Skip to main content
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
The Business Standard বাংলা

রামমালা গ্রন্থাগার: কুমিল্লার বুকে দুষ্প্রাপ্য পুঁথি ও বইয়ের এক শতবর্ষী পাঠাগার

বর্তমানে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের কাছে বিশাল পরিসরে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে এই গ্রন্থাগারটি। এখানে সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ভূগোল, ধর্ম এবং দর্শন বিষয়ক ১২ হাজারেরও বেশি বই এবং প্রায় ৯ হাজার হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত রয়েছে।
রামমালা গ্রন্থাগার: কুমিল্লার বুকে দুষ্প্রাপ্য পুঁথি ও বইয়ের এক শতবর্ষী পাঠাগার

ফিচার

হাসান জামিলুর রহমান সৈকত
02 January, 2026, 09:55 pm
Last modified: 02 January, 2026, 09:56 pm

Related News

  • নির্বাচন নিয়ে সব আশঙ্কা ভুল প্রমাণ করা হবে: কুমিল্লায় খাদ্য উপদেষ্টা
  • ডিজিটাল যুগে কেন এখনো লাইব্রেরির গুরুত্ব আছে?
  • প্যারিসের ৪৭৫ বছরের পুরোনো বইয়ের বাজার; যেভাবে টিকে আছে ডিজিটাল যুগেও
  • দুই পরিবহনের দ্বন্দ্বে কুমিল্লায় বাস ধর্মঘট, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা
  • টাইগার্স বিটুইন এম্পায়ারস: রাশিয়ার আমুর বাঘ রক্ষার লড়াইয়ের এক মহাকাব্যিক গল্প

রামমালা গ্রন্থাগার: কুমিল্লার বুকে দুষ্প্রাপ্য পুঁথি ও বইয়ের এক শতবর্ষী পাঠাগার

বর্তমানে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের কাছে বিশাল পরিসরে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে এই গ্রন্থাগারটি। এখানে সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ভূগোল, ধর্ম এবং দর্শন বিষয়ক ১২ হাজারেরও বেশি বই এবং প্রায় ৯ হাজার হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত রয়েছে।
হাসান জামিলুর রহমান সৈকত
02 January, 2026, 09:55 pm
Last modified: 02 January, 2026, 09:56 pm

বিশ্বজুড়ে খ্যাতনামা গ্রন্থাগারগুলো মানব সভ্যতার বিবর্তনের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বাংলাদেশেও রয়েছে জ্ঞানের এমনই এক বিশাল ভাণ্ডার, যদিও অনেকের কাছেই এর নাম অজানা। এমনকি খোদ এই অঞ্চলেও অসংখ্য পণ্ডিত বা গবেষক হয়তো কখনোই এই জ্ঞানের ঝর্ণাধারা থেকে পিপাসা মেটাতে পা রাখেননি।

শতাধিক বছরের পুরনো এই রামমালা গ্রন্থাগারটি কুমিল্লা শহরে অবস্থিত। ১৯১২ সালে মহাপ্রাণ মহেশচন্দ্র ভট্টাচার্য তার নিজ বাসভবনের বৈঠকখানায় পবিত্র ধর্মগ্রন্থের একটি ছোট সংগ্রহ নিয়ে 'ঈশ্বর পাঠশালা টোল' নামে একটি সংস্কৃত বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কালের পরিক্রমায় সেই ক্ষুদ্র উদ্যোগই আজকের বিশাল রামমালা গ্রন্থাগারে রূপ নিয়েছে।

গ্রন্থাগারের শুরুর বছরগুলোতে পণ্ডিত গুরুচরণ তর্কদর্শনতীর্থ কলকাতা থেকে সংস্কৃত শাস্ত্র এবং পণ্ডিত অন্নদাচরণ তর্কচূড়ামণি কাশী থেকে দুষ্প্রাপ্য সব গ্রন্থ পাঠিয়ে এর সংগ্রহকে সমৃদ্ধ করেছিলেন।

