নেতা-কর্মীর গায়ে হাত উঠলে থানার ইট খুলে নেওয়ার হুমকি নারায়ণগঞ্জের এনসিপি নেতার
'আমি জোবায়ের সরদার। নারায়ণগঞ্জ জেলা এনসিপির আহ্বায়ক। যদি আমার একটা নেতা-কর্মীর গায়ে হাত তোলে, আমি লাশের বদলে লাশ নেব। আমার একটা নেতা-কর্মীর ওপর যদি হাত তোলে আর একবার, আমি থানার ইট খুলে নিয়ে যাব।'
গত সোমবার রাতে এভাবেই নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিতে দেখা গেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা এনসিপির আহ্বায়ক জোবায়ের সরদারকে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল থেকে সেই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
ভিডিওতে দেখা যায়, ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলমের কক্ষের সামনে বক্তব্য দিচ্ছেন তিনি।
গত সোমবার সদর উপজেলার বক্তাবলীতে জেলা এনসিপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলাম তৌহিদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের করতে থানায় আসেন দলটির নেতা-কর্মীরা। সেখানে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে জোবায়ের সরদার এই বক্তব্য দেন।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ফতুল্লা মডেল থানার ওসির কার্যালয়ের সামনে জেলা এনসিপির আহ্বায়ক জোবায়ের সরদারসহ এনসিপির ৩০ ৪০ নেতা-কর্মী অবস্থান করছেন।
জোবায়েরের বক্তব্যের সময় উত্তেজিত নেতা-কর্মীদের নানান স্লোগান দিতেও শোনা যায়।
এ বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলা এনসিপির আহ্বায়ক জোবায়ের সরদার বলেন, 'সোমবার বিকেলে আমাদের লোকজনের ওপর হামলা করে বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। এর মধ্যে একজন নেতার মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার পর বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী থানার সামনে জড়ো হয়েছিলেন।'
তিনি বলেন, 'পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছিল না। তখন নেতা-কর্মীদের শান্ত করার জন্য আমি বলেছি, নেতা-কর্মীর গায়ে হাত উঠলে লাশের বদলে লাশ পড়বে। আবার আমাদের নেতা-কর্মীদের গায়ে হাত উঠলে, পুলিশ ব্যবস্থা না নিলে থানার ইট খুলে নেওয়া হবে।'
জোবায়ের সরদার বলেন, 'এরপর অনেকটা পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে।'
তিনি আরও বলেন, 'সেই হামলার ঘটনায় পুলিশ মামলা গ্রহণ করেছে। মামলায় মোট ১৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এখনও কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। এই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।'
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেন, 'তার ওই বক্তব্যের বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।'
