মিরপুরে রাড্ডা ক্লিনিক ভাঙচুর-লুট: তদন্তে মিলেছে পুলিশের গাফিলতির প্রমাণ
রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে বেসরকারি এনজিও পরিচালিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় দায়িত্ব পালনে পুলিশের গাফিলতির প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার।
তিনি জানান, আজ রবিবার তদন্ত প্রতিবেদন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তদন্তে ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা পুলিশের সদস্যদের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় কারা সরাসরি জড়িত ছিল, তদন্তে তাদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে।
ইতোমধ্যে অন্তত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং লুট হওয়া মালামালও উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট কোন কোন নেতা জড়িত, এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
মিরপুরের ডিসি হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার টিবিএসকে বলেন, 'ঘটনার সঙ্গে যাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে, তাদের ভূমিকা আরও যাচাই করা হচ্ছে। অনুসন্ধান শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'একইভাবে হামলা ও লুটপাটে যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের মামলায় আসামি করা হবে।'
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে দায়িত্বে থাকা পুলিশের সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেননি। এমনকি পুলিশের উপস্থিতির মধ্যেই লুটপাট চলার তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে। এ ঘটনায় দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৫ সেপ্টেম্বর এ ঘটনার পরপরই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় দারুস সালাম জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনারের নেতৃত্বে গঠিত ৩ সদস্যের কমিটিকে শনিবারের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
এরই মধ্যে শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ২৬ সেপ্টেম্বর ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদের সই করা অফিস আদেশে তাকে ডিএমপি সদর দপ্তরের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। আদেশে প্রত্যাহারের কারণ হিসেবে 'প্রশাসনিক কারণ' উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্তের পাশাপাশি অভিযান চালায় পুলিশ। এ পর্যন্ত অন্তত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে লুট হওয়া মালামালও উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়টি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট করা হয়নি।
তদন্তকারীরা বলছেন, কারো রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বরং ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাড্ডা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, হামলাকারীরা স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির বিভিন্ন কক্ষ ভাঙচুর করে মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও মালামাল নিয়ে যায়। পরে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়।
এছাড়া আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, কম্পিউটার, প্রিন্টার, ফ্রিজ, এসি, ওষুধ ও টিকাদান সামগ্রীসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম লুটেরও অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার শাহ আলী থানায় মামলা করেন। মামলায় স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।