বর্তমানে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের কাছে বিশাল পরিসরে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে এই গ্রন্থাগারটি। এখানে সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ভূগোল, ধর্ম এবং দর্শন বিষয়ক ১২ হাজারেরও বেশি বই এবং প্রায় ৯ হাজার হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত রয়েছে।

এছাড়াও গ্রন্থাগারটিতে সংরক্ষিত রয়েছে দুষ্প্রাপ্য সব বাংলা সাময়িকী। এর মধ্যে বঙ্গবাসী, হিতবাদী, সঞ্জীবনী, সাহিত্য পরিষদ পত্রিকা, প্রবাসী এবং শনিবারের চিঠি অন্যতম। এসবের অনেক সংখ্যাই বাংলাদেশের অন্য কোথাও পাওয়া দুষ্কর। সংস্কৃত 'আর্যপ্রভা'র পুরনো কপিগুলোও এখানে সযত্নে রক্ষিত আছে।

তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের ওপরও এই গ্রন্থাগারে রয়েছে এক অতুলনীয় সংগ্রহ। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, শিখ, জৈন, ইহুদি, জরথুস্ট্রিয়ান (পার্সি), মিশরীয়, ব্যাবিলনীয়, অ্যাসিরীয় এবং আরও অনেক প্রাচীন ও আধুনিক ধর্মের গ্রন্থ এখানে সংরক্ষিত রয়েছে।

তবে এখানকার ভারতীয় সংস্কৃতি বিষয়ক বিভাগটি সবচেয়ে সমৃদ্ধ। বেদান্ত শাস্ত্র থেকে শুরু করে পুরাণ, স্মৃতিশাস্ত্র, কাব্য, নাটক, ব্যাকরণ, দর্শন, জ্যোতির্বিজ্ঞান, আয়ুর্বেদীয় গ্রন্থ, অর্থনীতি বিষয়ক গ্রন্থ, পবিত্র ধর্মগ্রন্থের অনুবাদ এবং প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের পণ্ডিতদের  গবেষণামূলক মনোগ্রাফ— সব মিলিয়ে এর সংগ্রহ বিশাল।

বিভিন্ন বিভাগে ধর্ম, দর্শন, ইতিহাস, জীবনী, নীতিশাস্ত্র, পাঠ্যপুস্তক এবং হাতে লেখা বিরল সংস্কৃত ও বাংলা পাণ্ডুলিপির পাশাপাশি ভারতীয় সংস্কৃতিকে রূপ দেওয়া অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের প্রতিকৃতিও এখানে স্থান পেয়েছে।

রামমালা গ্রন্থাগার প্রকৃত অর্থেই শিক্ষার এক পবিত্র তীর্থস্থান। এখানকার দুষ্প্রাপ্য সংগ্রহের টানে অতীতে যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড এবং জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গবেষকরা এখানে গবেষণার জন্য ছুটে এসেছেন।

ছবি: মেহেদী হাসান

নেপথ্যের কারিগর

গ্রন্থাগারটির প্রতিষ্ঠাতা মহেশচন্দ্র ভট্টাচার্যের আদি নিবাস কুমিল্লার নবীনগর এলাকার বিটঘর গ্রামে। যদিও তিনি এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং নিজে খুব বেশি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষালাভের সুযোগ পাননি, তবুও বিটঘর গ্রামটি তার পাণ্ডিত্যের ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত ছিল।

জীবিকার সন্ধানে খুব অল্প বয়সেই মহেশচন্দ্র ঘর ছাড়েন এবং জীবনযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। নিজের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তনের দৃঢ় সংকল্প নিয়ে তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন এবং হাসিমুখে সকল কষ্ট বরণ করে নিয়েছেন। কিছু অর্থ সঞ্চয়ের পর তিনি 'ভট্টাচার্য অ্যান্ড কোং' নামে একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন এবং হোমিওপ্যাথিক ওষুধের ব্যবসা শুরু করেন।

