সংবিধান আমাদের অস্তিত্ব, আবেগ এবং শহীদের রক্তের সঙ্গে জড়িত: মির্জা ফখরুল
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সংবিধান আমাদের অস্তিত্ব, আমাদের আবেগ এবং ১৯৭১ সালে লাখ লাখ শহীদের রক্তের সঙ্গে জড়িত। এজন্য সংবিধানকে ধরে রাখার চেষ্টা করেছি।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, 'সংবিধানের অনেকগুলো ধারা ও অধ্যায় বারবার পরিবর্তন করে একে একটা ছেঁড়া পাতায় পরিণত করা হয়েছে। তারপরও এটি আমাদের সংবিধান, যার জন্য আমরা যুদ্ধ করেছি।'
তিনি আরও বলেন, 'রাষ্ট্রপতি কোনো ব্যক্তি নন, তিনি একটি প্রতিষ্ঠান। ৫ আগস্টের পর এই রাষ্ট্রপতি না থাকলে রাষ্ট্রে চরম অরাজকতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি হতো, আমরা হয়তো জাতিকে রক্ষা করতে পারতাম কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে।'
বিএনপির মহাসচিব বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান পরিবর্তনের প্রতীক৷ তিনি সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। নারীর ক্ষমতায়ন ও কৃষির উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে। তিনি প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৮ ঘণ্টা কাজ করছেন, যা তার রক্তে আছে।'
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, 'বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলাম তার এক বইয়ে লিখেছেন, জিয়াউর রহমান না থাকলে বাংলাদেশ হয়তো ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হতো। শহীদ জিয়া তলাবিহীন ঝুড়ির অপবাদ ঘুচিয়ে কৃষিবিপ্লব ঘটিয়েছিলেন। বেগম খালেদা জিয়াও একইভাবে নারীশিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় বিপ্লব ঘটিয়েছেন, তিনি কখনো কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি। শহীদ জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তার সম্বল ছিল মাত্র একটি ছেঁড়া গেঞ্জি। বেগম জিয়াও ভাড়া বাসায় ছিলেন।'
মির্জা ফখরুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে একটি গল্প শুনিয়ে বলেন, '২০০২ সালে যখন চীনা প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে আসেন, আমি লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। আমার পাশেই ছিলেন আমানউল্লাহ আমান এবং আজকের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। বেগম জিয়া যখন চীনা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার ছেলের পরিচয় করিয়ে দিয়ে বললেন 'মাই সান তারেক'৷ তখন চীনা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দুই হাত শক্ত করে ধরে বলেছিলেন, 'ক্যারি দ্য ফ্ল্যাগ অব ইউর ফাদার অ্যান্ড মাদার'। আজ তিনি সেই স্বাধীনতার, সার্বভৌমত্বের এবং গণতন্ত্রের পতাকা সগৌরবে তুলে ধরেছেন।'
লন্ডনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও বিএনপির চেয়ারম্যানের বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, 'লন্ডনের ঐতিহাসিক বৈঠক নিয়ে যারা বিদ্রূপ করেন, আমি তাদের তীব্র নিন্দা জানাই। লন্ডনে আমাদের চেয়ারম্যান এবং তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার মধ্যে সেই বৈঠক হয়েছিল বলেই আজ আমরা এই পার্লামেন্টে বসতে পেরেছি। ওই বৈঠকেই নির্বাচন এবং প্রধান উপদেষ্টা ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি ঠিক হয়েছিল।'
