টেইলর সুইফটের বাগদানের আংটি: বড় হীরার প্রতি তারকাদের ঝোঁক বাড়ছে
পপ সুপারস্টার টেইলর সুইফট তার সঙ্গী আমেরিকান ফুটবল তারকা ট্র্যাভিস কেলসির সঙ্গে বাগদানের ঘোষণা দিয়েছেন। এ উপলক্ষে সুইফট ইনস্টাগ্রামে বেশ কিছু ছবি শেয়ার করেছেন, যার মধ্যে একটি ছিল আংটির ছবি। খবর বিবিসির।
পোস্টটির ক্যাপশনে তিনি মজার ছলে লিখেছেন: 'তোমাদের ইংরেজি শিক্ষক আর জিম শিক্ষক বিয়ে করতে যাচ্ছেন।'
তবে প্রতিটি ইংরেজি শিক্ষক যে ছয় বা সাত অঙ্কের দামে হীরার আংটি কিনতে পারবেন, তা নয়।
বাগদান ও দৃষ্টিনন্দন আংটিকে ঘিরে ভক্ত এবং কৌতূহলী অনেকে নিজেদের মতামত প্রকাশ করছেন।
খবরে বলা হয়েছে, গয়নার কারিগরের সহায়তায় কেলসি আংটিটি নিজেই ডিজাইন করেছেন। আংটির ভিনটেজ নকশা সুইফটের সদ্য ঘোষিত অ্যালবাম দ্য লাইফ অব আ শোগার্ল–এর নান্দনিকতার সঙ্গে মানানসই বলে মনে হচ্ছে।
রিটেইল জুয়েলার ম্যাগাজিনের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক রুথ ফকনার অনুমান করেছেন, আংটির দাম ৫ লাখ পাউন্ড থেকে শুরু করে ৪ মিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে।
তিনি বলেন, আংটির হীরাটি ৮ থেকে ১০ ক্যারেটের ভিনটেজ পাথর বলে মনে হচ্ছে, যা প্রাচীন সংগ্রহ হিসেবে 'অত্যন্ত বিরল'।
গয়না বিষয়ক সাংবাদিক র্যাচেল টেইলর বলেন, আংটির হীরায় যে তুলনামূলক নরম ঝিলিক দেখা যাচ্ছে, সেটি সম্ভবত হাতে কাটা হওয়ার কারণে; যন্ত্রে কাটা হীরার মতো নয়।
তিনি আরও বলেন, সুইফটের আংটি বর্তমানে ভিনটেজ ধাঁচের গহনাগুলোর সঙ্গে মিলে যায়—যেখানে আলাদা নকশা, বড় আকারের পাথর এবং বিশেষ কাট জনপ্রিয় হচ্ছে। এটি গায়িকার 'রোমান্টিক' নান্দনিকতার সঙ্গে মানানসই।
ফকনার যোগ করেন, 'যখনই কোনো তারকা বাগদান করেন, আর তাদের আংটি যদি আলাদা করে নজর কাড়ে, তখন তা নিয়ে মানুষের আগ্রহ বেড়েই যায়।'
ডায়মন্ড এক্সপার্ট–এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও রোনা ফিটজপ্যাট্রিক বিবিসি নিউজকে জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে তারকা—সবাই এখন বড় আকারের হীরা পছন্দ করছেন। তবে তারকারা নিজেদের আলাদা করে তুলতে অনন্য নকশার 'স্টেটমেন্ট' আংটি বেছে নিচ্ছেন।
এ বছর বিভিন্ন তারকার হাতে দেখা আংটিগুলোও সেই প্রবণতার সাক্ষ্য দিচ্ছে—যেমন মার্কিন অভিনেত্রী ও গায়িকা জেন্ডায়ার অস্বাভাবিকভাবে আড়াআড়ি বসানো হীরা কিংবা ডুয়া লিপার মোটা সোনার রিঙে বসানো গোলাকার হীরা। এগুলো বড় আকারের হলেও প্রচলিত ধাঁচের নয়।
এমনকি তারকারা যখন জনপ্রিয় ধারা অনুসরণ করেন—যেমন বড় আকারের ডিম্বাকৃতির হীরা—তখনও তারা তা এমন জাঁকজমকপূর্ণভাবে করেন, যা সহজে নকল করা কঠিন।
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গী জর্জিনা রদ্রিগেজ সম্প্রতি ফুটবলারের কাছ থেকে পাওয়া আংটির ছবি শেয়ার করার পরও তা খবরের শিরোনাম হয়।