এরপর থেকে তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। নিরলস প্রচেষ্টা এবং অটুট অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তিনি বিত্তশালী হয়ে ওঠেন এবং পরবর্তীতে একজন দানবীর হিসেবে সমাজে পরিচিতি লাভ করেন।

ধীরে ধীরে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণরূপে সমাজসেবায় নিয়োজিত করেন। নিজস্ব অর্থায়নে তিনি নিবেদিতা স্কুল ও গার্লস হোস্টেল, বিটঘর এডুকেশন সোসাইটি, ঈশ্বর পাঠশালা, রামমালা গ্রন্থাগার ও জাদুঘর এবং রামমালা ছাত্রাবাস প্রতিষ্ঠা করেন।

তার মাতামহ প্রাণকৃষ্ণ শিরোমণি ছিলেন একজন প্রখ্যাত পণ্ডিত; তার বাবা ঈশ্বরদাস তর্কসিদ্ধান্তও ছিলেন একজন প্রতিভাধর পণ্ডিত, যিনি দরিদ্রতা সত্ত্বেও ১০-১৫ জন ছাত্রকে বাড়িতে রেখে অন্ন ও বিদ্যাদান করতেন। মহেশচন্দ্রের মা রামমালা দেবী তাদের সকলের জন্য রান্নাবান্না করতেন। নিজে নিরক্ষর হলেও শিক্ষার প্রতি তার ছিল গভীর শ্রদ্ধা। মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েই মহেশচন্দ্র এই গ্রন্থাগারের নামকরণ করেন 'রামমালা গ্রন্থাগার'।

মহেশচন্দ্র কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এবং বর্তমানে 'মহেশ চ্যারিটেবল ট্রাস্ট' দ্বারা পরিচালিত এই গ্রন্থাগারটি শিক্ষা বিস্তার ও বাংলা সংস্কৃতি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়েছিল। বর্তমানে সাত সদস্যের একটি ট্রাস্টি বোর্ড গ্রন্থাগারটি পরিচালনা করছে।

ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য সচিব চন্দন দেবনাথ অত্যন্ত গর্বের সাথে বলেন, 'রামমালা কেবল কুমিল্লার নয়, পুরো দেশের গর্ব। এখানে সংরক্ষিত বিরল নিদর্শনগুলো অমূল্য। তবে, এগুলোর সঠিক সংরক্ষণ এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।'

চন্দন দেবনাথ আরও জানান, আগে গ্রন্থাগারটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকলেও এখন আর তা নেই। তিনি বলেন, 'এমন ঘটনাও ঘটেছে যে দর্শনার্থী সেজে এসে কেউ কেউ পাণ্ডুলিপি চুরি করে নিয়ে গেছে। আমরা দেখেছি দলবেঁধে মানুষ আসে, তখন প্রত্যেকের ওপর নজর রাখা সম্ভব হয় না। এভাবেই কিছু পাণ্ডুলিপি হারিয়ে গেছে। সেই থেকে আমরা সর্বসাধারণের প্রবেশাধিকার বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছি।'

অতীতে গ্রন্থাগারটি দেখাশোনার জন্য মহেশচন্দ্র চাঁদপুর থেকে রশমোহন চ্যাটার্জিকে কুমিল্লায় নিয়ে আসেন। শিক্ষানুরাগী ও অকৃতদার রশমোহন গ্রন্থাগারটিকে নিজের সন্তানের মতো আগলে রাখতেন। মহেশচন্দ্রের পৃষ্ঠপোষকতা এবং রশমনের উৎসর্গীকৃত মনাভাবের ফলে রামমালা একটি প্রকৃত গবেষণা কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল।

১৯৪৭ সালের দেশভাগ এবং ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়; দুবার এই গ্রন্থাগারটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে অনেক অমূল্য সম্পদ হারিয়ে যায়। ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে; অযত্ন ও অবহেলায় প্রাচীন পাণ্ডুলিপিগুলো ভাঙা জানলা ও ছিদ্রযুক্ত ছাদের নিচে অরক্ষিত অবস্থায় ধুলোবালি জমে নষ্ট হতে থাকে।

