আরও ১১ উড়োজাহাজ কিনতে বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি সই বিমানের
আরও ১১টি উড়োজাহাজ কিনতে বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি সই করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে (নিউইয়র্ক সময় বুধবার বিকেলে) এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।
বোয়িংয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বহর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশে এয়ারলাইন্স ১১টি ৭৮৭ ড্রিমলাইনার ও ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজের ক্রয়াদেশ দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে পৃথক আরেক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিমান জানিয়েছে, আগে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার ক্রয়াদেশের ধারাবাহিকতায় আরও ১১টি উড়োজাহাজ কিনতে বোয়িংয়ের সঙ্গে একটি সম্পূরক চুক্তি সই করেছে সংস্থাটি।
নতুন এই ক্রয়াদেশে পাঁচটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার ও ছয়টি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ রয়েছে। এর আগে চলতি বছরের শুরুর দিকে ৩৭০ কোটি ডলারে বোয়িংয়ের ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে বিমান, যা সংস্থাটির ইতিহাসে উড়োজাহাজ কেনার সবচেয়ে বড় ক্রয়াদেশ।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেন এবং বোয়িংয়ের কমার্শিয়াল সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড ম্যাকমুলেন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সরকারের প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক এবং দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ।
জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমানের ভবিষ্যৎ বহরে উড়োজাহাজ সরবরাহ নিয়ে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা বোয়িং ও ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের চলমান প্রতিযোগিতার মধ্যে সর্বশেষ এই চুক্তি বিমানের বহর সম্প্রসারণ কর্মসূচিতে বড় পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
এর আগে ৩০ এপ্রিল ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সই হয়। এর মধ্যে ছিল আটটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ এবং চারটি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ।
সর্বশেষ চুক্তির ফলে বোয়িংয়ের কাছ থেকে বিমানের পরিকল্পিত উড়োজাহাজ কেনার সংখ্যা বেড়ে ২৫টিতে দাঁড়িয়েছে।
পাশাপাশি এয়ারবাসের কাছ থেকে পৃথকভাবে আরও ১০টি উড়োজাহাজ কেনার প্রস্তাব নিয়েও এগোচ্ছে বিমান। এর মধ্যে রয়েছে চারটি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইডবডি এবং ছয়টি এ৩২১নিও ন্যারোবডি উড়োজাহাজ।
এই দুই ক্রয় পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থাটির পরিকল্পিত উড়োজাহাজ কেনার সংখ্যা দাঁড়াবে ৩৫টিতে—বোয়িং থেকে ২৫টি এবং এয়ারবাস থেকে ১০টি। বর্তমানে বিমানের বহরে রয়েছে ১৯টি উড়োজাহাজ।
বিমানের বহর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ—উভয়ের সঙ্গে বিমান চলাচল ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখার উদ্যোগের মধ্যে বোয়িং ও এয়ারবাসের এই প্রতিযোগিতা বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।
এপ্রিলে দেওয়া বোয়িংয়ের ক্রয়াদেশটি ছিল বিমানের ইতিহাসে উড়োজাহাজ কেনার সবচেয়ে বড় ক্রয়াদেশ। এর আওতায় বিমান প্রথমবারের মতো ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার ও ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজ পাবে। এসব উড়োজাহাজ ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে সরবরাহের কথা রয়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেন বলেন, "আজকের সম্পূরক চুক্তিটি বিমানের চলমান বহর নবায়ন ও নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই ক্রয়াদেশ আমাদের বহর পরিকল্পনার সুনির্দিষ্ট চাহিদার প্রতিফলন। বছরের পর বছর বোয়িংয়ের সঙ্গে আমাদের কাজের সম্পর্ক উড়োজাহাজ সরবরাহ ও সহায়তা ব্যবস্থার বিষয়ে আমাদের আস্থা তৈরি করেছে।"
তিনি আরও বলেন, "জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশের জনগণ, প্রবাসী বাংলাদেশি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাতের যোগাযোগের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে বিমানের নেটওয়ার্ক ও সক্ষমতা বাড়াতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আগামী বছরগুলোতে দেশের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করার জন্য সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করে নেওয়া বৃহত্তর পরিকল্পনার একটি অংশ এই চুক্তি।"
বিমান বর্তমানে আন্তর্জাতিক রুটে বোয়িং ৭৮৭, ৭৭৭ ও ৭৩৭ নেক্সট-জেনারেশন উড়োজাহাজ পরিচালনা করছে। এসব উড়োজাহাজের মাধ্যমে বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ইউরোপের প্রধান বিমান চলাচল কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।
বোয়িংয়ের তথ্যমতে, ৭৮৭ ড্রিমলাইনার ও ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজ আগের মডেলগুলোর তুলনায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বেশি জ্বালানিসাশ্রয়ী। এতে বিমানের বহর আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ হবে।
বোয়িংয়ের কমার্শিয়াল সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড ম্যাকমুলেন বলেন, "বিমানের পরবর্তী এই ক্রয়াদেশ বহর নবায়ন ও সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে তাদের কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন এবং একই সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বের দৃঢ়তাও তুলে ধরে।"
তিনি বলেন, "অতিরিক্ত এই ৭৮৭ ড্রিমলাইনার ও ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজগুলো বৈশ্বিক বিমান চলাচলে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা এগিয়ে নিতে বিমানের প্রয়োজনীয় দক্ষতা, বহুমুখিতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করবে।"
বোয়িং জানিয়েছে, ৭৩৭-৮ ও ৭৮৭-১০ উড়োজাহাজ যুক্ত হলে বিমানের বিদ্যমান বোয়িং বহর আরও শক্তিশালী হবে এবং পরিচালনগত সামঞ্জস্য নিশ্চিত হবে।
৭৩৭-৮ উড়োজাহাজটি বিমানের সিঙ্গেল-আইল নেটওয়ার্কে আরও বেশি দূরত্বে চলাচলের সক্ষমতা দেবে। অন্যদিকে, ৭৮৭-১০ উড়োজাহাজটি বেশি যাত্রী পরিবহন সক্ষমতার মাধ্যমে বিমানের বিদ্যমান ৭৮৭-৯ ও ৭৮৭-৮ উড়োজাহাজের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।
