল পাসের মাধ্যমে কোন অধ্যাদেশ বহাল রাখা প্রয়োজন, তা পর্যালোচনা ও বাছাই করতে জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতাদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। ধারাবাহিক বৈঠকের পর কমিটি ১২২টি অধ্যাদেশের অর্ধেকেরও কম সংখ্যক অধ্যাদেশকে পৃথক বিলের মাধ্যমে সংসদের আইনে পরিণত করার সুপারিশ করেছিল।
সাবেক প্রধান উপদেষ্টা জুলাই সনদকে 'তার সরকারের সেরা অর্জন' হিসেবে দাবি করলেও, এ বিতর্কিত ইস্যুর জেরে এবার নতুন সংসদের পথচলা মসৃণ নাও হতে পারে।
সবশেষে, কিন্তু কম গুরুত্বপূর্ণ নয়
ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার একাধিক চুক্তি নিয়ে বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে পড়ে। অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা এসব চুক্তির স্বচ্ছতা, আইনি এখতিয়ার ও সময়োপযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
অনির্বাচিত প্রশাসন হিসেবে ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে দীর্ঘমেয়াদি ও উচ্চমূল্যের আন্তর্জাতিক চুক্তি চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।
তবে সমালোচকদের অভিযোগ, তাদের মেয়াদে কার্যকর 'চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স'-এর ঘাটতি থাকায় অন্তর্বর্তী সরকার এসব সমালোচনায় খুব একটা কর্ণপাত করেনি এবং নিজস্ব গতিতেই এগিয়ে গেছে।
অনেকের কাছেই বিষয়টি 'ফ্রি হিট' উপভোগের মতো মনে হয়েছে। এখন সব চুক্তির পর্যালোচনা, সেগুলোর বৈধতা এবং বাংলাদেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব যাচাইয়ের দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
