‘রঘু আঙ্কেল... আমার চাচু... আমি পরিবারেরই একটা অংশকে হারালাম’: নন্দিতা দাসের ফেসবুক থেকে নেওয়া
প্রখ্যাত আলোকচিত্রী রঘু রাইয়ের প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন ভারতীয় অভিনেত্রী নন্দিতা দাস।
গতকাল এক ফেসবুক পোস্টে রঘু রাইয়ের সঙ্গে ছবি পোস্ট করে লেখেন, 'আজ আমি আমার পরিবারেরই একটা অংশকে হারালাম।'
টিবিএস পাঠকদের জন্য নন্দিতা দাসের ফেসবুক পোস্টটির বাংলা অনুবাদ নিচে তুলে ধরা হলো:
'রঘু আঙ্কেল... আমার চাচু... আজ আমি আমার পরিবারেরই একটা অংশকে হারালাম।'
'বাবা আর ওনার বন্ধুত্ব সেই সময়ের, যখন আমার কোনো অস্তিত্বই ছিল না। দশকের পর দশক, শহর এবং অসংখ্য বাড়ি পেরিয়ে তাদের এই বন্ধুত্ব অটুট ছিল... কত কথা, হাসি, ভ্রমণ আর একসাথে খাওয়া-দাওয়ার স্মৃতিতে ঘেরা ছিল তাদের বন্ধুত্ব।'
'তাদের সম্পর্কটা ছিল একেবারেই আলাদা—গভীর এবং একে অপরের প্রতি প্রচণ্ড যত্নশীল। তারা দুজনেই আলাদা ব্যক্তিত্বের মানুষ ছিলেন, তবুও তাদের ঘনিষ্ঠতা ছিল এমন যা কেবল তারাই বুঝতেন। তারা ঝগড়া করতেন, একে অপরকে বকাঝকা করতেন, জেদ ধরতেন... কিন্তু এসবই ছিল কেবল অপরজনের জন্য কোনটা ভালো সেটা ভেবে।'
'আমার সাথেও ওনার নিজস্ব একটা টান ছিল। আমি ওনার কাছে নিশ্চিন্তে মনের কথা বলতে পারতাম, বাবার জেদ নিয়ে অভিযোগ করতে পারতাম। উনি প্রায়ই ফোন করে আমাকে বকা দিতেন কেন আমি বাবার জন্য দিল্লিতে ঠিকমতো আসি না। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে উনি অসুস্থ ছিলেন এবং কারোর সাথে দেখা করতে চাচ্ছিলেন না। তাই আমাকে বলেছিলেন পরেরবার দেখা করতে। আর আজ, আমি বিমানে বসে ওনার শেষকৃত্যে যাওয়ার জন্য এই লেখাটি লিখছি। আমি কল্পনাও করিনি যে ওনার সাথে আমার 'পরের বার' দেখাটা এভাবে হবে।'
'বাবাও বিমানে করে আসছেন। যখন ওনার সাথে কথা বললাম, মনে হলো খবরটা তখনো ওনার ভেতরে ঠিকমতো পৌঁছায়নি। সাম্প্রতিক সময়ে বাবা অনেক বন্ধুকে হারিয়েছেন। উনি বড্ড একা হয়ে পড়েছেন। কিন্তু ওনার প্রিয় 'রামাইয়া'কে হারানোটা হবে সবচেয়ে কঠিন। ওনাকে 'বুদ্ধু বাবা' বলে ডাকার মানুষটাকে উনি ভীষণ মিস করবেন। ছোটবেলা থেকে আজ পর্যন্ত অজস্র স্মৃতি ঢেউয়ের মতো আছড়ে পড়ছে মনে। যারা ওনার সাথে একবারও মিশেছেন, তারা ওনার উষ্ণতা, রসিকতা, প্রাণখোলা হাসি আর গলার আওয়াজ চিরকাল মনে রাখবেন। উনি আর নেই—এটা মেনে নেওয়া অসম্ভব মনে হচ্ছে। আমার শৈশব, আমার জীবন... আর বাবার জীবনের একটা অংশ আজ ওনার সাথেই চলে গেল।'
'অবনী, পূর্বাই, নিতিন, লগন, মিতা দিদি—এবং যারা ওনাকে ভালোবাসতেন, সবার কথাই ভাবছি। এই শোক সহ্য করার শক্তি আমাদের খুঁজে নিতে হবে, একই সাথে উদযাপন করতে হবে ওনার তোলা হাজার হাজার আলোকচিত্রকে—যার লেন্সের ভেতর দিয়ে আমরা গত ৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ইতিহাস, রাজনীতি আর মানুষকে দেখেছি।'
'আপনাকে ভীষণ মিস করব রঘু চাচু। ওপারে ভালো থাকবেন।'
'পুনশ্চ ১: কুমার গন্ধর্বের নির্গুণি ভজনটি ছিল ওনার রিংটোন... "উড় যায়েগা হংস একেলা..." (একলা রাজহাঁস একদিন উড়ে যাবেই...)'
'পুনশ্চ ২: শেষকৃত্যের পর এটি পোস্ট করছি। মনটা খুব ভারাক্রান্ত, তাই এখন আর ছবি যোগ করতে পারলাম না। পরে শেয়ার করব।'