ইতিহাসের গুপ্তধন

গ্রন্থাগারটি প্রধানত তিনটি বড় বিভাগে বিভক্ত।

গবেষণা বিভাগ: এই বিভাগটি তিনটি অংশে বিভক্ত। প্রথমটি হলো 'ভারতীয় সংস্কৃতি'। প্রাচীন ভারত এক অনন্য সভ্যতার জন্ম দিয়েছিল, যার উজ্জ্বল উত্তরাধিকার তার বিশাল সাহিত্য ভাণ্ডার। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের পণ্ডিতরা হারিয়ে যাওয়া এই সভ্যতাকে অধ্যয়ন ও পুনর্গঠন করে চলেছেন। এই ঐতিহ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রচারের পাশাপাশি যুগ যুগ ধরে মহাপুরুষদের দ্বারা গড়ে ওঠা পবিত্র স্থানগুলোকে রক্ষা করার লক্ষ্যেই রামমালা গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

এরপর আসে ধর্মশাস্ত্র এবং ধ্রুপদী সাহিত্য। বেদ, পুরাণ, রামায়ণ, মহাভারত, ভাগবত, মনুস্মৃতি, শকুন্তলা, তান্ত্রিক সাহিত্য, কালিদাসের রচনাবলী, বৌদ্ধ ত্রিপিটক (হীনযান ও মহাযান), জৈন ধর্মগ্রন্থ, চরক সংহিতা ও সুশ্রুত সংহিতার মতো আয়ুর্বেদীয় ধ্রুপদী গ্রন্থ, জ্যোতির্বিজ্ঞান ও জ্যোতিষশাস্ত্রের মৌলিক গ্রন্থ, যুক্তিবিদ্যা, মীমাংসা, ধ্রুপদী ভারতীয় সাহিত্য, অর্থশাস্ত্র এবং নীতিশাস্ত্রের পাণ্ডুলিপি ও গ্রন্থাবলী এখানে রয়েছে।

এই বিভাগের শেষ অংশটি হলো 'তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব'। এর মধ্যে রয়েছে 'দ্য স্যাক্রেড বুকস অফ দ্য ইস্ট', 'দ্য এনসাইক্লোপিডিয়া অফ রিলিজিয়ন অ্যান্ড এথিক্স', 'দ্য সেয়িংস অফ কনফুসিয়াস', কনফুসীয়বাদ ও তাওবাদ, হাফিজের দিওয়ান, গিরিশচন্দ্র সেন অনূদিত বাংলা হাদিস শরিফ, 'দ্য এনসাইক্লোপিডিয়া অফ ইসলাম', শ্রী সনাতন গোস্বামী ও শ্রী রূপ গোস্বামীর দুষ্প্রাপ্য গৌড়ীয় বৈষ্ণব গ্রন্থ, চৈতন্য চরিতামৃত, গৌড়ীয় বৈষ্ণব দর্শন এবং গীতায় বিভিন্ন পণ্ডিতদের গবেষণামূলক কাজ।

এছাড়াও এই বিভাগে রবীন্দ্র রচনাবলী, অরবিন্দর রচনাবলী, শরৎ সাহিত্য, ইংরেজি নাটক, মহাকাব্য, কবিতা, গদ্য এবং ঐতিহাসিক গবেষণা গ্রন্থ যেমন এইচ.জি. ওয়েলসের 'দ্য আউটলাইন অফ হিস্ট্রি', 'পিপলস অফ অল নেশনস', 'দ্য হিস্টোরিয়ানস হিস্ট্রি অফ দ্য ওয়ার্ল্ড' এবং 'অশোক অ্যান্ড ইনস্ক্রিপশনস' সংরক্ষিত আছে।

