জমজমের পানি দিতে দেরি: ৪ জামায়াত এমপির অভিযোগের পর বিমানের ২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
মদিনা থেকে আসা ওমরাহযাত্রীদের ট্যাগযুক্ত লাগেজ ও জমজমের পানি পেতে তিন ঘণ্টার মতো অপেক্ষা করিয়ে রাখার ঘটনায় দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফেরা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চারজন সংসদ সদস্য এ বিষয়ে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ৯টা ১০ মিনিটে মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ৩৩৮ ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
বিমানটিতে ৩৪ জন সংসদ সদস্যসহ আরও ওমরাহযাত্রী ছিলেন। জামায়াতের সংসদ সদস্যরা হলেন—শেরপুর-১ আসনের এমপি মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, ঢাকা-৫ আসনের এমপি মোহাম্মদ কামাল হোসেন, গাজীপুর-৪ আসনের এমপি সালাহউদ্দিন এবং খুলনা-২ আসনের এমপি জাহাঙ্গীর হোসেন।
লিখিত অভিযোগে তারা জানান, বিমানবন্দরে নামার পর প্রায় তিন ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও বেশিরভাগ যাত্রী তাদের ট্যাগযুক্ত লাগেজ ও জমজমের পানি পাননি। এই দীর্ঘ বিলম্বের কোনো যুক্তিসঙ্গত বা সন্তোষজনক ব্যাখ্যাও কর্তৃপক্ষ দিতে পারেনি।
বিমানের এমডির কাছে জমা দেওয়া লিখিত অভিযোগে চার এমপি উল্লেখ করেন, 'আমরা নিম্নস্বাক্ষরকারীগণ এবং বিজি ৩৩৮ (মদিনা-ঢাকা) ফ্লাইটে ঢাকায় আসা অন্যান্য যাত্রীরা তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পরও আমাদের ট্যাগযুক্ত লাগেজ এবং জমজমের পানি পাইনি।' যাত্রী ভোগান্তির এই ঘটনার পেছনের কারণ উল্লেখ করে আগামী চার দিনের মধ্যে বিমানের এমডির কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চেয়েছেন তারা।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পানি ও ট্রলি পেতে দেরি হওয়ায় বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের সঙ্গে উত্তেজিত হয়ে কথা বলছেন জামায়াতে যোগ দেয়া সাবেক এমপি অবসরপ্রাপ্ত মেজর আক্তারুজ্জামান। তার উচ্চবাচ্যের মধ্যে শান্ত থেকে তাকে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ।
অভিযোগ পাওয়ার পরপরই বিষয়টি তদন্ত করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ, অতিরিক্ত দায়িত্ব) মহিউদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কনটেইনার অফলোডিং সংক্রান্ত জটিলতা এবং দায়িত্বগত অবহেলার কারণেই বেল্টে জমজমের পানি পৌঁছাতে দেরি হয়েছিল।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, প্রাথমিক তদন্তে অনিয়ম ও অবহেলার প্রমাণ মেলায় ব্যাগেজ ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম প্রধান এবং ফ্লাইট সুপারভাইজার সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
এদিকে ওমরাহযাত্রীদের আকস্মিক ভোগান্তি কমাতে ঘটনাটি নজরে আসার পরপরই নিজস্ব সংরক্ষিত (রিজার্ভ) স্টক থেকে তাৎক্ষণিকভাবে জমজমের পানি বিতরণের ব্যবস্থা করে বিমান। পরবর্তীতে অন্য কনটেইনারটি শনাক্ত করে বাকি সব যাত্রীর কাছেও ব্যাগেজ ও জমজমের পানি পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করা হয়।
ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে অভ্যন্তরীণ নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে জানিয়ে বিমান কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা যাত্রীদের নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত সেবা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
