বিটিএস তারকা জাংকুকের বাড়িতে ১৩৩ বার বেল বাজানো নারীকে বের করে দেয়া হতে পারে কোরিয়া থেকে
এক ব্রাজিলীয় নারীকে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি আদালত স্থগিত কারাদণ্ড দিলেও এখন তার দেশ থেকে বহিষ্কারের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বারবার বিটিএস তারকা জাংকুকের বাড়িতে গিয়ে অস্বাভাবিক আচরণ করেছেন; একবারেই ১৩৩ বার ডোরবেল বাজানোর মতো ঘটনাও ঘটিয়েছেন।
অভিযুক্ত নারীর নাম প্রকাশ করা হয়নি। তিনি প্রথমবার জাংকুকের প্রতি এই অনুসরণমূলক আচরণ শুরু করেন গত ডিসেম্বর মাসে। আদালত ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিনি জাংকুকের বাসার সামনে চিঠি ও ছবি রেখে আসার চেষ্টা করেন এবং এগুলোকে তিনি 'ভালোবাসা থেকেই' করেছেন বলে দাবি করেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলের একটি জেলা আদালত তাকে এক বছরের কারাদণ্ড দিলেও তা দুই বছরের জন্য স্থগিত রেখেছে। একই সঙ্গে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে সফল না হলে তাকে নিজ দেশে ফেরতন পাঠানো হতে পারে।
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, গত ৭ ডিসেম্বর ওই নারী প্রথম সিউলে জাংকুকের বাড়িতে যান। সেখানে তিনি বাড়ির চারপাশে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়ান, প্রাচীর টপকে ভেতরে জিনিসপত্র ছুড়ে মারেন এবং দরজার ফাঁক দিয়ে চিঠি গলিয়ে দেন।
এর মাত্র কয়েকদিন পর তিনি আবারও সেখানে যান এবং এক টানা ১৩৩ বার কলিংবেল বাজান। আদালত এই আচরণকে 'চরম মাত্রার পাগলামি' হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
১৩ ডিসেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেদিন তিনি একজন খাবার সরবরাহকারী কর্মীর পিছু নিয়ে পাশের গেট দিয়ে জাংকুকের বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। পরদিন তাঁকে আর ওই বাড়ির ধারেকাছে না যাওয়ার শর্তে ছেড়ে দেওয়া হয়, কিন্তু তিনি সেই সতর্কবার্তা অগ্রাহ্য করেন।
পরবর্তী কয়েক সপ্তাহও তার যাতায়াত অব্যাহত থাকে। এরপর পুলিশ জরুরি আদেশ জারি করে জাংকুকের বাড়ির ১০০ মিটারের মধ্যে তার প্রবেশ নিষিদ্ধ করে। এত কিছুর পরও তিনি দমে যাননি। ফেব্রুয়ারিতেও জাংকুকের বাড়িতে যাওয়া অব্যাহত রাখলে পুলিশ অবশেষে বিষয়টি প্রসিকিউটরদের কাছে পাঠায়। আদালতে জানানো হয় যে, তিনি সব মিলিয়ে অন্তত ২২ বার সেখানে গিয়েছেন।
রায় দেওয়ার সময় বিচারক বলেন, অপরাধ পুনরায় করার ঝুঁকি 'খুব একটা বেশি নয়'। এই বিষয়সহ আরও কিছু পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই দণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত বছরের জুনে জাংকুকের সামরিক সেবা শেষ করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সিউলে তার বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টার সময় ৩০ বছর বয়সী এক চীনা নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