রোনা ফিটজপ্যাট্রিক জানিয়েছেন, বিশাল ডিম্বাকৃতি হীরার এই আংটির দাম সর্বোচ্চ ৫০ লাখ ডলার (৩৭ লাখ পাউন্ড) পর্যন্ত হতে পারে। তিনি মজার ছলে আরও বলেন, 'এটা এমন কোনো আংটি নয়, যা পরে টেসকোতে কেনাকাটা করতে যাওয়া যায়।'
রদ্রিগেজের ঘোষণা সামনে আসার পর কিছু ব্রাইডাল জুয়েলারি সরবরাহকারী নিজেদের মতো করে আংটিটির নকশা বাজারে আনতে শুরু করেছেন।
ফিটজপ্যাট্রিক আরও বলেন, 'প্রতিদিন সাধারণ মানুষের পক্ষে এত দামী আংটি কেনা সম্ভব নয়।' তাই কিছু জুয়েলারি এখন তুলনামূলক সস্তা ল্যাব–গ্রোথ হীরা ব্যবহার করে বিভিন্ন নকশার বিকল্প বাজারজাত করছেন।
ফিটজপ্যাট্রিক জানান, এ বিকল্পটি দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৫২ শতাংশ বাগদানের আংটিতে ল্যাব–গ্রোথ হীরা ব্যবহৃত হচ্ছে।
কিছু ক্রেতা নৈতিক কারণেও ল্যাব–গ্রোথ হীরা বেছে নিচ্ছেন। তবে সাংবাদিক র্যাচেল টেইলর বলেছেন, বিষয়টি ততটা সহজ নয়।
তার মতে, ল্যাব–গ্রোথ হীরা সবসময় প্রাকৃতিক খনি থেকে পাওয়া হীরার তুলনায় টেকসই নয়, কারণ এটি উৎপাদনে বিপুল পরিমাণ শক্তি খরচ হয়।
তিনি আরও বলেন, কিছু সম্প্রদায় অর্থনৈতিকভাবে এই শিল্পের উপর নির্ভরশীল এবং এর মাধ্যমেই বেঁচে থাকে। যদিও হীরা খনিতে কর্মপরিবেশ নিয়ে নানা উদ্বেগ রয়েছে।
টেইলর বলেন, 'আপনি যদি এমন কোনো নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে কেনেন, যারা পরিবেশ সুরক্ষা করছে এবং সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের যত্ন নিচ্ছে, তাহলে শেষ পর্যন্ত আপনাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে—আপনার কাছে কোন বিষয়টি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।'
তিনি আরও বলেন, সুইফটের মতো প্রাচীন হীরাকে ঘিরে নৈতিকতাও জটিল।
র্যাচেল টেইলর বলেন, 'ভিনটেজ ধাঁচের গয়নাগুলো অনেক সময় নীতিগতভাবে ভালো পছন্দ হতে পারে, কিন্তু অনেক সময় এমন হতে পারে যে আপনি এর উৎস ও ইতিহাস আপনি জানবেন না।'
প্রাচীন হীরা কিনলে নতুন করে খনন করার দরকার হয় না, তবে এটিও সত্য যে 'কোন পরিস্থিতিতে তা খনন করা হয়েছিল, সে সম্পর্কে আপনার কোনো ধারণা থাকে না,' তিনি যোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, 'যদি আমরা ১০০ বছরেরও বেশি আগের সময়ের কথা বলি, তবে সেই পরিস্থিতি খুব একটা সুখকর ছিল না বলেই ধরে নিতে হয়।'
রুথ ফকনার জানিয়েছেন, ক্রেতারা এখন ক্রমেই ভিনটেজ গয়না পুনঃব্যবহার করে আরও ব্যক্তিগত বা কাস্টমাইজড নকশা তৈরি করতে আগ্রহী হচ্ছেন।
তার মতে, অনেক দম্পতি এমন গয়না পছন্দ করেন যার পেছনে কোনো গল্প থাকে—যেমন পরিবারের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া গয়না।
সুইফটের আংটির পেছনে এমন কোনো ইতিহাস আছে কি না তা জানা যায়নি। তবে তিনি যে আংটি নিয়ে খুশি, তা স্পষ্ট। আর তার গানের কথায় বিচার করলে, এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়ও।
নিজের পেপার রিংস গানে সুইফট গেয়েছেন: 'ঝকঝকে জিনিস আমার ভালো লাগে, তবে কাগজের আংটি দিলেও আমি তোমাকে বিয়ে করব।'