সাধারণ বিভাগ: এখানে বাংলা ও ইংরেজিতে ধর্ম, দর্শন, নীতিশাস্ত্র, ইতিহাস, প্রবন্ধ, কবিতা, কথাসাহিত্য, নাটক, রামকৃষ্ণ ও বিবেকানন্দ বিষয়ক সাহিত্য, জীবনী, ভ্রমণকাহিনী, শিশুতোষ গল্প এবং বাংলা, ইংরেজি ও হিন্দি ভাষায় বিভিন্ন জার্নাল ও সাময়িকী রয়েছে।

পুঁথি বিভাগ: এই বিভাগে হাতে লেখা ৩০০ থেকে ৪০০ বছরের পুরনো সংস্কৃত ও বাংলা পাণ্ডুলিপির এক বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় দুই হাজার পুঁথি তালপাতায় লেখা। ত্রিপুরা (বর্তমান কুমিল্লা), নোয়াখালী এবং সিলেট অঞ্চল থেকে প্রায় আট হাজার পাণ্ডুলিপি ধীরে ধীরে সংগ্রহ করা হয়েছিল। ১৯৩৯ সালের একটি মুদ্রিত ক্যাটালগে ২৭ জন দাতার নাম উল্লেখ রয়েছে যারা এই পাণ্ডুলিপিগুলো দান করেছিলেন। বিষয়বস্তুর মধ্যে রয়েছে বেদ, তন্ত্র, অভিধানতত্ত্ব, কাব্য, ব্যাকরণ, জ্যোতির্বিজ্ঞান, ইতিহাস, পুরাণ, ধর্ম, রামায়ণ, মহাভারত, সত্যনারায়ণের পাঁচালি, সত্যপীর সাহিত্য ইত্যাদি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৫০০ পাণ্ডুলিপি মাইক্রোফিল্ম করেছে। দেশি-বিদেশি অনেক গবেষক এই বিরল কাজগুলো অধ্যয়ন করতে আসেন। সাবেক লাইব্রেরিয়ান পণ্ডিত রসময় চক্রবর্তী ১৯৪১ সালে 'সর্বোল্লাস সংস্কৃত তন্ত্র' সংকলন করে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছিলেন; সম্পাদিত গ্রন্থটি পরে 'উদ্বোধন' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

হাতে লেখা ৩০০ থেকে ৪০০ বছরের পুরনো সংস্কৃত ও বাংলা পাণ্ডুলিপি।

অনেকেই রামমালার পুঁথি বিভাগকে ভারতীয় উপমহাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রচারের এক শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করেন।

উদ্ধারের অপেক্ষায় এক জীবন্ত আর্কাইভ

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে অপরিসীম অবদান থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘকাল ধরে গ্রন্থাগারটি অবহেলিত হয়ে আসছে এবং অনেক অমূল্য গ্রন্থ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

তবে, এই ঐতিহ্যকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে সরকারের পক্ষ থেকে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি গ্রন্থাগারটি পরিদর্শন করে তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেন, 'রামমালা গ্রন্থাগার আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অমূল্য আধার। এর পাণ্ডুলিপি ও বইগুলো আমাদের জাতির ইতিহাস ও ঐতিহ্যের দলিল। অবিলম্বে এগুলোকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।'

তিনি আরও বলেন, 'গ্রন্থাগার সংলগ্ন ছোট জাদুঘরটিতে প্রাচীন মুদ্রা, নিদর্শন এবং ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক বস্তু রয়েছে, যার সবগুলোরই আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা প্রয়োজন।'

বাংলা একাডেমির উপ-পরিচালক সায়মন জাকারিয়া দীর্ঘদিন ধরে রামমালা গ্রন্থাগার নিয়ে কাজ করেছেন। তিনি বলেন, 'এটিকে ডিজিটালাইজ করার উদ্যোগ নেওয়া হলে তা ভালো হবে। তবে, পুঁথিগুলোকে রামমালা থেকে সরিয়ে অন্য কোথাও নিয়ে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা করা হলে আমি মনে করি না সেটা ঠিক হবে। এতে পাণ্ডুলিপিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।"

তিনি আরও বলেন, 'এর পরিবর্তে, রামমালার নিজস্ব পরিসরেই যদি এমন ব্যবস্থা করা যায় যাতে দেশ-বিদেশের গবেষকরা এখানে এসে কাজ করতে পারেন এবং প্রয়োজনে থাকতে পারেন, তবে অনেকেই আগ্রহী হবেন। তবে এতকিছুর পরেও, গবেষকদের জন্য এটি বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় একটি গ্রন্থাগার।'
 

Related Topics

টপ নিউজ

রামমালা গ্রন্থাগার / লাইব্রেরি / কুমিল্লা / গ্রন্থাগার / বই / প্রাচীন বই

Comments

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

MOST VIEWED

  • মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
    যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ৫৪ শতাংশ বাংলাদেশি পরিবার মার্কিন সরকারের সহায়তা নেয়: ট্রাম্প
  • ছবি: এএফপি
    যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টা করলে ন্যাটোর অস্তিত্ব থাকবে না: ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী
  • ওসমান হাদি। ছবি: সংগৃহীত
    রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় হাদিকে হত্যা, নির্দেশদাতা পল্লবীর সাবেক কাউন্সিলর বাপ্পী: ডিবি
  • মোস্তাফিজুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
    আইপিএল থেকে মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ‘ওপর মহলের’, জানতেন না বিসিসিআই সদস্যরাও: রিপোর্ট
  • ছবি: সংগৃহীত
    ‘ডনরো ডকট্রিন’: ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্পের আগ্রাসনের নেপথ্যে কি চীনকে হটানোর ব্লু-প্রিন্ট?
  • ছবি: টিবিএস
    অবৈধ ফোনে বছরে ‘রাজস্ব ক্ষতি ৬ হাজার কোটি টাকা’, এনইআইআর বাস্তবায়ন চান উৎপাদনকারীরা

Related News

  • নির্বাচন নিয়ে সব আশঙ্কা ভুল প্রমাণ করা হবে: কুমিল্লায় খাদ্য উপদেষ্টা
  • ডিজিটাল যুগে কেন এখনো লাইব্রেরির গুরুত্ব আছে?
  • প্যারিসের ৪৭৫ বছরের পুরোনো বইয়ের বাজার; যেভাবে টিকে আছে ডিজিটাল যুগেও
  • দুই পরিবহনের দ্বন্দ্বে কুমিল্লায় বাস ধর্মঘট, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা
  • টাইগার্স বিটুইন এম্পায়ারস: রাশিয়ার আমুর বাঘ রক্ষার লড়াইয়ের এক মহাকাব্যিক গল্প

Most Read

1
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ৫৪ শতাংশ বাংলাদেশি পরিবার মার্কিন সরকারের সহায়তা নেয়: ট্রাম্প

2
ছবি: এএফপি
আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টা করলে ন্যাটোর অস্তিত্ব থাকবে না: ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী

3
ওসমান হাদি। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ

রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় হাদিকে হত্যা, নির্দেশদাতা পল্লবীর সাবেক কাউন্সিলর বাপ্পী: ডিবি

4
মোস্তাফিজুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
খেলা

আইপিএল থেকে মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ‘ওপর মহলের’, জানতেন না বিসিসিআই সদস্যরাও: রিপোর্ট

5
ছবি: সংগৃহীত
মতামত

‘ডনরো ডকট্রিন’: ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্পের আগ্রাসনের নেপথ্যে কি চীনকে হটানোর ব্লু-প্রিন্ট?

6
ছবি: টিবিএস
বাংলাদেশ

অবৈধ ফোনে বছরে ‘রাজস্ব ক্ষতি ৬ হাজার কোটি টাকা’, এনইআইআর বাস্তবায়ন চান উৎপাদনকারীরা

The Business Standard
Top

Contact Us

The Business Standard

Main Office -4/A, Eskaton Garden, Dhaka- 1000

Phone: +8801847 416158 - 59

Send Opinion articles to - oped.tbs@gmail.com

For advertisement- sales@tbsnews.net

Copyright © 2022 THE BUSINESS STANDARD All rights reserved. Technical Partner: RSI Lab